ঢাকা, বুধবার , ১৮ জুলাই ২০১৮, | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ | ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯

গাজীপুরে খুলনা মেয়র, খুলনা মডেল কাজে আসবে কি?

আজ রাত পেরোলেই কাল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। খুলনা সিটি নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেকের প্রধান সমন্বয়কারী এস এম কামাল হোসেন সম্প্রতি গাজীপুর ঘুরে গেছেন। গতকাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সদ্য নির্বাচিত মেয়র তালুকদার খালেক। সেখানে তিনি খুলনা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছেন। ভোটের দিন ও তার আগে নির্বাচনী করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন। এ পরামর্শ কি কাজে লাগবে গাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীল আলমের।

নাকি খুলনা নির্বাচনী শিক্ষা কাজে লাগিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনবে বিএপির হাসানউদ্দিন সরকার। নাকি শেষ তিন দিনে ওঠা শারীরিক কর্মক্ষমতার ঘাটতির প্রশ্নে পিছিয়ে পড়বেন হাসানউদ্দিন সরকার সেটি এখন দেখার বিষয়। এছাড়া আহসান উদ্দি মাস্টার হত্যায় আপন ছোট ভাইয়ের জড়িত থাকার প্রসঙ্গটি ভোটের বাক্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সেটিও বোঝা যাবে নির্বাচন শেষে।

গাজীপুরে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নেতা বলেছেন, নির্বাচন পেছানোর কারণে সরকারি দল বেশ লাভবান হয়েছে। জনসমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে গেছে তারা। তারপরও তাদের শঙ্কা কাটেনি। স্থানীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতাদের। নেতারা নানা বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। যেসব জায়গায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব আছে সেগুলো মিটমাট করে দেওয়া হচ্ছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচন ঘোষণার পরপরই দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানককে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার প্রত্যেকটি থানা এলাকায় এক একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁরা প্রতিদিনই স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী প্রচার করছেন, তদারক করছেন।

কয়েক দিন আগে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ৪২৫ টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য ৪২৫টি কমিটি করেছে যুবলীগ। গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেলের নেতৃত্বে গঠিত এসব কমিটি প্রতিদিনই নির্বাচনী প্রচার করছে কেন্দ্রভিত্তিক। ভোটের দিনও এ কমিটি এসব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। এ কমিটির তত্ত্বাবধান করছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

এর বাইরে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলাদা কমিটি হচ্ছে ভোটের দিন দায়িত্ব পালনের জন্য।

গাজীপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে খুলনার মেয়র আবদুল খালেক

এদিকে  খুলনা সিটি নির্বাচনের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে গাজীপুরে বিজয় ছিনিয়ে আনতে চায় বিএনপি। এজন্য পরিকল্পনা সাজিয়েছে দলটি। বিএনপির নীতি নির্ধারকেরা বলছেন, খুলনায় ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে কর্মীশূন্য থাকাটাই তাদের বড় ভুল। এ ছাড়া সেখানে কেন্দ্র এজেন্ট উপস্থিতিও নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। কর্মীস্বল্পতা আর এজেন্টদের অনুপস্থিতির কারণে খুলনায় ভোট কেন্দ্রে সরকারি দল ‘কারচুপি’ করতে পেরেছে।

এসব বিষয় মাথায় রেখে বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে মাঠে থাকার। ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র পাহারা, ভোটের দিনে নেতা-কর্মীদের উপস্থিত রাখা, ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ভোটের দিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি বুথেই এজেন্ট উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় তারা। একই সঙ্গে মামলা নেই এমন নেতা-কর্মীদের পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকাল সকালেও সকালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার আবারও তাঁর নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এজেন্টদের আটকে রাখার চক্রান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় আটকে রেখে তাঁদের কোনো কিছু করতে দেওয়া হবে না। তাঁদের নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ৫০ জন নেতা কর্মীকে মামলা দিয়ে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। আজ নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে ওই সব মামলায় নেতা কর্মীদের অনেকের হাজিরার দিন ধার্য করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে, যাতে নেতা কর্মীরা তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পারেন।

তবে গাজীপুর ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের মতে প্রথম আলোকে বলেন, খুলনা আর গাজীপুরের পরিবেশ এক না। এটা অনেক বড় সিটি করপোরেশন। এক প্রান্তে কিছু ঘটলে খবর পেলে যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটে যেতে পারে।

খুলনার নির্বাচনে প্রকাশ্যে তেমন বড় ধরনের কোনো সমস্যাই দেখা যায়নি। দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। সরকারি দলের নির্বাচনী কৌশলের কাছে হার মানতে হয়েছে বিএনপিকে। তবে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল তাঁর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার। মাঠে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। খোদ সরকারি দলের তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘ভোটের দিন তাঁদের কর্মীরা ব্যাজ পরা ছিলেন। কিন্তু তিনি সারা দিন বিএনপির প্রতীকের ব্যাজধারী কাউকে কোনো কেন্দ্রে দেখেননি। তাঁর ভাষ্য, কোথাও কোনো ভোটারকে বাধা দেওয়া হয়নি। সবাই নীরবে ভোট দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘বাধা দিলে তাঁরা (বিএনপি) এত ভোট কীভাবে পেল?’

 


%d bloggers like this: