ঢাকা, শনিবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ | ২ মুহাররম ১৪৩৯

কিছু সংবাদপত্র ও ‘বিশিষ্ট’ ব্যক্তিকে দুষলেন আবুল হোসেন

Abul Hossen

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের জন্য বাংলাদেশের কিছু সংবাদপত্র ও ‘বিশিষ্ট’ ব্যক্তিকে দুষছেন ওই ঘটনায় মন্ত্রিত্ব হারানো সৈয়দ আবুল হোসেন।
পদ্মা সেতু ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল মন্তব্য করে এরজন্য বিশ্ব ব্যাংকের তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি গোল্ড স্টেইনকেও দুষছেন তিনি।

এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কানাডার আদালতেও নাকচ হয়ে যাওয়ার পর শনিবার এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ পেতে কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিন বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্র করেছিল অভিযোগ করে অর্থ আটকায় বিশ্ব ব্যাংক। পরে তাদের শর্তে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল, যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছিলেন আবুল হোসেন।

তার পরেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন করেনি বিশ্ব ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির সে সময়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট জেলিক দায়িত্ব ছাড়ার আগে আগে ওই চুক্তি বাতিল করেছিলেন।

তবে এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খারিজ করে কানাডার আদালত বলেছে, এই মামলায় কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি। প্রমাণ হিসেবে যেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো ‘অনুমানভিত্তিক, গাল-গল্প ও গুজবের বেশি কিছু নয়’।

২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে বিশ্ব ব‌্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই অনুষ্ঠানের ছবি। পদ্মা সেতুতে ঋণ বাতিল করে যাওয়া বিশ্ব ব্যাংকের ওই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চীনে এক অনুষ্ঠানে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিবৃতিতে আবুল হোসেন বলেন, “তিনি তখন আমাকে বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, পদ্মা সেতু ও আপনি ষড়যন্ত্রের শিকার। বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও বিশিষ্ট কতিপয় লোকের কথায় প্রভাবিত হয়েছেন। এজন্য আমি অনুতপ্ত।’”

বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত পূরণের জন্য বাংলাদেশে এ ঘটনায় দুদক মামলা করলে তাদের তদন্তে সহযোগিতার জন্য লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিলেন ঢাকায়।

বিশ্ব ব্যাংকের তৎকালীন আইন উপদেষ্টা ওকাম্পোর ওই ভূমিকা ‘ষড়যন্ত্রের ইতিহাসে কালো অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণে মিথ্যা অভিযোগে আমাকে, আমার পরিবারকে হেনস্তা হতে হয়েছে। সরকারের সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে বিনা দোষে জেল খাটতে হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বার্থে আমাকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছে। আমাকে জনগণের কাছে ছোট হতে হয়েছে। কানাডায় আমার জামাতার ব্যাংক হিসাব চেক করা হয়েছে। ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজনসহ আমার সব ব্যাংক একাউন্ট তদন্ত করা হয়েছে।

“যে সব মিডিয়ার মিথ্যা রিপোর্ট, অতিশয় বাড়াবাড়ি লেখা, কার্টুন প্রকাশ, সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লেখায় প্রভাবিত হয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আমাকে অভিযুক্ত করা হলো, আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলো, তাদের আজকের জবাব কী?

“পদত্যাগের পরও পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করে বিশ্ব ব্যাংক প্রমাণ করেছে তারা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কাজ করেছে।”

আবুল হোসেন বলেন, “আমি জীবনে সৎ থেকে, ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করেছি, জনগণের জন্য ব্যয় করেছি।

“যারা সত্য ও আলোর পথ অনুসরণ না করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, যে সব পত্রিকা মিথ্যা রিপোর্ট করেছে, বিশ্ব ব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগে সহায়তা দিয়েছে, আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে, যারা পদ্মা সেতু নির্মাণকে বিলম্বিত করেছে-তাদের আল্লাহ যেন সত্যের পথ দেখান-এ প্রত্যাশা রইল।”