ঢাকা, শনিবার , ২৬ মে ২০১৮, | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ১০ রমযান ১৪৩৯

বসকে হাতে রাখার ১০ টিপস

বস

লাইফস্টাইল ডেস্ক ● কথায় আছে— বস ইস অলওয়েজ রাইট। কখনো রং মনে হলেও ভেবে নিতে হবে আপনার চেয়ারে বসে আপনি যেটা রং দেখছেন, সেটা বসের চেয়ারে বসে রাইট হতেই পারে, অস্বাভাবিক নয়। বসের মতো করে রং-রাইট বোঝার শতভাগ সামর্থ যদি থাকতো, তাহলে তো আপনিই বস হতেন। যেহেতু আপনি বস নন, সেহেতু বুঝে নিতেই হবে আপনি ঠিক বসের মতো রং-রাইট বুঝতে পারবেন না। আর সত্যিকার অর্থেই যদি আপনার ভেতরে বসের মতো রং-রাইট বোঝার ক্ষমতা থাকে, সেক্ষেত্রে নিশ্চিত থাকেন- আপনিও বস হচ্ছেন।

বসের হাতেই প্রতিষ্ঠান অথবা প্রতিষ্ঠানের বিভাগ। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন মানে সবারই উন্নয়ন। কেবল অনুভব করাটাই আপেক্ষিক। এই যে আপনার প্রতিষ্ঠান অনবরত সুনাম অর্জন করছে, উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে, মনে রাখবেন এতে আপনার চেয়ে বসের অবদান অনেক বেশি। উন্নয়নের মাত্রাকে সমৃদ্ধ করার জন্য বসকে মেনে এগিয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমত্বার কাজ। এবং অবশ্যই আপনাকে ভেবে নিতে হবে, বসই উন্নতির চাবিকাঠি। তাই বসকে খুশি রাখতেই হবে। কী কী করলে বসেদের হাতে রাখা যায় সে ব্যাপারে অল্প-বিস্তর জ্ঞান সকলেরই রয়েছে। তবু চোখ বুলিয়ে নেয়া যেতে পারে বসকে হাতে রাখার ১০ টিপস-এ।

● মাথা ঠান্ডা রাখুন

আপনার চারপাশে প্রলয় ঘটে গেলেও নিজের মাথা সব সময় ঠান্ডা রাখুন। বসেরা সব সময় সেই লোকজনদেরই পছন্দ করেন যাঁরা খুব বিগড়ে যাওয়া পরিস্থিতিতেও ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে পারেন। তাঁদের উপরেই বসেরা বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

● সহকর্মীর বদনাম করবেন না

সহকর্মীকে নিয়ে কাজ ছাড়া অন্য কোনও আলোচনা করবেন না বসের সঙ্গে। বস যদি জিজ্ঞাসা করেন ‘অমুক সহকর্মী কেমন মানুষ’ তবে বুদ্ধি করে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। যদি ভাল কথা বলতে ইচ্ছে না হয় তো না বলুন তা বলে খারাপ কথা বলবেন না। ‘অমুক ভালই’ বলে চুপ করে যান। বস বুঝে যাবেন।

● দেরি করে অফিসে ঢুকবেন না

পাঁচ-দশ মিনিট দেরি হওয়া নিয়ে কেউ কিছু মনে করেন না কিন্তু তার বেশি দেরি করে অফিসে ঢোকা কোনও কাজের কথা নয়। এক-আধ দিন দেরি করে এলে কিছু হবে না কিন্তু মাসের মধ্যে ২০ দিনই দেরি করে ঢুকলে বস মুখে কিছু না বললেও মনে রেখে দেবেন। তার প্রভাব অনেক কিছুতেই পড়তে পারে।

● বসের প্রশংসা করুন মেপেঝুপে

তোশামোদী আর প্রশংসার মধ্যে পার্থক্য আছে। পঞ্চাশ বছর আগে শুধু তোশামোদে কাজ হত এখন আর সেই ওষুধ চলে না। বরং বেশি বেশি করে বসের সামনে তাঁর গুণগান করলে বসেরা বুঝতে পারেন আপনার আসল উদ্দেশ্য কী। সেক্ষেত্রে বস আপনাকে এড়িয়ে চলতেও পারেন। তাই মেপেঝুপে প্রশংসা করুন বসের।

