ঢাকা, বুধবার , ২৪ জুলাই ২০১৯, | ৯ শ্রাবণ ১৪২৬ | ২০ জিলক্বদ ১৪৪০

অপারেটররা এমএনপি নিয়ে দ্বন্দ্বে , বেশি অভিযোগ গ্রামীন ফোনের বিরুদ্ধে

অপারেটররা

অপারেটররা এমএনপির সুবিধা নিয়ে শুরুতেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে । নিজ নিজ গ্রাহককে ছাড়তে ‘গড়িমসি’ করছে অপারেটরগুলো।আনছে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ।রবি ও বাংলালিংক দুষছে গ্রামীণফোনকে। অন্যদিকে গ্রামীণফোনের অভিযোগ এ দুটি অপারেটরের বিরুদ্ধে।তিন অপারেটরই আবার বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করেছে।
রবি ও বাংলালিংকের অভিযোগ গ্রামীণফোন তাদের কাছে আসতে চাওয়া গ্রাহকদের ছাড়ছে না। আর গ্রামীণফোনের অভিযোগ হলো, রবি ও বাংলালিংক এমএনপিকে টার্গেট করে গ্রাহক আকৃষ্ট করার বিজ্ঞাপন বানিয়েছে, যেটা করতে পারার কথা নয়।বাংলালিংকের কর্পোরেট কমিউনিকেশনসের সিনিয়র ম্যানেজার আংকিত সুরেকা জানান, বিকাল পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি গ্রাহক অন্য অপারেটর হতে বাংলালিংকের নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে চেষ্টা করেছেন।‘যেখানে রবি হতে বাংলালিংকের নেটওয়ার্কে যোগদানে সাফল্যের হার ৩০ শতাংশ সেখানে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এই হার একদম শুন্য।’-বলছিলেন তিনি।রবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম দিনে তাদের অপারেটরে আসতে চাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ৪০০ এর মতো। এর মধ্যে ২৪ টির অনুরোধ নেয়া গেছে। বাকি ৩৭৬ টি অনুরোধ তারা নিতে পারেননি, যেখানে গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কেরই অধিকাংশ গ্রাহক। যাদের অপারেটরটি ছাড়েনি।গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামাল বলছেন, আমাদেরও কিছু গ্রাহক তাদের পছন্দমত অন্য অপারেটরে চলে গেছেন। এমএনপি একটি স্বয়ংক্রিয় সেবা, এখানে অসহযোগিতার কোনো সুযোগ নেই।‘তবে কেউ এমএনপি সেবা পাওয়ার জন্য নিয়ম মেনে আবেদন না করে থাকতে তিনি রেগুলেশন অনুয়ায়ী স্বাভাবিকভাবেই সেবাটি পাবেন না।’-জানান তালাত।
গ্রামীণফোনে প্রথম দিন ৪০০ এর বেশি গ্রাহক অন্য অপারেটর হতে আসার অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন অপারেটরটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। তিনি বলছেন, এসব গ্রাহকের একটা অংশকে দুটি অপারেটর ছাড়েনি।তিনি উল্লেখ করেন, তারা রবি ও বাংলালিংকের মতো নিয়ম ভেঙ্গে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে বিজ্ঞাপন বানাননি।এদিকে এমএনপি চালু হওয়ার প্রথম দিনে ১০০০ এর মতো গ্রাহক এই সেবা নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের সেবা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) চালু হয়। বিটিআরসিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ সেবার পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক।

তিনি বলেন, অপারেটর পরিবর্তন করতে নম্বর প্রতি ফি ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা (ভ্যাটসহ)। নম্বর ঠিক থাকলেও নিতে হবে নতুন সিম কার্ড। এ জন্য লাগবে সিম পরিবর্তন বা রিপ্লেসমেন্ট কর ১০০ টাকা। অর্থাৎ গ্রাহককে দিতে হবে ১৫৭ টাকা ৫০ পয়সা।

তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেবা চালু করতে গ্রাহককে আরও ১০০ টাকা বাড়তি দিতে হবে। এর সঙ্গে যোগ হবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। নতুন সিমে এই সুবিধা চালু হতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা। সেবা গ্রহণের পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত অপারেটর পরিবর্তন করা যাবে না।


%d bloggers like this: