ঢাকা, বুধবার , ১৮ জুলাই ২০১৮, | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ | ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯

তুরস্কে বেসরকারী গণনায় বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে নিজেকে বিজয়ী দাবী করেছেন দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এরদোগান বলেছেন বেসরকারী ফলাফল তার জয়কে নিশ্চিত করছে। এরদোগান বলেছেন, তার একে পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং নির্বাচনটি গণতন্ত্রের যথার্থ পরীক্ষা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে বিরোধী পক্ষ এ ফলাফল খুব দ্রুত সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা বলে মনে করছে। তারা আরো অনেক ভোট গোণা বাকী রয়েছে বলে দাবী করেছে।

এরাদাগান সমর্থকদের উল্লাস

বেসরকারী ফলাফলে সর্বশেষ ভোট গণনায় দেখা যায় এরদোগান পেয়েছেন ৫৩% ভোট। অন্যদিকে তার প্রতিপক্ষ মধ্য বামপন্থী মোহারম ইন্ক পেয়েছেন শতকরা ৩১ ভাগ ভোট। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্দোলু জানিয়েছে ৯৬% ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে কুর্দিদের পক্ষপাতি এইচডিপি ভালো ভোট পেয়েছে। যা এরদোগানের মাথা ব্যাথার কারণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনে এরদোগান ও ইন্কসহ মোট চারজন প্রার্থী প্রেসিডেনট পদে নির্বাচন করে। তুরস্কের নির্বাচনে একই দিনে প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। নিয়ম হলো, যদি কোন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই যদি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান তাহলে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দু’জনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ হবে ১৫ দিন পরে।

 

 

রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের প্রধান সমর্থক হচ্ছেন রক্ষণশীল এবং ধার্মিক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক তুর্কিরা। তিনি তুরস্কের এতকাল ধরে চলে আসা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামী মূল্যবোধকে শক্তিশালী করেছেন এবং তার সময়ে দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

২০১৯ সালে এ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন এগিয়ে আনেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। এ নির্বাচনে বিজয়ী হলে সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী  অমিত ক্ষমতা ভোগ করবেন এরদোগান। এরদোগানের হাতে ইতিমধ্যেই বিপুল ক্ষমতা। এ নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি আরো ক্ষমতাধর হবেন। কারণ তিনি সংবিধানে যে সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন – তাতে প্রেসিডেন্ট পদটি আরো ক্ষমতাশালী হবে, প্রধানমন্ত্রী পদ তুলে দেয়া হবে, প্রেসিডেন্ট নিজে ডিক্রি জারি করতে পারবেন, মন্ত্রী ও বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা পাবেন। এই এজেন্ডার ওপরই এরদোয়ান ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।

বিরোধী মধ্য বামপন্থী নেতা মোহাররম ইন্ক

সমালোচকদের মতে, সংশোধিত সংবিধান এরদোগানের হাতে ক্ষমতাকে আরও একমুখি করে তুলবে। যা দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্যকে এলামেলো করে দেবে। তারা মনে করেন, এরদোযগান একজন একনায়ক হয়ে উঠেছেন। বিচারবিভাগকে হাইজ্যাক করেছেন এবং পশ্চিমের সাথে তুরস্কের সম্পর্ককে ধ্বংস করেছেন।

এরদোগান ১১ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান ব্যার্থ হয়। সেনাসদস্যসহ ১,০৭,০০০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয় এ ক্যুয়ের ঘটনায়। ৫০,০০০ জনকে কারাবন্দী করা হয়। যার বিচার এখনও চলছে।


%d bloggers like this: