ঢাকা, সোমবার , ২৫ জুন ২০১৮, | ১১ আষাঢ় ১৪২৫ | ১০ শাওয়াল ১৪৩৯

কবি রফিক আজাদও মুক্তিযোদ্ধা নন! বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

আর এক দিন পর ১৭ নভেম্বর হুজুর মওলানা ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। মনে হয় প্রতিবারের মতো এবারও অনাদরেই যাবে। কারণ আমরা অতীতবিমুখ। গুরুজনকে মনে করা আমরা ভুলতে বসেছি তাই এমন অবস্থা। ১৩ তারিখ মহামান্য রাষ্ট্রপতি গিয়েছিলেন টাঙ্গাইলে। রাষ্ট্রপতি আমাদের খুবই কাছের এবং খুবই প্রিয় মানুষ। তাই তার জন্য আমাদের কোনো কষ্ট নয়, বরং আনন্দ হওয়ার কথা। কিন্তু রাস্তাঘাটে এমন কড়াকড়ি, চলাচল বন্ধ এ যেন অন্য গ্রহের কেউ সেখানে গিয়েছিলেন বলে মনে হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সেদিনের কয়েক ঘণ্টা সফরে বিড়ম্বনার শেষ ছিল না। যেখানে তার টাঙ্গাইল সফরের আনন্দে বহুদিন বিভোর থাকার কথা, সেখানে মানুষজন এত দূরে রাখা হয়েছিল যা কল্পনা করা যায় না। মহামান্য রাষ্ট্রপতি হয়তো জানেনও না তার নিরাপত্তার কথা বলে যা করা হয়েছে তাতে মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সন্তোষের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি গেছেন বেলা ২টায়। ১১টা থেকে শহরের সব রাস্তাঘাট, যানবাহন বন্ধ। তার হেলিকপ্টার নামার এক ঘণ্টা আগেই শতবর্ষের পুরনো শহর সুনসান হয়ে গিয়েছিল, কোনো যানবাহন ছিল না। যেহেতু আমি সেদিন টাঙ্গাইলে ছিলাম তাই বলতে পারি এমন নীরবতা ৩ এপ্রিল হানাদাররা টাঙ্গাইল ঢোকার দিনের মতো ছিল। ব্যতিক্রম শুধু সেদিন উৎকণ্ঠা ছিল, মরণের ভয় ছিল, রাষ্ট্রপতির সফরের দিন তেমনটা ছিল না। আমার প্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল বলছিল, স্যার! এ তো দেখছি অঘোষিত হরতাল। আসলে হরতালের চেয়ে বেশি। বাচ্চা পেটে পোয়াতিকেও সড়ক পার হতে দেয়নি। জেএসসি পরীক্ষার্থীদের সে যে কী কষ্ট কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। আর দেশে রাজনীতি না থাকায় পুলিশের মুখ যে কতটা খারাপ হয়েছে বলার মতো নয়। পথচারীদের তারা যে কী অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেছে তা টাঙ্গাইলের মানুষ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সফরের আগে কোনো দিন শোনেনি। সময় থাকতে এসব ব্যাপারে সাবধান হওয়া দরকার। জনতার সরকার। এত জনবিচ্ছিন্ন কেন? মফস্বল সফরে এমন করলে সাধারণ মানুষ চাইবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাতে তাদের এলাকা সফর না করেন। জনাব মিন্টু হক রফিক আজাদের ওপর ‘কাশবনে’ একটি বিশেষ সংখ্যা ছাপাবেন, তাই তাকে নিয়ে লেখা তৈরি করতে গিয়ে দেখলাম রফিক আজাদ কাদেরিয়া বাহিনীর প্রকৃত যোদ্ধা হলেও সরকারি তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন। তার কোনো সার্টিফিকেট নেই। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা এবং মর্যাদা নেই। একসময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ২ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দাবি করেছিলাম; যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আমার বিরোধ হয়। সরকার আমার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বরং গালাগাল করেছিল। পরে অবশ্য বিএনপি ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, মুসলিম লীগ ঘরানার এক লোককে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করে মন্ত্রণালয়টির প্রচণ্ড ক্ষতি করেছে। প্রথমেই প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়টি গড়ে তোলার চেষ্টা করে মন্ত্রণালয়টির গুরুত্ব নষ্ট করে দেওয়া হয়। এরপর আসে আওয়ামী লীগ। তারা একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা আ ক ম মোজাম্মেল হককে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়। সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং হচ্ছেও। আজ থেকে ১৯-২০ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা চেয়েছিলাম। সেদিন গালাগাল করলেও সরকার এখন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দিচ্ছে। যদিও আমি যখন ২ হাজার টাকা চেয়েছিলাম সেই অনুপাতে এখন ৪০-৫০ হাজার দিলেও সমান হবে না। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ সৃষ্টি করেছেন তাদের একটু সম্মান করলে জাতির তেমন কী ক্ষতি? কিন্তু দু-তিন বার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এবং একবার একটা প্রত্যয়নপত্রের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে গিয়ে দেখলাম মন্ত্রণালয় এবং কল্যাণ ট্রাস্টের কোথাও মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কোনো সম্মান করে না। মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দরজা খোলা থাকলেও অন্যসব দরজা বন্ধ। সিঁড়ির নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারী যেই সামনে পড়ে সেই ভাবে সব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। একজন আইনবিদের ছেলে হিসেবে সব সময় শুনে এসেছি ১০ জন অপরাধী মুক্তি পাক কিন্তু একজন নিরপরাধী যেন শাস্তি না পায়। হয়তো দু-এক জন মুক্তিযুদ্ধে সঠিকভাবে অংশ নেয়নি। কোনোভাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে কিন্তু তার জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছিত-অপমানিত হবে? সবাইকে বলা হবে ভুয়া! আমার নামে কত দলিল-দস্তাবেজ, কত ছবি থাকার পরও আমাকে বলা হয়েছে রাজাকার। সে হিসেবে আমিও তো ভুয়া। কী বলব, কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণের কথা। এর আগে একজন এমডি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। খারাপ মানুষ না এলে ভালো মানুষের পার্থক্য বোঝা যায় না। একজন ভালো এমডি গেছেন বলে এখন বিপরীতধর্মী আরেকজন এসেছেন। আওয়ামী লীগ করি না বলে একেবারে পচে গেছি তেমন নয়। অনেক মন্ত্রীর সঙ্গে এখনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়। কারও কারও অফিস-আদালতে গেলে তারা অসামান্য সম্মান দেখান। সেটা জনাব ওবায়দুল কাদের কিংবা সৈয়দ আশরাফ অথবা ড. রাজ্জাক কিংবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা পুতুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। জনাব মোশাররফ হোসেন জমিদার পরিবারের সন্তান। – See more at: http://www.bd-pratidin.com/editorial/2016/11/15/184851#sthash.pyGua1QH.dpuf