ঢাকা, শুক্রবার , ২৪ নভেম্বর ২০১৭, | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ | ৫ রবিউল-আউয়াল ১৪৩৯

বিশ্বকে আরো সুন্দর করার জন্য কাজ করছেন যে ১০০ ব্যবসায় স্বপ্নদ্রষ্টা

171802main-creators-ss-page

পুঁজিতন্ত্র শুধু শোষণের হাতিয়ার নয় বরং মানব কল্যাণেও কাজ করতে পারে এবং তা করা উচিতও। সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডার “ইনসাইডার হান্ড্রেড : দ্য ক্রিয়েটর্স” শিরোনামে বিশ্বের এমন শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেছে যারা মানব কল্যাণকেই তাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
অনেক র্যাঙ্কিংয়েই শুধু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সাফল্যকে বিচেনায় রেখেই তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু বিজনেস ইনসাইডারের সিইও হেনরি ব্লডগেট তার উল্টো দিকে ফোকাস করেছেন।
গত কয়েকমাস ধরে তিনি এমন সব উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী ব্যবসায় নেতাদের তালিকা করেছেন যারা শেয়ারহোল্ডার, কর্মী, খদ্দের এবং সমাজের জন্যও কাজ করছেন।
“বিজনেস ইনসাইডার হান্ড্রেড : দ্য ক্রিয়েটর্স” শিরোনামের ওই তালিকাভুক্তরা হলেন:
১০০. আন্দ্রেস ফরগ্যাকস
কৃত্রিম উপায়ে বায়োফেব্রিকেশন পদ্ধতিতে মাংস ও পশু চামড়া উৎপাদনের লক্ষ্যে মডার্ন মিডো নামের কম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। আগামী কয়েক দশকে পৃথিবীর জনসংখ্যা ১ হাজার কোটিতে উত্তীর্ণ হওয়ার ফলে অতিরিক্ত মাংসের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি এই কম্পানিটি স্থাপন করছেন। ২০১৮ সালে তার কম্পানির উৎপাদিত পণ্য বাজারে আসবে বলে ধারণা করনা হচ্ছে।
তার এই উদ্যোগের ফলে পশুপালনে আগের চেয়ে ৯৯% কম ভুমি ব্যবহার, মাংস উৎপাদনে ৯৬% কম পানি খরচ, ৯৬% কম গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমণ এবং ৪৫% কম শক্তি ব্যয় হবে।
৯৯. জেসিকা অ্যালবা
২০১১ সালে অভিনয় ছেড়ে ব্যবসায় নাম লেখান হলিউড অভিনেত্রী জেসিকা অ্যালবা। তিনি দ্য অনেস্ট কম্পানি নামে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। পরিবেশ এবং প্রাণ ও প্রকৃতি বান্ধব গৃহস্থালি এবং প্রসাধনী পণ্য উৎপাদনই এর লক্ষ্য। তবে কম্পানিটির বিরুদ্ধে এর উদ্দেশ্যের বিপরীতভাবে পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১২ সালে অভিযোগ করা হয় আগের মতোই প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য ধ্বংসাত্মক উপায়েই পণ্য উৎপাদন করছে দ্য অনেস্ট কম্পানি। জেসিকা অ্যালবা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
৯৮. ডেভিড রেইস
বিশ্বের সবচেয়ে বড় থ্রিডি প্রিন্টিং কম্পানি স্ট্র্যাটাসিসের সিইও ইনি। কম্পানিটি পেশাদার প্রিন্টার উন্নয়ন ও উৎপাদন করে। এছাড়া কম্পানিটি এমন সব কাঁচামাল উৎপাদন করে যেসব দিয়ে কারখানার যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে বিমানের যন্ত্রাংশসহ সবকিছুই বানানো সম্ভব। ২০১২ সালে থ্রিডি প্রিন্টিং জগতের আরেকটি কম্পানি অবজেক্ট এর সঙ্গে একীভুত হয় কম্পানিটি।
৯৭. ফ্র্যাঙ্ক ওয়াং
দাজিয়াং ইনোভেশন টেকনোলজির (ডিজেআই) সিইও। এটি একটি ড্রোন উৎপাদক কম্পানি। ৮ বিলিয়ন ডলারের কম্পানিটির বাৎসরিক বিক্রির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলার। ছোট বেলায় উড়ন্ত ক্যামেরা বানানোর স্বপ্ন দেখতেন ওয়াং। আর সে স্বপ্ন থেকেই ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ২০০৬ সালে ডিজেআই প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ২০১৩ সালে কাস্টমারদের জন্য প্রথম পণ্যবাহী ড্রোনটি বানান তিনি। কম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ড্রোন বাজারের ৭৫% দখল করে রেখেছে।
৯৬. জোনাহ পেরেট্টি
বাজফিডের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। কম্পানিটি এর অনন্য এবং উচ্চ শেয়ারযোগ্য ক্যাট স্লাইড শো, কুইজ এবং সময় ক্ষেপণকারী রান্নার ভিডিওর জন্য বিখ্যাত। ইন্টারনেট দুনিয়ায় এর গল্প এবং ভিডিওগুলোর অবিশ্বাস্যরকমভাবে বিশাল ভোক্তা বাজার রয়েছে।
৯৫. মাইকেল প্রেইজম্যান
এভারলেনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। ২০১১ সালে মাত্র একটি টি শার্ট নিয়ে এই অনলাইন পোশাক দোকানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে কম্পানিটির একটি পণ্য বাজারে আসার আগে অন্তত ১২ হাজার ক্রেতা অপেক্ষা থাকেন।
৯৪. বেন হারভাটিন এবং জোনাথান লিন
জল্ট অ্যাথলেটিকস এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। বেন হারভাটিন এমআইটিতে রেসলিং খেলার সময় মাথায় আঘাত পেয়ে অচেতন হওয়ার মতো মস্তিষ্কের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপরও তিনি খেলা অব্যাহত রাখেন। যার ফলে পরবর্তী কয়েকমাস তিনি মাথা ঘোরা এবং বমি বমি ভাবে আক্রান্ত হন। এবং বেশ কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয় তাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, আঘাত এবং ট্রমার কারণে মস্তিষ্কের সংক্ষিপ্ত এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যয়কর ক্ষতি হয়। আর ওই ক্ষতি নির্ণয়ের জন্যই হারভাটিন তার এমআইটির দুই বন্ধুসহ ক্রীড়া বান্ধব পরিধানযোগ্য সেন্সর এবং কম্পেনিয়ন সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেন ২০১৪ সালে। এর উৎপাদন এবং বিক্রির জন্যই তারা প্রতিষ্ঠা করেন জল্ট অ্যাথলেটিকস।
৯৩. তাদাশি ইয়ানানি
ফাস্ট রেটেইলিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান এবং সিইও। পোশাক শিল্পের বিশ্বের সবচেয়ে বড় কম্পানিগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ফাস্ট রেটেইলিং। ১৯৮৪ সালে বাবার পোশাক কম্পানির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাদাশি। সেসময় এর মাত্র ২২টি দোকান ছিল। তিনি জাপানে তার ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর প্রথম দোকানাটি চালু করেন। বর্তমানে বিশ্বের ১৭ দেশে ব্র্যান্ডটির ১৭০০ দোকান রয়েছে।
৯২. ব্র্যাড কাটসুইয়ামা
আইইএক্স গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প পদ্ধতিতে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করার জন্য তেরি করনা হয়। এটি বিনিয়োগকারী এবং ব্রোকারদের জন্য একটি বিকল্প বাণিজ্যিক ভেন্যু হিসেব কাজ করে।
৯১. ক্রেইগ ভেন্টার
হিউম্যান লঞ্জেভিটি ইনকর্পোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাত, সিইও এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান। ডিএনএ ও জিন নিয়ে গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।
৯০. অলিভার খারাজ
জকডক এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। রোগীদেরকে তাদের জন্য সঠিক ডাক্তারটি খুঁজে দেওয়ার কাজ করে এই কম্পানি। (চলবে)