● বসের ‘বস’-এর সঙ্গে খাতির বাড়ান সহনীয় মাত্রায়

সব সময় অবশ্য এই সুযোগ আসে না কিন্তু সুযোগ পেলে তার সদ্ব্যবহার অবশ্যই করবেন। বসের উপরে যিনি নজর রাখেন তাঁর সঙ্গে এমনিই খেজুরে আলাপটা সেরে রাখবেন। তিনি যদি আপনাকে নামে চেনেন তো কথাই নেই। আর তিনি যে আপনাকে চেনেন বা আপনার সঙ্গে কথা বলেছেন বা বলেন, সেই কথাটা বসের কানে তুলে দিন। তবে এমনটা যেন না মনে হয় যে আপনি বসের ব্যাপারে তাঁর বসের কাছে খবর সরবরাহ করেন।

● বসের বন্ধু হয়ে যান

বসেরা অফিসে খুবই বিপন্ন বোধ করেন। অনেক সময় এই থেকেই রাগারাগি-চেঁচামেচি করে ফেলেন তাঁরা। একবার যদি বসের বন্ধু হয়ে যেতে পারেন তবে তো কথাই নেই। তা বলে সব বস বন্ধু হয় না। বস যদি দাম্ভিক, বদমেজাজি এবং জটিলমনস্ক সাইকো হয়ে থাকেন তবে কাজ ছাড়া অন্য কোনও কথা বলবেন না তাঁর সঙ্গে। কিন্তু বস যদি মানুষ হিসেবে ভাল হন, ভাল ব্যবহার করেন, তবে তাঁকে অফিসিয়াল দায়িত্ব যথাযথভাবে সেরে সুপরামর্শ দিন, তাঁর বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। বসের বন্ধু হওয়াটা বিশাল ক্রেডিট আপনার নিজের জন্যই। অফিসের শিডিউলের মতো গুরুত্ব দিয়ে বসের ব্যক্তিগত অকেশন মনে রাখবেন।

● কাজ নিয়ে আলোচনা করুন

কীভাবে আরও ভাল কাজ করা যায় সেই নিয়ে সুযোগ পেলেই আলোচনা করুন বসের সঙ্গে। কাজের প্রতি যাঁদের উৎসাহ রয়েছে তাঁদেরকে বসেরা পছন্দ করেন। নতুন নতুন আইডিয়া দিন বসকে। আপনি আপনার নিজের কাজ নিয়ে কী কী পরিকল্পনা করছেন, সেই নিয়ে কথা বলুন। বস মুখে না বললেও মনে মনে প্রশংসা করবেন আপনার উদ্যোগের।

● যখন-তখন ছুটি নয়

ঘন ঘন ছুটি নেওয়া কোনও বসই পছন্দ করেন না। এমার্জেন্সি ছাড়া ছুটি নেবেন না। চেষ্টা করবেন, হাফ-ডে লিভ নিতে। আপনি যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অফিসে আসার চেষ্টা করেন সেটা বোঝান।

● অফিসে বসে ফোন নয়

অফিসে বসে যাঁরা দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলে যান, তাঁদের অত্যন্ত অপছন্দ করেন বসেরা। খুব দরকারি ফোন এলে বা বেশিক্ষণ কথা বলাটা খুব জরুরি হলে বসকে বলে তবে ঘরের বাইরে গিয়ে কথা বলুন।

● মেইল লেখার এক্সপার্ট হয়ে যান

ক্লায়েন্ট মেইল হোক বা ইন্টারনাল মেইল, যিনি খুব ভাল মেইল লিখতে পারেন, বসেরা তাঁদের খুবই পছন্দ করেন। তাই এই ব্যাপারে আপনার দক্ষতা বাড়ান আর বস যদি আপনার এলেম দেখে খুশি হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেল আপনাকে লিখতে বলেন তবে বুঝবেন বসের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠায় আপনাকে ঠেকায় কে!

আজ/এসএইচ/১০৩