ঢাকা, শনিবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ | ২ মুহাররম ১৪৩৯

বিএনপি চরমপন্থী দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে —ইসরাফিল আলম এমপি

ইসরাফিল আলম এমপি

ইসরাফিল আলম এমপি, নওগাঁ-৬ (রানীনগর-আত্রাই)  আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করছেন জাতীয় সংসদে। ১৯৬৬ সালে নওগাঁয় জন্ম নেয়া এ নেতা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি নিয়েছেন। এছাড়া তিনি হিউম্যান রাইটস ল নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে প্রথম সদস্য নির্বাচিত হন তরুণ এ নেতা। দশম সংসদেও তিনি সদস্য হিসেবে রয়েছেন। দায়িত্বপালন করেছেন নবম সংসদের শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়ে। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন তিতাস গ্যাস  কোম্পানি লিমিটেডের একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে। সেখানে তিনি ট্রেড ইউনিয়নভুক্ত শ্রমিক রাজনীতির অংশ হিসেবে জাতীয় শ্রমিক লীগের ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দেন দীর্ঘসময়।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, সরকার, বিরোধীদল, আইনশৃংখলা, মানবাধিকার ও রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলতে ন্যাম ফ্ল্যাটে তার মুখোমুখি হয়েছিলেন আজ এর স্পেশাল করেসপনডেন্ট এইচ এম ফারুক

আপনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিতাস গ্যাসের চাকরি দিয়ে। বর্তমানে আপনি পরপর ‍দুই বারের সংসদ সদস্য। আপনার এ যাত্রায় সাফল্যের চাবিকাঠি কী? 

আমার সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে, আমি মানুষকে ভালোবাসি। বিশেষ করে গরিব অসহায় মানুষ, ভাগ্য বঞ্চিত, দরিদ্র নিপীড়িত মানুষ। তাদের প্রতি আমার মমতা ভালোবাসা, তাদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য আমার কমিটমেন্ট এবং তাদের সহযোগিতা ও শুভেচ্ছাই হলো আমার সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি বলে আমি মনে করি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন আছে বলে মনে করেন?

উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির যে আর্ন্তজাতিক যে মানদণ্ড এবং ইন্ডিকেটরসগুলো আছে সেসব বিবেচনায় আমাদের সফলতা অহংকার করার মতো। আর মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আমাদের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা, আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ এবং রাজস্ব আহরণ করা। আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, দেশে এবং বিদেশে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি করা, জিডিপি বৃদ্ধি করা, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি করা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা, শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা এবং মানুষের স্বাস্থ্যসেবা একদম প্রান্তিক জনগণের কাছে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া, যোগাযোগ অবকাঠামো সৃষ্টি করা, তথ্য প্রযুক্তির প্রসার এবং মানুষের কাছে এগুলোর বিস্তার; এসব কিন্তু অসাধারণ সাফল্য একটা সরকারি দলের জন্য। বিশেষ করে সাত বছর মেয়াদী একটি সরকারের জন্য এগুলো অবিস্মরণীয় সাফল্য, বিস্ময়। কিন্তু আমাদের দেশে সত্যিকার অর্থে যে বিরোধীদল, মূল বিরোধীদল বলতে যাদের বোঝা যায়- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাদের কাজ-কর্ম, দৃষ্টি-ভঙ্গি এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো আমাদের দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য সহায়ক নয়। বাংলাদেশ তো আর এমনি জন্মায়নি। একটা স্বশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে এই দেশের অভ্যুদয় হয়েছে। সেই যুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যার আশ্রয় নিয়েছিল, মা-বোনদের ধর্ষণে যারা সরাসরি যুক্ত ছিল, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, লুণ্ঠন করায় যারা সম্পৃক্ত ছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে যারা সরাসরি নস্যাৎ করতে চেয়েছিল, তাদের বিচারের যে প্রক্রিয়া যুগোপযোগী, মানবিক এবং আইনগত পদক্ষেপকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম যেভাবে নস্যাৎ করা বা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ এটা আইনের শাসনের একটা মৌলিক অংশ। মানবাধিকারের একটা মৌলিক অংশ। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা একটা ফান্ডামেন্টাল ইস্যু। আমি বলবো সেই বিষয়গুলোতে সরাসরি কখনো বিরোধিতা করা যায় না। তাদের বক্তব্য হওয়া উচিত ছিল, ন্যায় বিচার যেন নিশ্চিত হয়। ন্যায় বিচারের জন্য তাদের যা যা করা দরকার, তা করার জন্য দাবি দাওয়া করতে পারতো। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে, বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, বিচারের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তারা দেশে-বিদেশে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে এটা আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে গড়ে ওঠা দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার জন্য লজ্জার, দুঃখের এবং দুর্ভাগ্যের।

আরেকটা বিষয় যেটা আপনি বলেছেন যে আমাদের ভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থা। এ রাজনৈতিক অবস্থা বলতে আমরা যে কথাই বলি না কেন, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার হস্তান্তর বিষয়ে সাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের যে ব্যবস্থাটি সেই জায়গাটাকে কোনো অবস্থাতেই আঘাত করা উচিত নয়। বিগত নির্বাচন নিয়ে উনি (বেগম খালেদা জিয়া) দেশে-বিদেশে যে ধরনের কথা বলেন, কিন্তু একটা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য এই ধরনের নির্বাচন ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ কিন্তু খোলা ছিল না। আর আমাদের সংবিধানে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্র পরিচালনা করা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার কোনো রকমের সুযোগ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাপনা একটা প্রেক্ষাপটের কারণে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে এদেশের সকল নাগরিক তৈরি করেছিল ঠিকই। কিন্তু সাংবিধানিক ব্যবস্থা যদি আমরা আক্ষরিক বিশ্লেষণ করি তাহলে সেটা ঠিক ছিল না। প্রয়োজনের তাগিদে আমাদের সেটা করতে হয়েছিল। আমরা মনে করছিলাম যে এখান থেকে আমরা শুধু ভালো ফলই পাবো। কিন্তু তার কুফলটা আমরা ২০০৭-২০০৮ সময়ে আমরা দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবং আমাদের সংবিধানের যে মূল স্পিরিট, সে স্পিরিট থেকে আমরা অবশ্যই বলতে বাধ্য হব এবং সবারই শিকার করে নেয়া উচিত যে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার ব্যতীত বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো ব্যবস্থা, কোনো পজিশন আমাদের সংবিধানে নাই এবং এটা হওয়া উচিতও না। এটা গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রের পরিপন্থি।

আপনি সার্বিক সফলতার কথা বললেন সরকারি দলের এমপি হিসেবে সরকারের ব্যর্থতার মুল্যয়ন জানতে চাই ?

আমাদের সরকারের সফলতা এবং ব্যর্থতার নির্মোহ মূল্যায়ন আপনারা করবেন। আমাকে যদি মূল্যায়ন করতে বলেন, তাহলে বলবো সমস্যা-সংকুল দেশ হিসেবে, একটা তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে আমরা যে সফলতা অর্জন করেছি সেটা শুধু দেশে নয়, আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সমাদৃত। আমরা সকল কাজই একদম নিখুঁতভাবে, নির্ভুলভাবে করতে পেরেছি এই দাবি আমরা নিশ্চয় করি না। আবার যে কাজগুলো করা উচিত ছিল সেসব গুলো কাজই যে আমরা করতে পেরেছি সেটাও বলা ঠিক হবে না। আমাদের নিশ্চয় কিছু ব্যর্থতা, ত্রুটি বিচ্যুতি আছে। কিছু কিছু কাজ আমরা করতে পারি নাই। কিন্তু সামগ্রিকভাবে একটা চিত্র যদি দেখেন এবং তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ যদি করেন তাহলে অবশ্যই বলতে হবে যে আমরা সফল। আমাদের সফলতার পাল্লা ব্যর্থতার থেকে অনেক অনেক বেশি ভারি।

ইসরাফিল আলম এমপি

শিশু হত্যা চেষ্টার দায়ে সংসদ সদস্য লিটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

আমার মনে হয় এই বিষয়গুলো মানুষের ব্যক্তিগত দায়। ব্যক্তিগত দায়কে দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ঠিক না। লিটন সাহেব প্রথমে এই দেশের একজন নাগরিক। তারপর উনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য। আমরা সবাই আশা করি উনি একজন আইন প্রণেতা হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, নীতি নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করবেন। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে যদি কোনো অন্যায় অপরাধের সাথে, অনৈতিক কোনো কাজের সাথে তিনি জড়িয়ে যান তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত দায়। সেখানে কখনো দলের অনুমোদন, সমর্থন থাকে না এবং নাই। এগুলো তাকে আইনগতভাবে শেষ করতে হবে। সরকার বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়নি। তাই যদি হতো তাহলে তিনি গ্রেফতার হতেন না। এ ঘটনায় সরকারের সারাদেশে যেভাবে প্রশংসিত হবার কথা ছিল, সেভাবে কিন্তু সরকারকে প্রশংসিত করা হয় নাই। লিটনের ক্ষেত্রে সরকারের যদি কোনো অনুকম্পা থাকতো তাহলে যে প্রতিবাদ হতো, সমালোচনা হতো সেটা আপনি একটু কল্পনা করতে পারেন। কিন্তু বিপরীতে লিটন সাহেবের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়ার পর যে প্রশংসা আসার কথা ছিল সেটা কিন্তু সেইভাবে আসে নাই।

লিটন সাহেবের বিরুদ্ধে শিক্ষক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, একাধিকবার বিভিন্নস্থানে গুলি ছোড়া এবং যাত্রামঞ্চে মদ্যপ অবস্থায় নর্তকীর সঙ্গে নাচগানের মতো অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের মত একটি বড় ও ঐতিহ্যবাহী দলের এমপি নমিনেশন দেয়ার ক্ষেত্রে কতটা যাচাইবাছাই ও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়?

এমপি হবার আগে তো এ ধরনের কোনো বিষয় শোনা যায়নি। এমন তথ্য থাকলে হয়তো এই ধরনের ঘটনা ঘটতো না বা তাকে নমিনেশন দেয়াও হতো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক চিন্তা ভাবনা করেই নমিনেশন দিয়েছেন। মনোনয়নগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব ভালো মানুষকেই দিয়েছেন। লিটন সাহেবের বিষয়টা হলো এমপি হবার পর উনার কিছু কার্যক্রম, আচার-আচরণ মানুষের চোখে লেগেছে, মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে। এমন ঘটনায় আমরাও যে আঘাতপ্রাপ্ত হইনি তা নয়। তবে আমরা আশা করবো লিটন সাহেবের বিরুদ্ধে সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে, যে ভূমিকা পালন করেছে, সেটা দেখে অন্য মাননীয় সংসদ সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিগণ যারা আছেন তারা সংশোধন হবেন। এ ঘটনা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করবেন। 

দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাকে কীভাবে দেখছেন?

বিদেশি নাগরিক হত্যার বিষয়টা একটু চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন। অতিথিপরায়ণ জাতি হিসেবে আমাদের সুনাম জগৎজোড়া। বাংলাদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের জনগণের একটা চারিত্রিক অনুশীলন হলো বিদেশিদের সম্মান করা। তাদেরকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের প্রতি সহানুভূতি, মায়া-মমতা, ভালোবাসা উজার করে দেয়াটাই কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি। এই জায়গাতে এসে হঠাৎ করে দুজন বিদেশি নাগরিককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, এটা কিন্তু একটা ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। এই ঘটনার গভীরে গেলে নিশ্চয় স্বাভাবিক ভাবেই বলা যাবে যে, যারা সরকারের বৈদেশিক সুনাম, সমর্থন, জনপ্রিয়তাকে পছন্দ করছে না বা সরকারের স্বাভাবিক কাজকর্মে যারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করছেন, সংক্ষুব্ধ মনে করছেন আমি মনে করবো দেশি এবং বিদেশি এই অপশক্তির সমন্বয়ে তাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এই হত্যা সংঘটিত হয়েছে। এটাই আমার বিশ্বাস এবং আমি কারো নাম বলে কাউকে ইন্ডিকেট করে আমি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে চাই না। তবে যারা এই কাজ করেছেন তারা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু এবং জাতিগতভাবেও তারা আমাদের বাঙালি জাতির শত্রু। তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনার জন্য সকলের কাজ করা উচিত এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া দরকার যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের অপকর্ম করার সাহস না পায়।

বিরোধীদলের ৯০ দিন টানা আন্দোলনেও কোনো বিদেশি নাগরিককে টার্গেট করতে দেখি নি তাহলে তাদের কেন দায়ী মনে করা হচ্ছে? এবং বর্তমানে কি এমন হলো যাতে বিদেশিদের টার্গেট করা হচ্ছে?

বাংলাদেশ যখন জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়, বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পুরস্কার পায়, প্রসংশা পায়, বাংলাদেশের দারিদ্র্য, ক্ষুধার্ত মানুষ যখন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান পায়, মানুষের যখন জীবন-জীবিকার উন্নয়ন হয়, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়, মানুষ যখন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়, বিদুৎতের আলোয় আলোকিত হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হচ্ছে সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হচ্ছে এবং এই সরকারের ভিত যখন ক্রমান্বয়ে গণমানুষের মনের মধ্যে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তখন যারা এই সরকারকে পছন্দ করে না, সরকারের সাফলতাকে গ্রহণ করে না বা স্বীকৃতি দিতে চায় ন, সরকারের সফলতার কারণে যারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত মনে করে এটা তাদের কাজ। এই কাজটা কিন্তু অত্যন্ত সহিংস, একইসঙ্গে নিন্দনীয়। এর সাথে কারা জড়িত আছে আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা তথ্য ভাণ্ডার, আপনারা চেষ্টা আর চিন্তা করলেই এগুলো ভালো বুঝতে পারবেন।

বিএনপি অভিযোগ করছে বিরোধীদলকে তার রোল প্লে করতে দেয়া হচ্ছে না

বিএনপি যদি মনে করে যে রাজনীতির অর্থ হলো মানুষ খুন করা, অস্ত্র দিয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়া, প্রেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা, গাছ কেটে, রেল-লাইন উপরে ফেলে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করা। তাহলে তো সেই রাজনীতি কোনো দায়িত্বশীল সরকারই মেনে নিতে পারবে না।তারা যদি সাধারণ রাজনৈতিক কাজকর্ম করতে চান তাহলে কোনো সমস্যা নেই। দেশে কি রাজনীতি হচ্ছে না। বিএনপির ভাইয়েরা কী সুন্দর সুন্দর কথা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, জনসভায়, টকশোতে, মিটিং এ বলছে না? সরকারের সমালোচনা করছে না? দেশে-বিদেশে সবই তো করছে। শুধুমাত্র তারা গাড়ি পোড়াতে পারছে না, মানুষ খুন করতে পারছে না। গ্রেনেড মেরে, বোমা মেরে মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারছে না।  আমি মনে করি যে আমাদের গণতন্ত্রের মধ্যে থেকে রাজনীতি করতে হবে। রাজনীতির নামে সেচ্ছাচারিতা করা যাবে না।

বিএনপির অভিযোগ সভাসমাবেশমিছিল করার জন্য সরকার তাদের সুযোগ দিচ্ছেন না

এখন বিএনপির সমস্যা হয়ে গেছে কি, বিএনপির মধ্যে তাদের যে পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, অবস্থান এগুলো কিন্তু সরকারের সাথেই সাংঘর্ষিক নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও এখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করতে গেলে মারামারি, ভাংচুর ইত্যাদি হচ্ছে। বাংলাদেশের যে জায়গায় তারা সম্মেলন করতে চেয়েছে সরকার তাদের সাহায্যে করেছে কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের কারণে সমাবেশ করতে পারছে না। সম্মেলন করতে পারছে না। তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি জামায়াতের সাথেও তাদের সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তারা তাদের নিরাপত্তা এবং তাদের শৃঙ্খলার ব্যপারের কিন্তু উদ্বিগ্ন। তারা যদি সত্যি সত্যি কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চান, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে না। জনসাধারনের কোনো রূপ ক্ষতি করবে না, জনগনের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে না সেরকম সমাবেশ করতে চাইলে সরকার রেডি তাদের সহযোগিতা করার জন্য।

আপনি বিএনপিকে সম্মেলনে সহযোগিতার কথা বলছেন। কিন্তু বিএনপি বলছে তাদের লক্ষাধিক নেতা-কর্মীকে রাজনৈতিক কারণে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

তাদের এ অভিযোগ মোটেও ঠিকনা। এটা সুনির্দিষ্ট করা উচিত। তারা তালিকা তৈরি করে বলুক যে কতজন মানুষ আসামি হয়েছে এবং কি ধরনের মামলা করা হয়েছে। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক কোনো মামলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এবং সে মামলায় তারা ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে- এই ধরনের অভিযোগ কোনোভাবেই সঠিক নয়। তারা সুনির্দিষ্ট ক্রিমিনাল অফেন্সের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে মামলায় আসামি হয়েছেন। গাড়ি পোড়ানো, লুণ্ঠন করা, রেললাইন উপরে ফেলা, গাছ কাটা এবং অন্যান্য ক্রিমিনাল অফেন্সের জন্য তারা মামলায় আসামি হয়েছেন। কোনো ধরনের হয়রানিমূলক মামলায় তাদেরকে জরানো হয়েছে, আটক করা হয়েছে বলে আমার জানা নাই। তাদের কাছে তথ্য থাকলে তারা সেটা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেন। সে রকম যদি কোনো কিছু হয়ে থাকে, তাহলে সরকার নিশ্চয় সেটা দেখবে।

 

একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হয়েও টালমাতাল অবস্থায় বিএনপি আপনার দৃষ্টিতে বিএনপির এ ব্যর্থতার কারণ কি?

বিএনপির ব্যর্থতার কারণ হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি, জঙ্গিবাদী কাজকর্মের সঙ্গে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করা, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কাছে নিজেদের আত্মসর্মপণ করা। এগুলাই বিএনপির ব্যর্থতার মূল কারণ।দুর্নীতি, সন্ত্রাস, বোমা মারা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) দলের নেতাকর্মীসহ চিরতরে ধংস করে দেয়ার জন্য গ্রেনেড মারা। বিদেশ থেকে অস্ত্র কিনে এনে আরেকটি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, অখণ্ডতা নষ্ট করার কাজে জড়িত গোষ্ঠীকে সহায়তা করা। এরকম আরো অনেক ধরনের অপকর্মের কারণে, অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে, গণবিরোধী, মানবতাবিরোধী কার্যক্রমের কারণেই তারা মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে আজকে তাদের এ অবস্থা এবং এটা তাদের নিজেদের কৃতকর্মেরই ফল। 

একদিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে দেশ কিন্তু অপরদিকে সমাজে অপরাধ, খুন, ধর্ষণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এর মূল কারণ কী বলে মনে করেন?

অপরাধের যে ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিকেটরস আছে সেই জায়গাতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে অনেক অনেক ভালো। আপনি যদি পরিসংখ্যান চান আমি আপনাকে দিতে পারবো। ভারতের চেয়েও আমাদের অবস্থা ভালো। এমনকি আরো অনেক আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে যারা নিজেদের মনে করেন তাদের থেকেও আমাদের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেক ভালো। কারণ আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশ। আপনি যদি সামগ্রিকভাবে একটা চিত্র তৈরি করেন তাহলে দেখবেন আমরা কত ভলো আছি তাদের তুলনায়।

একটা বিষয় আমি বলবো অপরাধ প্রবণতা যেমন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় দলীয়করণ করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসকে দলীয় কর্মকাণ্ডের অংশ করা হয়েছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানের ভেতর দিয়ে যেমন এদেশকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি করে ফেলা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে কিন্তু রাষ্ট্রের জনগণ বের হয়ে এসেছে। সেখান থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে, উত্তরণ ঘটেছে। কিছু কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা ঘটছে। সরকার কোনো দুর্ঘটনাকে কোনো উদাসীনতার চোখে দেখছে না, সাথে সাথেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এটাই একটা দায়িত্বশীল সরকারের আচরণ। আরেকটা ব্যপার অনিয়ম- দুর্নীতি একেবারে হচ্ছে না সেটাও বলবো না। এরকম যেখানে হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারি দল হোক, বিরোধী দল হোক এবং নির্দলীয় লোক যেই হোক না কেন। যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা বড় ধরনের কোনো অভিযোগ আসছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ঠিকই ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এটা একটা শুভ লক্ষণ। আস্তে আস্তে আমরা এসব বিষয়ে অত্যন্ত সফলতা ও সার্থকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

Israfil Alam MP

আপনি অনেক উন্নত রাষ্ট্রের চেয়েও আমাদের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা অনেক ভালো বলে দাবি করছেন কিন্তু গবেষণা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী আমাদের দেশের অতীতের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চিত্রই পাওয়া যায়

না এটা ঠিক না। আগে একসাথে দেশের ৬৩টা জেলায় বিভিন্ন জায়গাতে বোমা হামলা হয়েছ। আমি আপনাকে আরেকটু বলি, ইন্ডিয়াতে প্রতি ১৯ জন মানুষের মধ্যে ১ জন ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে বাংলাদেশে সেখানে প্রতি ৮৯ জন মানুষের মধ্যে মাত্র ১ জন মানুষ অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। আমাদের পাশের দেশ ভারত তারা অনেক উন্নয়নশীল দেশ, বহুদিনের গণতান্ত্রিক দেশ। আমাদের টাইম ইনডেক্স যেটা আছে সেটা দেখে আপনাকে বলবো যে বাংলাদেশ অপরাধ প্রবণতার দিক থেকে পাকিস্তান, মিয়ানমার, ব্যাংকক, থাইল্যান্ডের তুলনায় আমরা অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছি।

আমরা শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের দিক থেকে নিশ্চয় পাকিস্তানমিয়ারমারের সাথে দৃষ্টান্ত হতে চাই না 

তাতে কী। তবুও বললাম, কারণ তারা আমাদের সাথে সাবকন্টিনেন্টের মধ্যে অবস্থান করে। আর আমেরিকাতে যদি একদিন বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাখা হয় তাহলে কি হবে অবস্থা ভাবা যায়।  দেখেছেন তো আমেরিকাতে কিভাবে স্কুলের ভিতরে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্বিচারে খুন করা করা হয়েছে। আমেরিকাতে দেখেছেন কিভাবে ভারি অস্ত্র দিয়ে মানুষ খুন করা হয়েছে। একজন নেতা সাংবাদিকের নিকট সাক্ষাৎকার দিচ্ছে, সেই অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আমেরিকাসহ সেসব দেশে অপরাধীদের তাৎক্ষনিক বা দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্তা নেয়া হচ্ছে আমাদের দেশে অপরাধীরা মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর চিহ্নিতই হয় না

সেটা আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়াতে হয়তোবা কিছু সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের বাংলাদেশের গভরনেন্স সিস্টেমেতো আমরা এখনো সেই অবস্থায় নিয়ে আসতে পারি নি। অল্প একটা জায়গাতে ১৬ কোটি মানুষের বাস। সেটাও তো ভাবতে হবে।

রাজধানীর গুলশানের মতো হাই সিকিউরিটি জোনে সম্প্রতি বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায়ও আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে অনেক সময় নিচ্ছি কেন?

চিহ্নিত হয়েছে। এর আগে সৌদি কুটনীতিকের যে ঘটনা হয়েছে সেটাতেও চিহ্নিত হয়েছে। ইটালিয়ান যে নাগরিকের ঘটনা ঘটেছে এটাও ইনশাল্লাহ মাননীয় সরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন প্রায় কাছাকাছি চলে গেছেন। আশা করছি খুব তাড়াতড়ি শনাক্ত হবে। দেখেন অপরাধ যেখানেই হোক না কেন এগুলো কিন্তু শানাক্ত হচ্ছে এবং বিচার হচ্ছে। বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তারপর আরেকটা বিষয় আমাদের বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কত তাও দেখতে হবে। এগুলো দেখতে হবে। সব কিছু মিলিয়ে কিন্তু আমরা এগিয়ে আছি।

আগে ঢাকা শহরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাস্তানি হতো, দলীয় সন্ত্রাসের কারণে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারতো না, ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যেত। আবার বাংলা ভাইদের জঙ্গিবাদী উত্থানে সমগ্র দেশ প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল। দেশের মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। মানুষ এলাকা, এমনকি দেশছাড়া হয়ে যেতে বাধ্য হতো। আমরা কি সেই জায়গা থেকে অনেকটা সফলতা অর্জন করি নি? এগুলোকে আরো প্রটেক্ট করার জন্য গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে এবং দলীয় রাজনীতির সংস্কৃতিকে আরো গণমুখী করতে হবে, দায়িত্বশীল জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। কারণ গণতন্ত্রের বিকল্প একমাত্র গণতন্ত্রই। সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটাকে আমরা যদি স্মুথভাবে রান করতে দেই তাহলে আমাদের সবকিছুই ইনসাল্লাহ ভালো হবে।

অনিময়দুর্নীতি থামছে না বরং দিনে দিনে বেড়েই চলছে, এটা কিভাবে রোধ করা সম্ভব? 

প্রতিরোধে ব্যবস্থা তো নেয়া হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম-দুর্নীতির বড় ধরনের কোনো খবর আসলেই দুর্নীতি দমন কমিশন সে ব্যপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়মুক্তি বিষয়টি বেশ আলোচিতসমালোচিত। এটি প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে

কারো বিষয়ে যদি সঠিক কোনো তথ্য প্রমাণ না থাকে তাহলে তো কমিশনের কিছু করার থাকে না। কারো ক্ষমতার অপব্যবহারের বিপরীতে যদি কোনো উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ, রেকর্ডপত্র না থাকে তাহলে তাকে আপনি কি করে আটক করবেন। সেটাও একটা বিষয়, আবার আরেকটা বিষয় হচ্ছে সারাবিশ্বে শাসন ব্যবস্থা কিন্তু এখনো দুর্নীতিমুক্ত হয়ে উঠতে পারেনি। যে দেশে যত উন্নয়ন হবে, ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হবে, সে দেশে দুর্নীতিও তত বেশি হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কিন্তু এটা হয়। তবে একটা সময়ে গিয়ে এটা কন্ট্রোল হয়ে যায়। আবার আপনারা দেখবেন যে কিছু কিছু বিষয় ম্যানেজ হয়ে যায়।  আপনারা দেখবেন যে আনম্যানেজেবল কোনটা।  সেগুলো কিভাবে হ্যান্ডেল করা হচ্ছে। ইনশাল্লাহ সবকিছুই সরকারের সুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। সরকার সঠিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে এসব আওতায় নিয়ে আসছে। আওতার বাইরে কিন্তু কোনো কিছু নাই।

জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে সরকারেও আছে বিরোধীদলেও আছে গণতন্ত্রে এমন ডাবলরোল প্লের নজির আছে কি?

আছে। পৃথিবীর আরো বহুদেশে এমন নজির আছে। জার্মানিতেও আছে। তবে ঘটনা হলো বিরোধীদল মানে নবম পার্লামেন্টে বিরোধীদলের যে চেহারা আপনারা দেখেছেন তা নয়। আমাদের পার্লামেন্টের মাননীয় নারী সংসদ সদস্যরা এবং আমাদের কিছু সংসদ সদস্য ভাইয়েরা যে আচরণ-আচরণ, বক্তব্য, যে অঙ্গভঙ্গির ভাষাচার এটা কোনো পার্লামেন্টের কালচার হতে পারে না। সেদিক থেকে বর্তমান পার্লামেন্টে বিরোধীদল যারা আছেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যও আছেন, মহাজোটের সংসদ সদস্যরাও আছেন, সরকারের সাথে জোটবদ্ধরাও আছেন। কিন্তু আপনি দেখবেন পার্লামেন্টে তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার ক্ষেত্রে বিরত নেই। সরকারের বিরুদ্ধে তারা সুন্দরভাবে সমালোচনা করে থাকেন। জাতীয়পার্টি থেকে কেবিনেটে গেছে বলে যে সমালোচনা হচ্ছে না তাতো নয়। জাতীয়পার্টি কি সমালোচনা করছে না?

সংবিধান অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে সংসদ সদস্যপদ থাকে না জাতীয় পার্টি বিরোধীদল হিসেবে সরকারের কোন বিলের বিরোধিতা করে না ভোট প্রদান করলে যারা মন্ত্রীপরিষদে আছেন তারা তো তার দলের পক্ষে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে এই যে ডাবলগেম

ভোট দেয়ার মতো যদি ঘটনা হয় তাহলে অবশ্যই ভোট দিবে। না দেয়ার মতো হলে দিবে না। ভোটদান থেকে বিরত থাকবে। এখানে আমি আপনাকে একটা কথা বলি- জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আমাদের মনোনীত সদস্য নয়। ফলে তারা আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নাও হতে পারে। সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় পার্টি থেকে সরকারে আছে মাত্র দুই জন। এর বাইরেও সংসদে জাতীয় পার্টির অনেক সদস্য আছে। সংসদের বিলে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে এ দুজন একটু ভেবেচিন্তে দিলেই হয়। আমাদের সংবিধানে আর্টিকেল ৭০ এ বলা আছে সংসদে ফ্লোরক্রসিং করলে, মানে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ সয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তারা তো আওয়ামী লীগের মেম্বার না। সুতরাং তারা বিলের বিপক্ষে ভোট দিলেও তাদের সদস্যপদ যাবে না।

সরকারবিরোধীদল আবার বিরোধীদলে থেকে সরকারের মন্ত্রী একটা অবস্থা এর থেকে উত্তরণের উপায় কী?

কোন হযবরল অবস্থা নেই। আমাদের বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতির নামে মারামারি, হানাহানি, হরতাল-অবরোধ, জালাও-পোড়াও, ভাঙচুর এসবই দেখেছে। এটা পলিটিক্স এবং গণতন্ত্রের পার্ট হতে পারে না। গণতন্ত্রের কোথাও সহিংসতার কথা বলা নেই। কোথাও জালাও-পোড়াও, ধ্বংসাত্বক কর্মকাণ্ডের স্থান নেই। আমরা ভুল করেছি বলে কি সারাজীবনই ভুল করে যাব। বিরোধিতা তো গঠনমূলকভাবেও করা যায়। সরকারের সমালোচনা কি এখন হচ্ছে না। এই যে মিডিয়াগুলোতো বিরোধীদলের ভয়েজ হিসেবে, অর্গান হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। টকশোতে গঠনমূলকভাবে সরকারের জোড়ালো সমালোচনা হচ্ছে। সহনশীল পর্যায়ে থেকে তথ্যবহুল বিরোধিতা হতেই পারে।

গণতন্ত্রে সহিংসতার জায়গা নেই কিন্তু সহিংসতার প্রধান উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখে হরতাল কোনো সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে হরতালকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় না কেন?

