ঢাকা, বুধবার , ১৮ জুলাই ২০১৮, | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ | ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯

চিরবিদায় রানী সরকার

গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায় নিয়েছেন প্রবীণ গুণী অভিনেত্রী রানী সরকার। দুই দফা জানাজা শেষে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

দুপুর আড়াইটার দিকে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা শেষে লাশবাহী গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হয় এফডিসির উদ্দেশ্যে। দুপুর সোয়া ২টার দিকে রানী সরকারের মৃতদেহ বহন করা গাড়িটি প্রবেশ করে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। রাজনীতি, অভিনয় এবং সংগীত জগতের অনেককেই এ সময় দেখা গেছে।

জানাজা শুরুর আগে রানী সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে কথা বলেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। তিনি বলেন, রানী সরকারকে সেই ছোটবেলা থেকেই এক নামে চিনি। অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন শিল্পী ছিলেন তিনি। পরকালে তিনি যেনো শান্তিতে থাকেন এই প্রার্থনা করি।

দুপুর আড়াইটার দিকে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে রানী সরকারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীর, বাচসাসের সভাপতি আব্দুর রহমান, বর্তমান সরকারের সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন, বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি ও অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু, নির্মাতা শাহ আলম কিরণসহ বিভিন্ন অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

 

এ সময় রানী সরকারের বর্ণিল কর্ম জীবন কিছুটা স্মরণ করে বাচসাস সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, ১৯৫৮ সালে চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে অভিনয়ে পা রাখেন রানী সরকার। প্রায় দীর্ঘ ষাট বছর তিনি অভিনয় জগতেই ছিলেন। প্রথমে তিনি ছিলেন একজন নৃত্যশিল্পী, এরপর বেতার এবং পরবর্তীতে থিয়েটারে কাজ করে বড় পর্দায় অভিষেক হয় রানী সরকারের। ২০১৪ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।

রানী সরকারের আসল নাম  মোসাম্মৎ আমিরুন নেসা খানম। ১৯৫৮ সালে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তার অভিনয়ে পথচলা শুরু। একই বছর পা রাখেন বড় পর্দায়। সিনেমার নাম ‘দূর হ্যায় সুখ কা গাঁও’। একে একে অভিনয় করেছেন আড়াই শতাধিক সিনেমায়। ষাটের দশকে বাংলা চলচিত্রের অন্যতম সফল অভিনেত্রী রানী সরকারের জন্ম সাতক্ষীরা জেলার সোনাতলা গ্রামে।  সে সময়ে উর্দু সিনেমার বেশ প্রসার থাকলেও বাংলা সিনেমার গোড়াপত্তন আসলে তখনি। ‘দূর হ্যায় সুখ কা গাঁও’, ‘চান্দা’, ‘তালাশ’র মতো জনপ্রিয় উর্দু সিনেমায় কাজ করার পাশাপাশি রানী সরকার সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সিনেমাকে। ‘কাচের দেয়াল’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘চোখের জল’, ‘নাচের পুতুল’ তার অভিনীত জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা। মোহাম্মাদপুরস্থ শেখেরটেক এলাকায় তার ভাইয়ের বউ ও ভাইয়ের দুই মেয়েসহ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন তিনি।

ভোর ৪ টার দিকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।  বাতজ্বর ও পিত্তথলিতে পাথরসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় কয়েক বছর ধরেই ভুগছিলেন রানী সরকার। বাধ্যর্কজনিত কারণে এ সমস্যাগুলো বেশি  দেখা দিয়েছিল।

কালারস/ শ্রাবণ সাব্বির/ সু. আ

 


%d bloggers like this: