ঢাকা, রবিবার , ১৯ আগস্ট ২০১৮, | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ | ৭ জিলহজ্জ ১৪৩৯

ট্রাফিক সপ্তাহ বাড়ল তিনদিন, মামলা সাড়ে ৫২ হাজার

দেশজুড়ে চলমান ট্রাফিক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার মামলা হয়েছে বলে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়ে ট্রাফিক সপ্তাহ আরো তিন দিন বাড়ছে।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ৫ আগস্ট শুরু হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহের কারণে আমরা অনেক ইতিবাচক ফলাফল পেতে শুরু করেছি। ট্রাফিক আইন প্রয়োগের কারণে সড়কে শৃঙ্খলায় অগ্রগতি হয়েছে। শৃঙ্খলা আরও টেকসই করতে এ অভিযান চলমান রাখা দরকার বলে মনে করছি। এ অভিযান বেগবান করতে ট্রাফিক সপ্তাহ আরও তিনদিন (১২-১৪ আগস্ট) বর্ধিত করার ঘোষণা করছি। ট্রাফিক সমস্যা রাজধানীর অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ৪ হাজারেরও বেশি ট্রাফিক সদস্য দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। রাস্তার অপ্রতুলতা, খোড়াখুঁড়ি, রাস্তার পাশেই শপিং সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা এবং আইন না মানার প্রবনতার কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অনেক কষ্টসাধ্য এবং চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। এতো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা একটি বার্তা দিতে পেরেছি যে, কোন ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান পেশা নির্বিশেষে আইন লঙ্ঘরকারী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাদের বার্তা অন্তরে ধারন করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার স্বার্থে বিষয়টি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাফিক সপ্তাহের গত ৬ দিনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিএমপিতে আইন অমান্য করার অভিযোগে ৫২ হাজার ৪১৭ টি মামলা করা হয়েছে। ১১ হাজার ৪০৫ জন চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ফিটনেস না থাকায় ৫ হাজার ৫৭২টি যানবাহন ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৩ কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অনেক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইন প্রয়োগ করা হলেও এটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এখন থেকে এ বিষয়ে আইন প্রয়োগ আরো জোরদার করার কথাও জানান তিনি। গত ২ বছরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ৪৪ হাজার ৫৮৫ টি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিকন লাইট ব্যবহারের দায়ে ৫ হাজার গাড়ির বিরুদ্ধে, উল্টোপথে চলাচলের দায়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬১ টি গাড়ির বিরুদ্ধে, স্টীকার ব্যবহারের দায়ে ১ হাজার ৪৭টি, কালো গ্লাস ব্যবহারের দায়ে ৬ হাজার ১৬২টি গাড়ি এবং ৪ লাখ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ১০ হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল ডাম্পিং করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার জানান, ইতোমধ্যে ৯৯ হাজারেরও বেশি গাড়ির বিরুদ্ধে ভিডিও মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ভিডিও মামলার সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানান তিনি। কমিশনার বলেন,  ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল রোধ করতে ডিএমপি নিজস্ব অর্থায়নে ৪ হাজার ৭৭টি মেটালিক বার স্থাপন করেছে। ট্রাফিক সচেতনতায় ৩ হাজার ৬৩৯টি বৈঠক করেছি। ঢাকাবাসীকে আইন মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই আইন না মানলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। আসুন আমরা সবাই আইন মানি এবং অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করি। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হলে এখন থেকে আমরা বিভিন্নভাবে ধরনের আইন প্রয়োগে বাধ্য হব।

কমিশনার বলেন, বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের সকল মামলায় ইলেক্ট্রনিক প্রসিডিউর মেনটেইন করা হয়। তাই এ ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনের সুযোগ নেই। তারপরেও উর্দ্ধতনরা বিষয়টি খেয়াল রাখছেন। রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কিন্তু বিভিন্ন অযুহাতে কাউকে রাস্তা অবরোধ করতে দেওয়া হবে না। রাস্তা অবরোধ কোন প্রতিবাদের ভাষা হতে পারেনা। যে কোন বিষয়ে রাস্তা অবরোধ করার মানষিকতা পরিহার করে আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াই, ট্রাফিক শৃঙ্খলায় পুলিশকে সহায়তা করুন।


%d bloggers like this: