ঢাকা, রবিবার , ১৯ আগস্ট ২০১৮, | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ | ৭ জিলহজ্জ ১৪৩৯

জরিমানার ৩০ শতাংশ পাবে ট্রাফিক পুলিশ

ট্রাফিক প্রসিকউশনের মাধ্যমে আদায় হওয়া জরিমানার ৩০ শতাংশ ট্রাফিকে কর্মরতদের বরাদ্দের সুপারিশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানায়, চার হাজারেরও বেশি সদস্য নিয়মিত সড়কে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আগে দুই শিফট থাকলেও সড়কে ব্যস্ততা বাড়ায় তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। প্রতি শিফটে নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার কথা বলা হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে ১৪-১৬ ঘণ্টাও রাস্তায় থাকতে হচ্ছে তাদের।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল কমিটি ফর ইন্টেলিজেন্স কো-অর্ডিনেশনের (এনসিআইসি) সভায় ট্রাফিক পুলিশদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। সে সময় ট্রাফিক প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদায় হওয়া মোট জরিমানার একটি অংশ প্রতি মাসে বিভাগীয় সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এই বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অন্য কোনও আর্থিক খাত হতে অর্থ সংগ্রের প্রয়োজন পড়বে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্দেশিত ট্রাফিক বিভাগের প্রসিকিউশনের মাধ্যমে প্রতিমাসের আদায় করা জরিমানার ৩০ শতাংশ এই বিভাগে কর্মরত সদস্যদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

এদিকে, অনুমোদন না হলেও মাঠপর্যায়ে ট্রাফিক সদস্যরা এরইমধ্যে বিষয়টি জেনেছেন। এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন তারা। এক ট্রাফিক সদস্য বলেন, চাকরি যেহেতু করছি সেহেতু যে কোন পরিস্থিতিতেই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। কষ্ট এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এমন উদ্যোগ অবশ্যই আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আজ২৪কে বলেন, বাস্তবতার আলোকে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনা মাথায় রেখে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে।

দায়িত্ব পালনের সময় প্রসিকিউশনের মাধ্যমে যানবাহন থেকে জরিমানা আদায় করছেন। সেই জরিমানা থেকে প্রাপ্ত অর্থ যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরতদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ঢাকার রাস্তায় তীব্র দূষণের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। সার্বিক বিষয়টি মাথায় রেখে আদায় হওয়া জরিমানার ৩০ শতাংশ এ বিভাগে কর্মরতদের বরাদ্দের সুপারিশ করেছে ডিএমপি।

ডিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বের ব্যস্ততম শহরগুলোর অন্যতম রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্য। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এ মহানগরীতে আয়তনের তুলনায় রাস্তাঘাট অপ্রতুল। ফলে যানজট এখানকার একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণাধীন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলো থেকে নিঃসৃত ধুলাবালি এবং যানবাহন ও কল-কারখানা সৃষ্ট বায়ু ও শব্দ দূষণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া একজন ট্রাফিক পুলিশকে ঝড়, বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও তার দায়িত্ব পালন করে যেতে হচ্ছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, ঢাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ট্রাফিক সদস্যদের প্রত্যেক পালায় (শিফটে) নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার ডিউটি শেষেও অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে। আগে ট্রাফিক সদস্যদের দুই পালায় ডিউটি করতে হলেও বর্তমানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের তিন পালায় ডিউটি করতে হচ্ছে। দিন-রাত তীব্র শব্দ ও সার্বক্ষণিক মানসিক চাপের মধ্যে কাজ করার কারণে এ বিভাগের সদস্যদের অনেকেই মানসিক বৈকল্য, বধিরতা, ক্যান্সার, যক্ষ্মা, অপুষ্টিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ বিভাগের সদস্যদের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা বাবদ ব্যয় পরিশোধ করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও পারিবারিক প্রয়োজন মেটানো অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।

 


%d bloggers like this: