ঢাকা, রবিবার , ১৯ আগস্ট ২০১৮, | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ | ৭ জিলহজ্জ ১৪৩৯

ময়নার বাবার গলপ এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

যদিও এই গুজব সম্পর্কিত গল্পটি অনেক আগের তবুও এইবারের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এর শেষ পর্যায়ে এসে গল্পটি খুব ই প্রাসঙ্গিক!
এক লোক ১৩ তলা বিল্ডিং এ কাজ করছিল। এমন সময় একজন দৌড়ে এসে খবর দিল, মফিজ ভাই, ভাই, তোমার মেয়ে ময়না মারা গেছে! লোকটা চিৎকার করে উঠলো- না আ আ আ! এ হতে পারে না! বলেই ১৩ তলা থেকে লাফ দিলো!

যখন ১০ তলা পর্যন্ত আসলো তখন মনে পড়লো আরে আমার তো ময়না নামে কোন মেয়েই নাই! যখন ৫ তলা পর্যন্ত আসলো তখন মনে পড়লো আরে আমার তো বিয়েই হয় নাই!

যখন মাটিতে পড়বে তার আগ মুহূর্তে মনে পড়লো- আরে! আমার নামই তো মফিজ না!!!

এবার প্রসঙ্গে আসি, বাংলাদেশে একজন ও মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা যে কিনা এই আন্দোলন এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে, সে সরকারী দলের হোক বা বাইরের কেউ হোক।
বাংলাদেশের পরিবহন মালিক দের পৃষ্ঠ পোষকতায় বাস গুলি এমন ভাবে মানুষ কে জিম্মি করে রেখেছে যে এই আন্দোলন টা যৌক্তিক ভাবেই দরকার ছিল। যদি ঢাকার সব বাস ও পুড়িয়ে ফেলা হত তবে আমার মনে হয় একজন সাধারণ মানুষ ও তার বিরধিতা করত না। কারন এরা এতই বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি নিজে গত ৬ মাসে দুই টা বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছি।
এমনকি বাস এর ড্রাইভার হেল্পার দের সাথে কোন বাক বিতন্ডা হলে মালিক সমিতির লোক দিয়ে মার এর ঘটনা ও আমি দেখেছি।
তাই কোন ভাবেই এই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার সুযোগ নাই।

আন্দোলন শুরু হবার পর থেকেই আমরা সবাই বাচ্চাদের পক্ষে ছিলাম, এরকম আন্দোলন যতবার হবে আমরা পক্ষেই থাকব এতে কোন সন্দেহ নাই। আন্দোলন এর প্রাপ্তি যদি চিন্তা করি তবে সেটা অনেক বিশাল। এই আন্দোলন আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যারা আইনের রক্ষক তাদের গাড়িতে লাইসেন্স থাকেনা। আমি যতবার ক্যান্টনমেন্ট এরিয়াতে গেছি আমাকে ১০০ ভাগ আইন মানতে বাধ্য করা হয়েছে, ভুল করার কোন সুযোগ নাই অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের পোষাক কে লাইসেন্স বানিয়ে ঘুরছে ! এরকম হাজারো অসঙ্গতি আমাদের সামনে এসেছে। আমরা দেখেছি আন্দোলন এর মধ্যে ও দায়িত্বশীল লোকদের আইন ভঙ্গের নিদর্শন! ওরা ট্র্যাফিক পুলিশ কে দেখিয়ে দিয়েছে কেমন করে রাস্তার পরিবেশ সু শৃঙ্খল রাখা সম্ভব।

এর থেকে বেশি কিন্তু ওদের থেকে আমরা আশা করতে পারিনা! সরকার যখন ঘোষণা দিলো তারা সকল দাবী মেনে নিয়েছে, তখন ও আমরা আরও বেশি করে উস্কে দিতে থাকলাম।
আমাদের আসলে বাচ্চাদের আন্দোলন থেকে কি প্রত্যাশা ছিল?? ওরা তিন দিনে দেশ ঠিক করে ফেলবে??
তাহলে আমরা পরবর্তীতে ওদের সাথে থেকে সরকার এর থেকে বুঝে নিলাম না কেন কি করে তারা দাবী মেনে নিল, কতো দিনে তার সুফল দেখা যাবে? তার খসড়া কি হবে।

আমরা তো ওদের মাথার উপর দিয়ে যায় এমন প্ল্যাকার্ড ও ওদের ধরিয়ে দিয়েছি পিছন থেকে! ডান বাম সব দিক থেকেই প্ল্যাকার্ড এসেছে সেটা অনেক প্ল্যাকার্ড এর ভাষা দেখে ই অনুমান করা যায়! পুলিশ কে একের পর এক গালি গিয়ে উত্তেজিত করার প্রয়াস ও কিন্তু কোন না কোন কুশিলব দের কাজ ছিল, তার পরেও পুলিশ কিন্তু নিরব ছিল, দুইএক জায়গায় বাস ভাংচুরের প্রতিরোধ করেছে, সেখানে ধাওয়া পালটা ধাওয়া লাঠি চার্জ হয়েছে, আমি নিজেই দেখেছি।

তার পরেও বাচ্চাদের আন্দলনের যৌক্তিকতা ছিল বলেই সবাই সাথে ছিল। আমি নিজে দেখেছি বাস ড্রাইভার হেল্পার পুলিশ এর সাথে মিলে ছাত্রদের আক্রমণ করতে, এরকম অনেক গুলি পয়েন্টে বাসের মালিক ড্রাইভার রা প্রতিরোধ করেছে অনেক ছাত্রদের আক্রমন ও করেছে। তাদের পরিচয় কিন্তু ছাত্রলীগ বা দল ছিলনা, বাংলাদেশের পুলিশ এত ধৈর্য শীল কোন কালেও আমি দেখিনি। এই গুলি বাদ দিলাম , আমাদের প্রতি পক্ষ কারা ছিল?? আওয়ামী লীগ নাকি সিস্টেম। একটি নিরাপদ সড়ক এর জন্য এসব ছোট খাট অনু প্রবেশ বাদ দিলাম।

আন্দোলনের এর তৃতীয় দিন থেকে দেখতে পেলাম আন্দোলন কারী দের ভেতর থেকে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙ্গা শুরু হয়েছে, ওরা তো বাস ভেঙ্গেছে কিন্তু কারো প্রাভেট কার বা মাইক্রো ভাঙতে দেখিনি, তাহলে এরা কারা??
কারা এই আন্দোলনে সহিংসতা চায়?
কারা এই আন্দোলন এর গতিপথ পালটে দিতে চায়??

ছাত্রলীগ তখন ও কোন রকম আক্রমন এ ছিলনা, আমি যতদূর জানি প্রাইম মিনিস্টার নিজে ওদের এই আন্দোলন এর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
স্কুল ড্রেস পড়া বাচ্চা রা কেমন যেন সিনেমার মত হুট করেই বড় হয়ে গেছে, পরিচালক যেন ভুল করে নায়কের স্কুল ড্রেস খুলে নিতে ভুলে গেছে।
তখন ই আসলে ভয় টা কাজ করছিল আগের মত এবার ও আমাদের আন্দোলন আর যৌক্তিক যায়গা হারাতে পারে।
এর পর রাতে হঠাত ই দেখলাম গায়েবি মেসেজ, কাল কিছু হতে চলেছে, আইন প্রয়োগকারী রা নিজেরা বৈঠক করে বস্তির ছেলে পেলে নামিয়ে দেবে ব্লা ব্লা ব্লা~

রামু আর নাসির নগরের কথা নিশ্চয় ই মনে আছে, মাইক দিয়ে মসজিদে গুজব ছড়িয়ে আক্রমনের কথা ও ভুলেনি কেউ, সেই পুরনো কায়দায় সবার ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
সরকার দাবী মেনে নিয়েছে মানে একটা গ্রুপের আশা নিরাশায় পরিনত হতে যাচ্ছে, আমি তখন রাতে মেসেজ টা দেখে অনেক কেই বলেছি মেসেজ এর ঘ্রান টা কিন্তু ভালো না, সরকার পতনের আন্দোলনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তখন পর্যন্ত ছাত্রলীগ এর কোন রকম সহিংস অবস্থান ছিলনা দেখে আমার মত তারা অবাক, ছাত্রলীগ আক্রমণ না করলে ক্যামনে করে এই আন্দোলন সামনে যাবে। জি ওই মাস্টার মাইন্ড রা সব সেট করেই রেখেছিল, আমি লিখে ছিলাম অয়েপন রেডি ছিল লঞ্চ এর অপেক্ষায়। রাতের গায়েবি মেসেজ এর বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে, যখন গুজবে গুজবে আমাদের সুশীল দের চোখের পানি গড়িয়ে সমুদ্র হতে দেখলাম, আমি ও সত্যি ভয় পেয়েছিলাম, মুখ বাধা, মেয়েটির কথা শুনে, নওশাবার কথা শুনে আরও অনেকের, আজব একটা ব্যাপার দেশ এত টাই উচ্ছন্যে গেলো যে দিনে দুপুরে একের পর এক ধর্ষণ করছে ছাত্রলীগ আর গুলি করে মারছে বাচ্চাদের!! আসলেই আজব!

আমি ওখানে থাকা একজন এর সাথে কথা বলেছি। একজন ছাত্রলীগ নেতাকেও ফোন দিয়েছিলাম, ওদের ভাষ্য ছিল এরকম ওরা বাচ্চাদের সাথে একমত পোষণ করে দাড়িয়েছিল, এবং সরকার যে দাবী মেনে নিয়েছে সেটা ওদের বুঝাচ্ছিল। কোন রকম মারামারি কিছুই হচ্ছিলনা। আমি কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার লাইভ ও দেখেছি।

হঠা ৎ করেই বাচ্চাদের মিছিলের পিছন থেকে ধর ধর করে কারা ইট পাটকেল ছুড়েছিল, এর পরের ঘটনা সবাই দেখেছে। একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলা করলে তা দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখবে না কোন দলের অংগ সংগঠন! কারা আওয়ামী লীগ এর পার্টী অফিসে হামলা করেছে? কারা বাচ্চাদের রক্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তখন জানা না গেলেও এখন কিন্তু তা স্পস্ট!
আর পুলিশ সাহায্য করবে??

আমরা তো পুলিশ এর বিরুদ্ধে বাচ্চাদের উত্তেজিত করেছি, বাচ্চারা আন্দোলন করছে আর আমরা তাদের হাতে পুলিশ কে গালি দেয়া প্ল্যাকার্ড ধরিয়ে দেইনি?? তাহলে পুলিশ এর কাছে প্রটেকশন কি করে আশা করি।
আমি দেখেছি পিস্তল হাতে দুইজনকে, খুব ই আতঙ্কের বিষয় ! এরা কারা? দূর থেকে চোখ বন্ধ করে বলে দিলেন এরা ছাত্রলীগ !! পিস্তলের বাটে এখন ছাত্রলীগ এর নাম লেখা থাকে!! আরে অন্য যে কেউ হতে পারে, মাথায় আগের রাতে যা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে আপনি পরের দিন তাই বলে যাচ্ছেন, পুলিশ কি চেনে কে ছাত্র লীগ আর কে যুবলিগ কে ছাত্র দল?? আপনি চেনেন আমি চিনি??
তাহলে পুলিশ এর সাথে যে কেউ মিশে সরকারী দলের বেশে নাশকতা করতে পারে, পুলিশ তো ভেবেই নিতে পারে ওরা সরকারী দলের। এমন টি হতেই পারে।

আন্দোলন যখন আর নিরাপক্ষ যায়গায় নাই, আন্দোলন যখন সরকার পতনের আন্দোলনে র দিকে যাচ্ছে তখন অতি উৎসাহী বাম আর নব্য সুশীল রা তাদের সরুপে দেখা দিলো। গত কয় দিনে যে কতো জনের লেঞ্জা দেখলাম। আরে ভাই আমি আওয়ামী সমার্থক । আপনি সাহস থাকলে বলেন না আপনি কাকে সমারথন করেন, সেখান থেকে কথা বলেন।