সমস্যা হরতালে নয়। সমস্যা হলো আমাদের প্র্যাকটিসে। আপনি দেখুন, হরতাল দিলেই রাস্তায় গাড়ি চলতে পারবে না এই বাধা দেয়ার অধিকার আমার নেই। আমি হরতাল আহ্বান করার অধিকার রাখি। আবার সে হরতাল মানা না মানার অধিকারও জনগণ রাখে। তাকে আপনি হরতাল পালনে আহ্ববান জানাতে পারেন, কিন্তু বাধ্য করতে পারেন না। আমাদের এই জোর জবরদস্তি করা, বাধ্য করার ট্র্যাডিশান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। অতীতে আমাদের দেশে ৮-১০ বছরের মেয়েকে বিয়ে দেয়া হতো। এখন কি দিতে পারে? ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়েকে বিয়ে দিতে গেলেই আইনগতভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে তার পরিবার। আগে একজন মানুষ ৪/৫ টাও বিয়ে করতো। এখন কি তা করে। যারা এমন করবে তহাদের জন্য আইন লাগবে না। সমাজই তাদের বয়কট করবে। আগে মোল্লারা সমাজ চালাতো। ফতোয়া দিয়ে শালিস দরবার চালানো হতো। সেগুলো কি এখন সম্ভব? এই যে বিবর্তনের ধারায় পরিবর্তন হচ্ছে, এটাকে মেনে নিতে হবে। এখন মানুষ জালাও-পোড়াও, সন্ত্রাস-সহিংসতা পছন্দ করে না। সুতরাং জাতি হিসেবে আমাদেরকেও পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি পিছনের দিকেই থাকি তাহলে জাতি হিসেবে, রাষ্ট্র হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রম্ত হবো। সমাজ-রাষ্ট্র এবং বিশ্ব ব্যবস্থা কি চায় তা মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

অভিযোগ আছে মাঠের বিরোধীদল বিএনপিকে তার রোল প্লে করতে দেয়া হচ্ছে নাসরকার কি এখন হার্ডলাইনে আছে, নাকি শুরু থেকেই হার্ডলাইনে ছিলো?

এটা বিএনপির আচরণের ওপর নির্ভর করবে। মাঠের বিরোধীদল যেমন আচরণ করবে, সরকার সে মোতাবেক ব্যবস্থা নিবে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, জনগণের নিরাপত্তা দেয়া। বিএনপি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে যে আচরণ করেছে, তা জননিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলেছে। ফলে সরকারকে বাধ্য হতে হয়েছে কঠিন থেকে কঠিনতর হতে। আপনি দেখেন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এগিয়ে গেল। আমরা কেন পিছিয়ে গেলাম? তাদের ওখানে কোনো হরতাল আছে? মিছিল আছে? জালাও-পোড়াও, ভাঙচুর আছে?

উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে সরকারের বিরুদ্ধে সামান্য মানববন্ধন, সভাসেমিনারের মাধ্যমে প্রতিবাদ করলে তা গুরুত্বসহকারে আমলে নেয়া হয় আমাদের দেশে কী তা হয়?

হয়না, হবে। কিন্তু সেসব দেশে সরকার বিরোধীদের মুখও খুলতে দেয় না। মাহথির মোহাম্মদ যিনি কিনা আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক, তাকে পর্যন্ত কথা বলতে দেয়া হয় না। যখনি কিছু বলতে চেয়েছে, সরকার থামিয়ে দিয়েছে। বলেছে, আমাকে কাজ করতে দাও। আমি চুরি করি, ডাকাতি করি আমার কাজের ভালো-মন্দ বিচার হবে পরবর্তী নির্বাচনে পাঁচ বছর পর। সেটা জনগণ মুল্যায়ন করবে। তার আগে তোমার বলার রাইট নাই। জাতীর বিবেক হিসেবে মাহথির মোহাম্মদ কথা বলেছিল। কিন্তু এখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়ে গেছে। বিষয়গুলো আমাদেরও বুঝতে হবে। খালেদা জিয়া ঘরে বসে থেকে মানুষ মারা, জালাও-পোড়াও ও ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপে নেতৃত্ব না দিয়ে বরং প্রেস কনফারেন্স, সভা-সেমিনার করে যদি জেলায় জেলায় কাউন্সিল করে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতো সেগুলো আরো বেশি কার্যকরী হতো। ভাঙচুরের রাজনীতি করে বিএনপি সরকারের চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রম্ত হয়েছে। বিএনপি চরমপন্থি দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জনগণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে একের পর এক সুবিধা দিয়ে যাচ্ছি আর তারা সীমান্তে আমাদের ওপর গুলি চালিয়ে যাচ্ছে যখন তখন আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করছে এগুলো আমাদের স্বধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি নয় কি?

সীমান্ত সমস্যা সারা পৃথিবীতেই আছে। এখন আমাদের একদিকে সমুদ্র আর তিন দিকেই ভারত। আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব, ধর্মীয়, সামাজিকতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার দিকে দিক থেকে ভারতের সাথে আমাদের একটা নৈকট্যের সম্পর্ক আছে। এর ফলে যে পরিমান মানুষ ভারত বাংলাদেশ বর্ডার ক্রস করে তা পৃথিবীর আর কোথাও হয় না। এখন আপনি যদি অবৈধভাবে বর্ডার ক্রস করেন, সেক্ষেত্রে তো সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদারা আক্রান্ত হতে পারেন। সেই সময় কিছু মানুষ গুলিবিদ্ধ হয় বা মৃত্যুবরণ করে। এখন কথা হচ্ছে, আমরাই বা কেন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে যাব। চিনি, লবন, মাদকদ্রব্য বা অন্য পণ্য স্মাগলিং করে আনবো। ভারতের জনগণই বা কেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সায় দিবে?

হতেপারে কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত ক্রস করছে কেউ বা স্মাগলিং করছে কিন্তু একজন অপরাধীরও মানবাধিকার আছে বেসামরিক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা বা ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করার তো আইন নেই?

সীমান্ত এমন একটি ব্যপার যে, একটি দেশের বিমানও যদি সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলে, তাহলে কিন্তু গুলি করে সেই বিমান পর্যন্ত ভূপাতিত করে ফেলা হয়। এখন আমার কথা হলো অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের প্রবণতাটা আমাদের বন্ধ করতে হবে। তাহলে সীমান্তে এই হত্যা-নির্যাতন কমে যাবে। পাশাপাশি ইন্ডিয়ার সাথে বাংলাদেশের শুরু থেকেই একটা বন্ধুপ্রতিম, ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আছে। নিয়মিত তাদের সাথে বৈঠক হচ্ছে, এসব বিষয়ে কথা হচ্ছে। কুটনৈতিক আলোচনা হচ্ছে। ফলে এসব দিক থেকে আগের তুলনায় সমস্যা কমে আসছে।

আমাদের দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন?

