ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৪ পৌষ ১৪২৫ | ১০ রবিউস-সানি ১৪৪০

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আরো ৫ লাখ রোহিঙ্গা!

রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কটের বছর পেরোলেও তাদের অনুপ্রবেশ যেন থামছেই না। গেল বছরের আগস্টে শুরু হয়েছিল এই রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট। কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কয়েক দফা হামলার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনে নামে দেশটির সেনাবাহিনী। দমন-পীড়নের মুখে ওই বছরের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়। প্রাণভয়ে পালিয়ে এসে এ পর্যন্ত আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এখনো তাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন  বলছে, এখনো আরো ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

সদ্য অনুপ্রবেশকারীরা ওই গণমাধ্যমটির কাছে দাবি করেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের সেনারা এখনো নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। যারা এখনো সেখানে আছে তাদের ‘ক্রীতদাস’ বানিয়ে রাখা হয়েছে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছেন তারা।

কক্সবাজারের একাধিক ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতারাও জানিয়েছেন, ‘নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছেন। প্রায় প্রতি রাতে একাধিক দল বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। তাদের অধিকাংশই নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। ৩০০ রোহিঙ্গা মায়ানমার সীমান্তের বন-জঙ্গলে দিন গুনছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সুযোগের।’

টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবদুল মতলব বলেন, ‘রাখাইনের যেসব রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশে আসতে পারেননি, তাদের আসলে আটকে রাখা হয়েছে। সেনারা তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে, স্থানীয় হাটবাজারেও তাদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। এর ফলে খাবারের সঙ্কটে রয়েছেন রোহিঙ্গারা। এ কারণে সুযোগ পেলেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

রাখাইন রাজ্যের রাজধানী শিত্তুই বা আকিয়াব, রাথিডং, মংডুসহ পুরো রাজ্যের ১৭টি ‘টাউনশিপে’ পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা আছেন। রোহিঙ্গারা যে হারে অনুপ্রবেশ করছেন, তাতে একদিন সবাই বাংলাদেশে চলে আসবেন। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দেয়া তথ্য মতে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে নাফ নদী পেরিয়ে ৫৩১ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। আগস্টে ২৫৬ জন ও জুলাইয়ে ৪১৩ জন এসেছেন। তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জিরো টলারেন্সে রয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রোহিঙ্গারা এখনো নৌকায় করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার নাফ নদী পেরিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় সাত রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে।

আজ ২৪ ডেস্ক


%d bloggers like this: