ঢাকা, শুক্রবার , ২৪ নভেম্বর ২০১৭, | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ | ৫ রবিউল-আউয়াল ১৪৩৯

ট্রাম্পের দেখানোর আর খাওয়ার দাঁত আলাদা

gdas11

ডোনাল্ড জন ট্রাম্প আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। এর চেয়েও বড় কথা, আমেরিকার ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- এই দুই দলেরই (বাইপার্টিজান) এলিটরা মিলিতভাবে নিজ নিজ দলের কথা চিন্তা বাদ দিয়ে ‘ট্রাম্প ঠেকাও’-এর কাজে নেমে পড়েছিলেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ আগে ৩৭০ জন অর্থনীতিবিদ (যাদের মধ্যে কয়েকজন নোবেল প্রাইজ পাওয়া অর্থনীতিবিদও আছেন), তারা সবাই এক বিবৃতিতে কেন ট্রাম্পকে ভোট দেয়া ঠিক হবে না, তা জানিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচনের আগেই একটা আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল যে, ট্রাম্পের বোধ হয় আর কোনো সম্ভাবনা নেই; তাকে হারিয়ে হিলারিই জিতছেন। রয়টার্সের মতো মিডিয়া বলা শুরু করেছিল, হিলারি জিতছেন এটা প্রায় ৯০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে গেছে। ফলে ট্রাম্পের জেতার আর যেন কোনো সম্ভাবনা নেই, চার দিকে সে কথাই কেবল প্রচার হচ্ছিল। কিন্তু সব অনুমান উল্টে গেছে। ভোটের ফলাফল মানে ট্রাম্পের জয়লাভের খবর এখন সবাই জানেন। তাহলে এই অবস্থা তৈরি হয়েছিল কেন, আর প্রপাগান্ডার সব কিছু আসলে এক মিথ্যা ফানুস ছিলÑ এমন প্রমাণ হলো কেন?
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, যে আমেরিকা এখনো গ্লোবাল অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, নির্ধারক রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট, তারই নির্বাচন এটি। ফলে এই নির্বাচনকে ঘিরে মুখ খোলার কথা সমগ্র দুনিয়ার নানান স্বার্থের গোষ্ঠী-মানুষের। যদিও সামগ্রিক দিক বিচারে বললেÑ এই নির্বাচনে মোটা দাগে তিনটি পক্ষ ছিল। এক পক্ষ হলো আমেরিকার বাইরের গ্লোবাল স্বার্থের মানুষ। অন্য দিকে যারা ভেতরের, এদের মধ্যে আবার দুই পক্ষ। এভাবে মোট তিন পক্ষ। প্রসঙ্গটি ভোটের ফলে ভেতরের মানে আমেরিকান নাগরিক আর বাইরের অনাগরিক। ভেতরের মধ্যে মোটা দুই পক্ষের এক ভাগের দলে পড়বেন যারা আমেরিকাকে চালায় এমন বড়লোক, এলিট, নীতিনির্ধারক, ইন্টেলেক্ট, ওয়াল স্ট্রিটসহ ব্যবসায়ী জগৎ প্রভৃতি, যাদেরকে এখানে একসাথে অভ্যন্তরীণ ‘এলিট’ বলে ডাকতে পারি। এলিট অর্থাৎ ভেতরের ‘আম-ভোটার’দের থেকে যারা আলাদা। এই এলিটরাই সবচেয়ে বেশি কথা বলার সুযোগ রাখেন। আমেরিকার বাইরের অনাগরিক আর ভেতরের এই এলিট অংশ এরাই মূলত মিডিয়া দখল করে রাখেন, কেবল এদের বয়ানই মিডিয়ায় আসে। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে। একমাত্র নির্বাচনের সময় মিডিয়ার বয়ান ও দৃষ্টিভঙ্গির বাইরের ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ ওই বাইরেও তৃতীয় (অভ্যন্তরীণভাবে দেখলে দ্বিতীয়) অংশটি হলো ‘আম-ভোটার’। ভোটে এরাই নির্ধারক, প্রবল সংখ্যাধিক্যের কারণে। যদিও সবচেয়ে বড় এই অংশ মিডিয়ার অগোচরেই থেকে যায়, বিশেষত আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। অতএব ভোটের সময় এরা স্থানীয় মিডিয়ায় থাকলেও বাইরে থেকে আমরা জানতে পারি না, এই ‘আম-ভোটার’ অংশটি সবচেয়ে বড় বলে ভোট দেয়া ও গণনা সংখ্যায় তাদের ভূমিকা নির্ধারক। অন্য যেকোনো গ্রুপের চেয়ে এরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা। অথচ ভোটের সময়ের এদের ক্ষমতার বিপরীতে প্রথম দুই পক্ষ বাইরের অনাগরিক আর ভেতরের এলিটÑ এদের মধ্যে কেবল ভেতরের এলিটদের কিছু ভোট দেয়ার ক্ষমতা আছে, অন্যদের নেই। তাহলে দাঁড়াল, আমেরিকান নির্বাচনে একমাত্র নির্বাচনের সময়ই সবচেয়ে নির্ধারক হলো আম-ভোটার। অথচ আম-ভোটারদের চেয়ে যাদের ভোটই নেই অথবা ন্যূনতম এরাই নির্বাচনে পুরো মিডিয়া দখল করে রাখে এবং সেখানে কেবল তাদের স্বার্থের বা গ্লোবাল স্বার্থের কথাÑ বয়ানগুলোকে মুখ্য করে রাখে। অতএব এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আম-ভোটারকে অ্যাড্রেস করতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা কী ভাষায়, কী চাতুরীতে বা কী কৌশলে কথা বলবে, প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে এই আম-ভোটারের কাছে পৌঁছবে, প্রভাবিত করবে, এটা খুবই নির্ধারক। জিততে চাইলে প্রভাবিত করার সেই ভাষ্য অবশ্যই মিডিয়ার আমেরিকার বাইরের ও ভেতরের এলিটদের ভাষ্য থেকে ভিন্ন করাই হবে সহজ কৌশল। ট্রাম্প তাই করেছেন। তিনি ব্যাপক আম-ভোটারের ভাষায় তাদের তাতিয়ে কথা বলেছেন। তার সেসব কথা মিডিয়া বা আন্তর্জাতিক মূল্যবোধের চোখে হয়তো অচল। তবুও তা পরোয়া না করে এই ভোটারদের জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গি চাওয়া-পাওয়ার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি ভোট চেয়ে কথা বলেছেন। কারণ মনে রাখতে হবে, আম-ভোটারদের কাছে তাদের নেতারা অন্য দেশ থেকে তেল লুট করে নাকি মানুষ খুন করে তাদের জন্য কাজ আর ভালো বেতন এনেছেন, অর্থনীতি চাঙ্গা রেখেছেন বলে তাদের নেতারা এ জন্য খারাপ বা দোষী কি না এ বিষয়টিকে তারা নিজের ভালো কাজ ও বেতনের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। যেমন ট্রাম্প কেন মুসলমানদের বিরুদ্ধে বললেন; মেক্সিকো বা চীনের বিরুদ্ধে ট্রেড বেরিয়ার (আমদানি বাণিজ্যে বাধার নীতি) ইত্যাদিতে কথা বলেছেন। সে বিষয়গুলো আম-ভোটাররা নিজের স্বার্থের দিক থেকে দেখবেন, গ্লোবাল মিডিয়ার দিক থেকে নয়। এ ছাড়া আরেকটা বিরাট দিক আছেÑ মাইগ্রেন্ট বা প্রবাসী শ্রমিক। অথবা রিফিউজি নামে প্রবাসী বা বিদেশী শ্রমিক। এটা এমন এক জিনিস, যখন অর্থনীতি ভালো চলে তখন সরকার অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশী শ্রমিকও কাজের প্রাচুর্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুভব করে না। কে দেশের বাইরে থেকে এলো তা তার কাছে বিবেচ্য হয় না। অর্থনীতি ভালো চললে, বাইরের শ্রম মানেই তুলনায় সস্তায় পাওয়া শ্রম, যে শ্রম তখন দরকারও। তাই তা আদরণীয়। অথচ অর্থনীতি শ্লথ হয়ে গেলে ঠিক এর উল্টো। তখন মনে হয়, কালো বা বাদামি, বিদেশী বা মুসলমান সব খেদাও, এরাই নিয়ে গেল সব। জাতীয়তাবাদের জিগির উঠবে। এসব ক্রাইসিসের দিক খেয়াল রেখে নির্বাচনে ভোট পাওয়ার জন্য ট্রাম্প জেতার উপযুক্ত ভাষ্যটি সঠিক বানিয়েছিলেন। সেই ভাষায় কথা তুলে যিনি ভোট চাইবেন, স্বভাবতই তিনি সফল হবেন। নির্বাচনে ট্রাম্পের মূল সেøাগান ছিলÑ ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’। আম-ভোটারদের আকৃষ্ট করার ভাষ্য অনুযায়ী, সঠিক সেøাগান।
কিন্তু সমস্যা হয়েছে অন্যখানে। আমরা ট্রাম্পের যত রকম কথা শুনছি, সেগুলো আমরা ট্রাম্পের আম-ভোটারের চোখে না দেখে বরং এর বাইরের অন্য দুই পক্ষের দিক থেকে দেখেছি। সমগ্র দুনিয়ায় প্রথমত, তাদের নিজ নিজ স্থানীয় প্রেক্ষিত থেকে অথবা গ্লোবাল প্রেক্ষিতে। অথচ আমরা ভুলে গেছি, আমেরিকার বাইরের যারা, তারা যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন, তারা তো ভোটার নন। আর এটা কেবল ভোটেরই লড়াই বলে বাইরের নিন্দা আমল করার কিছু নেই। ট্রাম্প এটা ঠিকই ধরেছেন। তার জয়লাভের কারণ সম্ভবত এখানে। তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, আমেরিকার বাইরের অনাগরিক বা ভেতরের এলিটÑ এসব স্বার্থ সন্তুষ্ট করে ভাষ্য তৈরি করে কোনো লাভ নেই। ভোটের বাক্সে এর কোনো প্রভাব নেই। তাই এ দুই পক্ষের দিকে তাকিয়ে তিনি কথা বলেননি। দ্বিতীয়ত, একটা বহুল প্রচলিত প্রবাদ হলো, হাতির দেখানোর দাঁত দিয়ে চিবায়ও না, খায়ও না। চিবানোর দাঁত আলাদা। অথচ আমরা দেখানোর দাঁত দিয়ে চিবানো দেখতে চাচ্ছি। আমরা ভোট পাওয়ার জন্য দেয়া পপুলার সেøাগানকেই (বা বয়ান) জেতার পর তা ‘হুবহু’ সরকারের নীতি-পলিসি করা যেন বাধ্যবাধকতা! অথচ দেখানো আর চিবানোর দাঁত তো আলাদা, তা আলাদাও হতে পারে, হয়।
আমেরিকা রাষ্ট্রের বাইরের মানুষ, ভিনদেশী এমন অনেকেই মনে করে যে ট্রাম্প খুবই খারাপ মানুষÑ রেসিস্ট, রেপিস্ট ইত্যাদি ধরনের সব কিছু অভিযোগ যার বিরুদ্ধে আনা যায়, নির্বাচনে ট্রাম্পের হেরে যাওয়া উচিত। অনেকে এখানে এথিকস বা দেশী-বিদেশী আইনের কথা তুলছেন, তুলবেন। এ কথাও ঠিক যে ট্রাম্পের অনেক কথায় এথিকস ও আইনের ফিল্টারে আটকে যাবে এবং তা আসলে খুবই অগ্রহণযোগ্য। তাহলে?
ট্রাম্পকে কি সমালোচনা করা যাবে না? সমালোচনা করা কি ভুল হবে? এক কথায় এর জবাব, অবশ্যই যাবে। তবে থিতু হতে একটু অপেক্ষা করুন। ইতোমধ্যে তিনি কী কী বলেছেন, সেগুলোর বিস্তারিত নোট নেন। কিন্তু কোনোভাবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। আগামী বছর ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ক্ষমতা নেবেন। এর আগে-পরে কিছু কিছু করে কয়েক মাসের মধ্যেই ট্রাম্পের আসল নীতি-পলিসি পরিষ্কার হয়ে যাবে। নির্বাচনে দেয়া তার বিভিন্ন বক্তব্যে কোথায় কোথায় এখন তিনি ফিল্টার দেবেন, ফাইন টিউন করে এরপর তা তার সরকারের নীতি-পলিসি হিসেবে ঘোষণা করবেন, তা বোঝা যাবে। এর আগে ট্রাম্প প্রসঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া ভুল হবে। এ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যেমনÑ ইতোমধ্যে তার মুসলিমবিরোধী বক্তব্য তিনি নির্বাচনী ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে ফেলেছেন। সর্বশেষ খবর হলো, ওবামার স্বাস্থ্য বীমা পলিসি, যেটা তিনি ‘রিপিল’ করবেন বলেছিলেন। ইংরেজি রিপিল মানে ফিরিয়ে নেয়া, প্রত্যাহার করা বা উল্টো আইন করে বাতিল করে দেয়া। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি সম্ভবত রিপিল করছি না। তবে কিছু সংস্কার করব।’ একটা অবজারভেশন থেকে বলা যায়, নির্বাচনের সময় সমগ্র দুনিয়ায় প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি বা নীতির কথা চাঁছা-ছোলা খোলা কথা বলে থাকে। জিতলে পরে যেটার ওপর ফিল্টার চড়ানো হয়, টোপর পরানো হয় বা ফাইন টিউনে এক বিচার-বিবেচনা করে বলা হয়। দেখা গেছে, সময়ে রাষ্ট্রের ক্রাইসিস যত তীব্র থাকে প্রতিশ্রুতি বা নীতির কথা তখন চাঁছা-ছোলা আনফিল্টার করে বলা হতে থাকে। যদিও জিতে তা সরকারের নীতি হওয়ার আগে তা নিয়ে সমালোচনা করে খুব বেশি আগানো যায় না বা কাজে লাগে না। কোনো প্রার্থীর সমালোচনা একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাজে লাগে। তাই আমাদের উচিত, চোখ-কান খুলে অপেক্ষা করা।
তাহলে ট্রাম্পই কি প্রথম, যে ভোটের হুবহু প্রতিশ্রুতিতে চলেন না? না, তা একেবারেই নয়। লিবারেল সুশীলদের প্রতিভূ শ্রী ওবামার কথাই ধরা যাক। তিনি নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জিতলে তিনি রেনডিশন (আমাদের মতো দেশে তাদের আসামি পাঠিয়ে টর্চার করিয়ে আনা) বন্ধ করে দেবেন, গুয়ানতানামো বে কুখ্যাত কারাগার উঠিয়ে দেবেন, আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করবেন ইত্যাদি। যার একটিও তিনি করেননি এবং সরাসরি অপারগতা জানিয়েছেন। তবে আফগানিস্তানে ১০ হাজার সৈন্য রেখে হলেও বাকিটা প্রত্যাহার করেছেন। আবার গত ২০১৪ সালে ভারতের মোদি হুঙ্কারও ভয় পাইয়ে দিয়ে বলেছিলেন, তিনি জেতার পরের দিন থেকে ‘মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের’ বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত মোদির সে কথার পরবর্তী কথা বা তৎপরতা নেই। যেন এমন কথা তিনি বলেননি অথবা নিজেই ভুলে গেছেন।
তাহলে আমি কি বলতে চাইছি ট্রাম্পের সব কথাই ভুয়া, তাল ঠিক নেই? না, তা একেবারেই নয়। বরং সম্ভবত কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসন্ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে আমেরিকার নেতৃত্বের দুনিয়া নতুন অর্ডারে সাজিয়ে হাজির হওয়ার পর সে অবস্থাকে বলা হয়Ñ আমেরিকা দুনিয়ায় এক এম্পায়ারের (সাম্রাজ্যবাদ নয়) ভূমিকায় হাজির হয়েছিল।
এরপর নিজের প্রত্যক্ষ কাজে লাগুক বা না লাগুক, এমন বহু বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান বা সিস্টেম চালিয়ে টিকিয়ে রাখার দায়ভার তাকে বইতে হচ্ছে। এমন সব প্রতিষ্ঠান বা সিস্টেমের দায়দায়িত্ব এই প্রথম রিভিউ করে কাটছাঁট ও পুনর্গঠন করা হতে যাচ্ছে। যেমনÑ ন্যাটো। এর ৭৩ শতাংশ খরচ আমেরিকা একা বহন করে। ট্রাম্প এটা রিভিউ করার পর ঠিক করতে চান, এটা কী করা হবে। ট্রেড ব্যারিয়ার বা চীনের সাথে বাণিজ্যে তিনি সস্তা জাতীয়তাবাদী হয়ে বাধা দেবেন না। তবে চীনের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনরায় নেগোশিয়েট করে ভালো ডিল (আমেরিকানদের জন্য চাকরি বা আউটসোর্সিং) পেতে চাইবেন। সিরিয়া প্রসঙ্গে এক নতুন অবস্থান নিতে যাচ্ছেন। তাতে আসাদ থাকল না গেল, সেখান থেকে সরে আসবেন। রাশিয়ার ওপর অবরোধ উঠানো নিয়ে কথা আগাবেন। আইএস মোকাবেলা ও দমনে রাশিয়ার সাথে দায় শেয়ার করবেন সম্ভবত। সৌদি, জাপান, কোরিয়া, জার্মানি প্রভৃতি দেশ যেখানে আমেরিকান ঘাঁটি আছে সে খরচ কে বইবে অথবা রাখা আদৌ আমেরিকার জন্য কোনো লাভ হচ্ছে কি না এটা পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা যদি মনে রাখি, ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী, তাহলে ট্রাম্পকে বুঝতে আমাদের তা কাজে লাগতে পারে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা ইতোমধ্যে ট্রাম্প জিতে যাওয়ার পর এক মজার মন্তব্য করেছেন। তিনি চীনা নেতৃত্বের বিশ্বব্যাংক সমতুল্য ব্যাংকÑ এআইআইবি, এই ব্যাংক গঠন উদ্যোগের বিরোধিতা করা আমেরিকার ‘স্ট্র্যাটেজিক মিসটেক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ওবামার এক আদরের নীতিÑ চীনকে বাদ দিয়ে বাকিদের নিয়ে আমেরিকা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি (টিপিপি অথবা নাফটা), এগুলো পুনর্গঠনের পক্ষে ট্রাম্প কথা বলছেন। এক কথায় বললে গ্লোবাল অর্থনৈতিক বিন্যাস ও অবস্থানের দিক থেকে আমেরিকার ভূমিকা কী? তা যা বলে, যা পঞ্চাশের দশক থেকে বিশ্বাস (কোর) করা হয়েছে, ট্রাম্প সম্ভবত এ বিষয়গুলো এই প্রথম ঢেলে ভিন্ন দিক থেকে দেখে কিছু করতে চাইছেন। স্বভাবতই ট্রাম্পের প্রসঙ্গগুলো যত বিশাল, সে তুলনায় আমাদের কাছে তথ্য যেন আপাতত ততই কম। ফলে কোথায় তা কত দূর যেতে পারবে, আদৌ সম্ভব কি না তা দেখা-বোঝার জন্য আমাদের অনেক অপেক্ষা করতে হবে। তবে কোনোভাবেই বিষয়গুলোকে ট্রাম্পের নির্বাচনপূর্ব রেটরিক দিয়ে বুঝতে চাওয়া অর্থহীন হবে। এ প্রসঙ্গে আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্পের আমেরিকার সাথে ভারতের অথবা বাংলাদেশ নীতি সম্পর্কের ভেতর কোনো বিশেষ এবং নতুন দিক থাকবে কি না সে বিষয় এশিয়ার দুই দেশেই আপাতত ক্লুহীন। হাসিনার স্বাগত জানানো সে আলোকে দেখা যেতে পারে। তবে চীনের সাথে ট্রাম্পের নতুন সম্পর্ক সাজানোর দিকটি মাথায় রাখলে তাতে ভারত ও বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ওপর তার কিছু কিছু ছাপ, নতুন বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়ার কথা। সম্ভবত ওবামার ‘চীন ঠেকানো’ টাইপের অবস্থান এটা ট্রাম্প ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন। ট্রাম্প এ রকম বহু প্রসঙ্গ তুলেছেন তা চূড়ান্ত নয়, ডেভেলপিং বলাই ভালো। তাই এক কথায় সব কিছুই ওয়েট অ্যান্ড সি, ডোন্ট কনক্লুড।