মানবাধিকার বিষয়ে আমি বলবো, এখানে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে, পেশাগত স্বাধীনতা আছে। কেউ অপরাধ করলে তার আইনগতভাবে বিচার হচ্ছে। কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হয় তাহলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার দারস্থ হতে পারে। সব মিলিয়ে আমি বলবো যে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় অনেক ভালো এবং ক্রমান্বয়ে উন্নতি হচ্ছে। কারণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা যত বাড়বে, মানবাধিকারের চেতনা তত বাড়বে। মানবাধিকারের ধারনাও তত পরিবর্তন হবে।

আপনি বলছেন মানবাধিকার অতীতের তুলনায় ভালো কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা আসক ও অধিকারের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিনিয়তি হত্যা, গুপ্ত হত্যা, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ জামিতিক হারে বাড়ছে

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজই হচ্ছে, মানবাধিকার পরিস্থিতির খারাপ দিকগুলোকে একত্রিত করে তুলে ধরা। একটি সরকারের যে আরেকটি ভালো রূপ থাকে, উন্নয়ন অগ্রগতির বিষয়গুলো কিন্তু তারা কখনো বলে না। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় হাজার হাজার গুন ভালো। আমি দূরে যাবো না। আমাদের পার্শ্ববর্তী পাকিস্তান, মিয়ানমার, ইন্ডিয়ার দিকে তাকান। সেখানে গত দু’বছরে কতগুলো সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয়েছে? ইউরোপ আমেরিকায় কী হচ্ছে দেখুন। স্কুলে ঢুকে গুলি করে ছাত্র-ছাত্রীদের হত্যা করা হয়েছে। একটি সংবাদ মাধ্যমের অফিসে ডুকে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আফ্রিকার কথা চিন্তা করেন। আইএস দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কি করা হচ্ছে। সে তুলনায় চিন্তা করে দেখুন, আমাদের দেশতো বিচ্ছিন্ন কোনো দেশ নয়। সার্বিক দিক বিবেচনায় আমি মনে করি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, আইনের শাসনের পরিস্থিতি অনেক উন্নত, অনেক অনেক ভালো। যদি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো না হতো তাহলে উচ্চ আদালতে রিট হতো। আপনি আদালতে গিয়ে দেখেন, কয়টা রিট হয়েছে। আপনি যে হত্যা-গুম-অপহরণের কথা বলছেন সত্যি সত্যি যদি সেটা হয় তাহলে তার থেকে প্রতিকারের দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু কেউ যদি নিজে থেকে হারিয়ে যায় বা বিভিন্ন ভাবে মিসিং হয়, সবতো আর সরকার উদ্ধার করতে পারবে না। এই যে সালাহউদ্দিন আহমেদ সাহেব হারিয়ে গেলেন শুনলাম। কিন্তু তাকে পরে পাওয়া গেলো ইন্ডিয়ায়। অনেকে আবার হজের ভিসা নিয়ে, বিদেশে যাওয়ার ভিসায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে চলে যান। যাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা। পুলিশের মামলা, গ্রেনেডের মামলা, বোমার মামলা, রেল লাইন উপরে ফেলার মামলা, গাছ কাটার মামলা। এদেরকেও যদি বলা হয় হারিয়ে গেলে তাহলে তো গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

আমি আসলে গুপ্ত হত্যার শিকারদের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছিলাম?

না, এখানে সমস্যা আছে। আসলে নিজে থেকে গিয়ে বসে আছে, আর দাবি করা হয় যে হারিয়ে গেছে। তারা সৌদি আরবে, মালয়শিয়াতে গিয়ে আত্মগোপন করে আছে। খবর নিয়ে জানতে পারলাম যারা আগুন সন্ত্রাসের সাথে জড়িত তাদের অধিকাংশ মালদ্বীপে গিয়ে বসে আছে।

৫৭ ধারা বর্তমানে আমাদের দেশে বেশ তর্কিতবিতর্কিত একটি বিষয় আপনি আইনপ্রণেতা, আইনের ছাত্রও ছিলেন গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক জায়গা থেকে মূল্যায়ন করতে বললে কী বলবেন?

দেখুন ৫৭ ধারা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে একটি আইন। এটি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছে। যদি এটা সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতো তাহলে কেউ না কেউ এটা আদালতে চ্যালেঞ্জ করতো। কেউ এখনো এটা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেনি।

আপনার জ্ঞাতার্থে বলছি, ৫৭ ধারা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে ইতোমধ্যে একাধিক রিট হয়েছে

রিট যদি হয় তাহলে আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে। এ আইন যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি হয় তাহলে সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দিবেন। তখন আমরা প্রয়োজনে এটা সংশোধন করবো। রিট হয়েছে হোক। দেখা যাক ফলাফল কী আসে।

সরকার পক্ষ এবং সমর্থকগণ ৫৭ ধারাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। আর বিরোধীরা সমালোচনা করছেন। কিন্তু গনেশ উল্টে গেলে কী হবে?

এখন যারা এর পক্ষে আছে, তখন তারা ভিকটিমাইজড হবে। বিএনপি অনেক আইন করে গেছে। আমরা সেসময় প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন সেসবের প্রভাবে ভিকটিমাইজড হচ্ছে বিএনপি। যেমন ৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের সমালোচনা করেছেন সবাই। অনেক সরকার আসা-যাওয়া করেছে কিন্তু কেউ তা বাতিল বা পরিবর্তন করেননি। বরং ঐ আইনেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বেশি সাফার করতে হয়েছে। এরপর জন নিরাপত্তা আইন বলেন, দ্রুত বিচার আইন বলেন সবগুলোর ক্ষেত্রেই এক অবস্থা।

বিরোধীদলের দাবি আপনারা ৫% ভোটে নির্বাচিত সরকার আপনারা বলছেন আরো বেশি কিন্তু এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার ৫ বছর দায়িত্ব পালন নৈতিকভাবে কতটা যুক্তিযুক্ত?

একজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আলোচনায় বলেছিলেন, ‘দুজন মানুষ নির্বাচনে প্রার্থী। একজন প্রার্থী হতে গিয়ে সরে আসছে। সরে আসছে এই কারণে যে, তিনি বুঝতে পারছিলেন হেরে যাবেন। তখন ভাবলেন হেরে গিয়ে লজ্জা পাওয়ার চেয়ে সরে দাঁড়ানোকে শ্রেয় মনে করেছেন। নির্বাচন থেকে সরে এসে দাবি করলো, ভোট ফেয়ার হয়নি।’ তখন তিনি যুক্তি দেখিয়ে বললেন- দেখ তুমি যেহেতু ভোট করোনি। সুতরাং তোমার এর বিরুদ্ধে সমালোচনা করার কোনো রাইট নেই। বরং মেনে নিতে হ যে, প্রতিপক্ষ প্রার্থীই শতভাগ ভোট পেয়েছে।

এখন আমার কথা হচ্ছে বিএনপি ভোটে অংশগ্রহণ করে যদি এই দাবিটা করতো, তাহলে সেটা সঠিক ছিল। কিন্তু তারা ভোটে অংশ না নিয়ে এবং উল্টো ভোট বানচালের জন্য, প্রতিরোধের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করলো। সারাদেশে জালাও-পোড়া, গোলা-গুলি করে ধ্বংসাত্বক কর্মকাণ্ড করলো। এখন যদি তারা এসে বলে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা পাঁচ পার্সেন্ট, দুই পার্সেন্ট- সেটা হাস্যকর। তারা মাঠে নামে না কেন? মূলত তাদের ডাকে জনগণ সাড়া দেয় না। কোনো এলাকায় গিয়ে সভা-সমাবেশ আহবান করলে তাদের নেতাকর্মীরা হাজির হয় না।

তাদের অভিযোগ সরকার তাদের মিছিলমিটিং, সভাসমাবেশ করতে দিচ্ছে না নেতাকর্মীদের মামলাহামলা দিয়ে হয়রানী করছে জেলে পুরে রেখেছে 

আমাদের কথা হলো, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়েছে। যে কারণে তারা এখন একটি গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল। বর্তমানে তাদের কোন জনসমর্থন নাই, জন সম্পৃক্ততা নাই। তারা এখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দে লিপ্ত হয়ে গেছে। বিএনপি আর যাই হোক, নির্বাচনী লড়াইয়ে বা কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রাখতে পারবে না।

বিএনপি সভাসেমিনার এবং বিবৃতিতে অভিযোগ করছে, সরকার পুলিশি রাষ্ট্র কয়েম করেছে পুলিশের মাধ্যমে বিরোধীদলকে রাজনীতির মাঠে কোথাও দাঁড়াতে দিচ্ছে না

এটা তাদের রাজনৈতিক অভিযোগ। রাজনৈতিকভাবে তারা এমন অভিযোগ করতেই পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। কর্ণেল অলি আহমেদ সাহেব ওনার দলের সম্মেলন আহবান করেছেন। কাদের সিদ্দিকী সাহেব দীর্ঘদিন মতিঝিলে ওনার অফিসের সামনে কর্মসূচি পালন করেছেন। পুলিশ তো তাকে বাধা দেয় নি। তিনি কর্মসূচীর নামে সরকারে বিরুদ্ধে মারাত্বক মারাত্বক কথা বছেন। কউ পুলিশ তো তাকে ধরে নিয়ে যায়নি। বিএনপিকে তাড়ায় কেন। বিএনপিকে এখন মিছিল করার সুযোগ দিলেই বোমা ফাটায়। আন্দোলন করার সুযোগ দিলেই গাড়ি পোড়ায়। মানুষজন মারে। এ কারণে পুলিশ তাদের বিষয়ে একটু অ্যালার্ট থাকে।

সংসদ নির্বাচনে আপনার আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

আমার আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি।

আপনি ভোটের মাধ্যমে নবম সংসদেও সদস্য ছিলেন দশম সংসদেও ভোটারবিহীন সদস্য হয়েছেন ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে বসতে কোনো মানসিক যন্ত্রণা কাজ করে কি?

না, না। এটা ভোটারবিহীন নির্বাচন বলা যাবে না। কারণ এ নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ইলেকশান ল অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আব্দুল হামিদ সাহেব পার্লামেন্টের মেম্বারদের দ্বারা নির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি। ওনার বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ায়নি বলে তিনি কী নির্বাচিত না। আমাদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচিত স্পিকার। ওনার বিরুদ্ধে কেউ স্পীকার পদে দাঁড়ান নি। তাহলে এর অর্থ কী এই যে ওনাকে কেউ ভোট দেন নি। তিনি অনির্বাচিত।

আমাদের সংসদে ১৫১ আসনে জয়ী হলে সরকার গঠন করা যায় সেখানে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে এটা কী ব্যতিক্রম নয়?

আমি যেটা বলেছি আপনি সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। আমাদের নির্বাচনী আইনে প্রভিশান হচ্ছে, নির্বাচনে কেউ প্রতিদন্দ্বিতা করতেও পারে, আার নাও করতে পারে। সময় হলে নির্বাচন আহবান করা হবে। তখন যদি কেউ নির্বাচনে না আসে তাহলে কী নির্বাচন বন্ধ করে রাখবে। রাখবে না। কারণ সময় তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যেহেতু কেউ প্রার্থী দেয়নি সেহেতু বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে গেছে। সংখ্যা নিয়ে কিছু যায় আসে না। আমাদের নির্বাচনী আইনে একাধিক প্র্রার্থী হতেই হবে বা কাউকে জোড় করে নির্বাচন করাতে হবে এমন কিছু নেই। সুতরাং এটাকে অবশ্যই নির্বাচন বলতে হবে।

ভবিষ্যতে যদি অন্যরাও এমন ভোট করে সরকারে বসে তখন কেমন লাগবে?

এটা জনগণের অধিকার, তাদের ইচ্ছের উপর নির্ভর করবে। তাদের নিজস্ব চিন্তার বিষয়। নির্বাচনের মাধ্যমে যদি অন্য কেউ সরকার গঠন করে তা হলে তা আমাদের মেনে নিতে হবে।

আমাদের সরকারবিরোধীদল পরস্পর দোষারোপের খেলা চলমান বেরিয়ে আসার উপায় কী?

দোষারোপ করতে পারে। দোষারোপের ভাষা, সমালোচনার ভাষা, বিরোধিতার ভাষাগুলো যেন গঠনতান্ত্রিক হয়। সুন্দর হয়। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং বিরোধিতার উপাদানগুলো যেন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। সৃজনশীল হয়। এটাই হচ্ছে রাজনীতির শিষ্টাচার। আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার ও শিষ্টাচারের সর্বোচ্চ স্তরই হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতি থেকে শিষ্টাচার উঠে গেলে সে রাজনীতি আর জনগণের রাজনীতি থাকবে না। সে রাজনীতি আর জাতিকে পথ দেখাতে পারবে না। সে জন্য আমি অনুরোধ করবো, যে যেই দল থেকেই যারই সমালোচনা করেন না কেন শিষ্টাচার, সৌজন্যতা ও সৃজনশীলতার মধ্যে থেকে সমালোচনা করবেন।

আজ/এএফ/এমকে/এইচকে/১০৩

ফেসবুকে আজ facebook/aaj24fan