ঢাকা, শুক্রবার , ২৪ নভেম্বর ২০১৭, | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ | ৫ রবিউল-আউয়াল ১৪৩৯

রংপুরে ছাত্রলীগ-স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, আগুন

1488644215-3

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বিকেল থেকে সংঘর্ষ থেমে থেমে চলে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাত ৯টা পর্যন্ত রংপুর-ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এই ঘটনাায়  বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটির স্থগিত করা হয়েছে। রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

রংপুরে এ ধরনের তাণ্ডব সম্পর্কে পুলিশ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে পার্কের মোড় এলাকায় লিফা ফাস্টফুডের দোকানে ছাত্রলীগের কয়েকজন চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকানটি ভাঙচুর করেন ছাত্রলীগকর্মীরা। এ ঘটনার জের ধরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়রা সংগঠিত হয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করে ছাত্রলীগের কর্মীদের ধাওয়া করে।

এরপর ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এসে পার্কের মোড়ে অবস্থানরত স্থানীয়দের পাল্টা ধাওয়া করলে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম, দৈনিক যুগান্তরের ফটোসাংবাদিক উদয় বর্মণসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ উভয় পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

পরে  সন্ধ্যার পর উভয়পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পার্কের মোড়ের পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাত ৮টার দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যায়। আর স্থানীয়রা পার্কের মোড়ে মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। বর্তমানে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে আছে। রাত ৯টায় যান চলাচল শুরু হয়।

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সালিন আল ইসলাম বলেন, ‘ওই দোকানের কর্মচারী আমাদের সভাপতির সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে, খারাপ ভাষায় কথা বলেছে। তারপরও আমরা নীরব ছিলাম। আমরা সংঘর্ষে জড়াতে চাইনি। তারা বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আক্রমণ চালিয়েছে, ভাঙচুর করেছে।’ পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের যাদের সঙ্গে কথা বলা দরকার আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরিই ঝামেলা মিটে যাবে।

আজ/টিকে/এন/১১৪