ঢাকা, শনিবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ | ২ মুহাররম ১৪৩৯

কী হয় কী হয় | মুস্তাফা জামান আব্বাসী

mustafa-zaman-abbasi

২৬ সেপ্টেম্বর দুই বক্তা কী বলবেন এবং ফলশ্রুতিতে মার্কিন ভোটাররা কার বাক্সে শেষমেশ ভোটটি ফেলবেন তার সঙ্গে বিশ্ববাসীর সম্পর্ক এবার অনেক গভীরতর। মার্কিন জনগণ এবার দুটি আদর্শের দিকে ধাবমান, যার একটি পাশ্চাত্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের নবমূল্যায়ন আর অপরটি রাশিয়া এবং চীন কোন দিকে যাবে তার ওপর।

কথা হলো পরপর তিনবার ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ভোট দেওয়ার বিরোধী যারা, তাদের সঙ্গে। তখনও ইলেকশনের বেশ দেরি আছে। তারা বললেন, নতুন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে যতখানি পাগল দেখানো হয় তার চেয়ে তিনি অধিক পাগল। কারণ তিনি আমেরিকার স্বার্থ সংরক্ষণে সবার স্বার্থকে পিছু হটিয়ে দিতে অনেকখানি পথ হেঁটে যেতে চান। যদিও শেষ পর্যন্ত তার পদক্ষেপগুলো হয়তো মার্কিন স্বার্থের বিপক্ষেই যাবে। নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনে গিয়ে [NATO] তাদের খবরদারি করার কী প্রয়োজন? দক্ষিণ কোরিয়াতেই-বা তাদের এত লগি্ন করার প্রয়োজনটি কোথায়? চীন মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরে আধিপত্যের আর প্রয়োজন কী? অভিবাসীরা আমেরিকাকে যেমন গড়ে তুলেছেন কথাটি যেমন সত্যি, তেমনি এটাও সত্যি যে আমেরিকাময় তাদের অস্তিত্বই দিনে দিনে বিভাসিত। এবারে ওবামা কিউবার সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প চাচ্ছেন মেক্সিকোর সঙ্গে নতুন চীনের প্রাচীর গড়ে তুলতে। যাতে ওরা এ দেশে পঙ্গপালের মতো প্রবেশ করতে না পারে। সমুদ্রে সমুদ্রে টহল দিয়ে আর প্রাচীর গড়ে এই অভিবাসন ঠেকানো যাবে কি? ডোনাল্ড বলছেন, যাবে এবং যেতেই হবে। মুসলমানদের পরিচয় গত এক দশকে তাদের কাছে স্পষ্টতর হয়েছে। তাদেরকে আর আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়া যাবে না। অভিবাসীদের চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সেগুলোতেও নতুন কড়াকড়ি আরোপণ করা হতে পারে। যদিও মার্কিনরা এত দিন এ নিয়ে তেমন হৈচৈ করেনি। কিন্তু ট্রাম্পের ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে অনেক প্রার্থীকে কুপোকাত করে আজকের বক্তৃতা মঞ্চে এসে দাঁড়ানো প্রমাণ করে যে, আমেরিকানরা যেন মাত্র ঘুম থেকে উঠল।

নানা স্টেটে ওদের সঙ্গে মিশেছি। ওরা রাজনীতিতে তেমন মাথা ঘামায় না। কিন্তু এবার মনে হলো ওদের মাথায় কেউ ঢুকিয়ে দিল স্পষ্ট করে যে, যদি বাঁচতে চাও তা হলে অভিবাসী ও মুসলমানদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। এটা ওদের মাথায় আগে কেউ ঢুকিয়ে দেয়নি। এবার ঢুকানো হলো। এর ফল সুদূরপ্রসারী। ধরা যাক ট্রাম্প পরাজিত হলেন; কিন্তু তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিটি বেশ ভালোসংখ্যক আমেরিকানদের মনে স্থায়ীভাবে রেখাপাত করে গেল।

প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারি ক্লিনটন অনেক চমক সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন। যেখানে তার দুর্বলতা ছিল সেগুলো কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তিনি পূর্ণভাবে অর্জন করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, আমেরিকা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে মান্য একটি দেশ। যার ইমেজের সঙ্গে হিলারিই একমাত্র মানিয়ে নিতে পারবেন, অপরজন নন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে, বক্তৃতাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে। ট্রাম্প এবং তার ছেলে জুনিয়র ট্রাম্প মাঝে মধ্যে বক্তৃতায় এমনভাবে শ্রোতৃসাধারণকে যেমনভাবে আকৃষ্ট করে রেখেছিলেন, তেমনটি আর কেউ পারেনি। মাথা খারাপের দেশ যদি আমেরিকা হয়ে থাকে, যারা পৃথিবীর ৫২টি দেশে বোমা নিয়ে ছুটে গেছে, তা হলে তাদের প্রয়োজন বড় বুশ ও ছোট বুশের চেয়েও আরও আক্রমণাত্মক প্রেসিডেন্ট। হয়তো হিলারিও এমন অনেক কিছু সিদ্ধান্ত নেবেন, যেগুলো তার নেওয়ার কথা ছিল না। সেগুলো হবে আসলে ট্রাম্পের ট্রাম্প।

মোড়লিতে এগিয়ে যারা তাদের ভারে এমনিতেই বিপর্যস্ত আমরা। আরও ‘কী হয় কী হয়’ তা নিয়ে শঙ্কিত এ দেশের জনগণ। পৃথিবীর এপার-ওপারের নানা সংকটেও যে ‘ব্যালেন্স’ এতদিন রক্ষিত ছিল তা বুঝি এবার ওলটপালট হয়ে যায়। সবই আমেরিকার স্বপক্ষে যাবে, এমন কথা বলা যাবে না। আমার মনে হয়েছে_ ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও সিরিয়ায় অনভিপ্রেত যুদ্ধে যে লাখ লাখ মানুষ জীবন বলিদান করেছে, তার মূল কারিগর অমনি অমনি ছাড়া পেয়ে যাবে, তা মনে হয় না। সেখানেও ঘটবে অনেক বিপর্যয়।

——————
সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
mabbasi@dhaka.net