ঢাকা, শনিবার , ২৬ মে ২০১৮, | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ১০ রমযান ১৪৩৯

ফ্রান্সের ১০ মুসলিম ফুটবলার

ফেডারেশন ফ্রঁসেজ দো ফুটবল

আশরাফুল ফয়সাল ● উত্তর প্যারিসের দো ফ্রঁস স্টেডিয়ামে তখন জার্মানি-ফ্রান্সের ফুটবল ম্যাচ চলছে, মাঠে বসেই খেলা দেখছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ।ওই মাঠের পাশেই চালানো হয় একটি আত্মঘাতী হামলা , স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় অন্তত ছয়টি স্থানে চালানো এসব হামলার লক্ষ্যস্থল প্যারিসের কেন্দ্রস্থলের একটি কনসার্ট হল। এছাড়া জার্মানি-ফ্রান্স খেলা চলা প্যারিসের সবচেয়ে বড় ওই স্টেডিয়াম এবং কয়েকটি রেস্তোরাঁ ছিল অন্যতম লক্ষ্যবস্তু।

হামলাকারীরা স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে না পেরে প্রথম বোমাটি স্টেডিয়ামের একেবারে কাছে বিস্ফোরিত করে। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১৭ মিনিট; বিকট শব্দ শোনার পরও কেউ তখন বুঝে উঠতে পারেননি বাইরে কী ঘটে যাচ্ছে। মাঠে দর্শকদের উল্লাস আর আতশবাজির আওয়াজ ভেবে সেদিকে মনোযোগ দেয়নি কেউই। ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় আবারও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এবার আর খেলায় মনোযোগ দিতে পারেননি দর্শকরা। তবে মাঠে খেলোয়াড়দের পুরো মনোযোগ তখনো ফুটবলেই। ততক্ষণে স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে চক্কর দিতে শুরু করেছে হেলিকপ্টার।

অবশিষ্ট সময় গ্যালারিতে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়েই কাটে দর্শকদের। তবে স্টেডিয়ামে তখনো হামলার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। খেলা দেখতে আসা ফরাসি প্রেসিডেন্ট দ্রুত স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। ম্যাচ অবশ্য বন্ধ হয়নি তখনো; তবে গ্যালারিতে বসেই দর্শকরা পাচ্ছিলেন ভয়াবহ সেসব হামলার খবর। নির্ধারীত ৯০ মিনিটে খেলা শেষে ২-০ গোলে জয়ী হয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে গোল করেন অলিভিয়ের জিরু ও গিগন্যাক। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই স্টেডিয়ামে হামলার খবর জানানো খবর। মাঠের পশ্চিম গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয় দর্শকদের। স্টেডিয়ামের বাইরের ‘আত্মঘাতী’ ওই হামলায় যাতে অন্তত তিনজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ততক্ষণে জেনে গেছেন সবাই। আতঙ্কিত দর্শকরা তখন স্টেডিয়ামকেই নিরাপদ ভেবে সেখানে অবস্থান নেন। অনেকেই মাঠে নেমে আসেন। খেলায় জার্মানিকে ২-০ গোলে হারানোর আনন্দ ততক্ষণে মাটি হয়ে গেছে তাদের।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস, যার কারনে ফ্রান্সসহ পুরো ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ইসলাম-মুসলিম বিদ্বেষ। ফরাসি ফুটবলে সবচে বড়ো বিজ্ঞাপন জিনেদিন জিদান। ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবেও খেলছে অনেক বড় বড় ফুটবল তারকা যারা মুসলমান, খোদ ফ্রান্সেরই ১০ জন মুসলিম তারকা ফুটবলার আছেন বিভিন্ন ক্লাবে। এই ইসলাম বিদ্বেষ ফুটবল মাঠেও ছড়িয়ে পড়বে কিনা দেখার বিষয়। ফ্রান্স জাতীয় দলে তারকা ফুটবলারদের অনেকেই ধর্মীয়ভাবে মুসলিম- সামির নাসরি (ম্যানসেস্টার সিটি), ফ্রাঙ্ক রিবেরি (বায়ার্ন মিউনিক), নিকোলাস বিলাল এনেলকা (ওয়েস্টবর্ন), এরিক আবিদাল (মনাকো), হাতিম বেন আফরা (নিউ ক্যাস্টল ইউনাইটেড), কারিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ), আবো দিবাই (আর্সেনাল), বেসারি স্যাগনা (আর্সেনাল), আদিল রামি (ভ্যালেন্সিয়া) এবং আলি কিসোখো (লিভারপুল)।

সামির নাসরি
সামির নাসরি

 

 ফ্রাঙ্ক রিবেরি
ফ্রাঙ্ক রিবেরি

নিকোলা বিলাল এনেলকা

নিকোলা বিলাল এনেলকা

 

এরিক আবিদাল
এরিক আবিদাল

 

হাতিম বেন আফরা
হাতিম বেন আফরা

 

কারিম বেনজেমা
কারিম বেনজেমা

 

আবো দিবাই
আবো দিবাই

 

বেসারি স্যাগনা
বেসারি স্যাগনা

 

আদিল রামি
আদিল রামি

 

আলি কিসোখো
আলি কিসোখো

আজ/আফ