সু শীল ভাব ধরলে সেটা কিন্তু বুঝা যায়!
আমরা সবাই এদেশের নাগরিক ! আপনি নিজেকে নিরাপক্ষ বানাবার চেষ্টা কেন করতেছেন, কোন দল কে সাপোর্ট করা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
ইলিয়াস কাঞ্ছন বহু বছর ধরে এই আন্দোলন লড়তেছেন, তাকেও ছোট করতে এরা ছাড়েনি।
বাচ্চারা যখন আন্দোলন থেকে সরে এসছে তখন প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ের আন্দোলন কাদের স্বার্থে??
কাদের স্বার্থে তাদের ব্যাগ এর মধ্যে দা রড আর চাপাতি থাকে, এই উত্তর নাই আসলে??
কারন এর আগে সকল জঙ্ঘি কার্যক্রমের হোতা ছিল এরা, হিজবুত তাহরির, এখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে আস্তানা গেরেছে।
তারা এই আন্দোলন কে একটা সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে।

আর এটাই বাংলাদেশ। এখানে সব সম্ভব। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্র ও যখন জঙ্ঘি কার্যক্রমের অংশ হয় তখন কি প্রত্যাশা করি আমরা?? বুয়েটের একটি মেধাবী ছাত্র যখন মিথ্যাচার করে শুধু একটি প্রলয়ংকারি নাশকতার জন্য তখন বাচ্চাদের মাঠে রাখতে চাওয়ার উস্কানি কতটা যৌক্তিক!!

জি নব্য সুশীল ভাই বন্ধু আপনারা জাতির ব্যাপক বিবেক।
আপনি বাচ্চাদের আন্দোলন এর অর্জন না দেখতে পেলেও আমি দেখতে পাচ্ছি, গত কাল এ একটি নসিমন ব্যাক করতে গিয়ে আমাদের সি এন জি তে লাগিয়ে দেয় আমি অবাক হয়ে দেখেছি সবাই মিলে কিভাবে প্রতিবাদ করেছে, আমি দেখেছি এখন বাচ্চারা বড় রা নিজ দায়িত্বে রাস্তায় প্রতিবাদ করছে,
যেখানে অন্যায় সেখানেই প্রতি রোধ এর নাম ই আন্দোলন! এর নাম ই অর্জন।
একদিন এই বাংলাদেশ পালটাবে, একদিন একটি নতুন ভোর হবে যে ভোরের সূর্যটা আমার প্রিয় দেশ টাকে আলোকিত করবে।
প্রতি ঘরে ঘরে মুজিব রা জন্ম নিয়েছে, কেউ ই অন্যায় করে পাড় পাবেনা।
আমি আবার ও বলছি আমি আওয়মী সমার্থক
আমি কোন ভাই লীগ করিনা।
আমি কারো দয়ায় খাইনা
পরিশ্রম করে খাই।
আমি কোন দিন নিরপেক্ষ সুশীল হবার চেষ্টা করিনি।
কোন ভাইয়ের কাছে কোন আমলা বা মন্ত্রীর কাছে কাজের জন্য হা করে থাকিনা।
অন্যায়ের বিপক্ষে আছি সব সময়! আগেও ছিলাম , তখন ও আওয়ামী সমার্থক ই ছিলাম।
আমি শেখ মুজিবের আওয়ামী আদর্শ কে শ্রদ্ধা করি।

যদি তুমি ভয় পাও তুমি শেষ ।
যদি তুমি গুজবে কান দাও
তবেও তুমি শেষ!
যদি তুমি ঘুরে দাড়াও
যদি তুমি গুজব এড়িয়ে লক্ষ্যে থাক
তবেই তুমি বাংলাদেশ!!

জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!!

(মতামত লেখেকর নিজস্ব)

লেখক : জাকািরয়া জাবের- পলিটিকাল অ্যাকটিভিস্ট


%d bloggers like this: