ঢাকা, মঙ্গলবার , ২৩ জুলাই ২০১৯, | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৯ জিলক্বদ ১৪৪০

অবহেলিত মানুষের জন্য আমাদের BRI

ফাহিম মাশরুর ● আমরা সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। নিজের স্বপ্নের কথা অন্যদের শোনাতেও ভালোবাসি। আজ আমি আমার স্বপ্নের কথা বলতে এসেছি।আমি আমার ‘BRI’ সম্পর্কে কিছু কথা বলছি। সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করার মনোবাসনা থেকেই মূলত আমাদের সংগঠনের জন্ম।

বিআরআই(BRI)-বেসিক রাইটস ইনিসিয়েটিভ। মানুষের ৫টি মৌলিক অধিকার অর্জনের জন্যই এই প্রচেষ্টা। ২০১৩ সালে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে এই সংগঠনের সূচনা করি। আমাদের প্রথম বড় ইভেন্ট হয় ঢাকার মিরপুরে একটি স্কুলের কয়েকশ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ দেয়ার মাধ্যমে। এই ইভেন্টের পর আমরা বুঝতে পারি যে সত্যি সত্যিই হয়তো সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য আমরা কিছু করতে পারবো।

আপনারা কি খেয়াল করেছেন আমাদের লোগোটি? ওখানে ৬টি পাতা আছে। প্রত্যেকটি পাতা একটি মৌলিক অধিকারকে প্রতিনিধিত্ব করে। এখন প্রশ্ন হলো ৬ নম্বর পাতাটি তাহলে কিসের প্রতিনিধিত্ব করে? ৬ নম্বর পাতাটি হচ্ছে বাকি ৫টি অধিকার আদায়ের জন্য কোনো একটি উপায়কে অবলম্বন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

মিরপুরের পর ডেমরায় আমরা প্রায় ৫০০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ দেই। ধীরে ধীরে আমাদের কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। আমরা পঙ্গুদের হুইল চেয়ার, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া ইত্যাদি কাজে নিজদের যুক্ত করতে থাকি। কারণ বেকারত্ব দূর না হলে আমরা আমাদের অন্য মৌলিক অধিকারগুলো কার্যকারিতা পাবে না।

বিআরআই(BRI)-বেসিক রাইটস ইনিসিয়েটিভ 002

কেরানিগঞ্জের ইভেন্টটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো বলা যায়। ঐদিন আমরা প্রায় হাজারখানেক মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেই। দূর-দুরান্ত থেকে মানুষের আসা দেখে আমরা সত্যিই অভিভূত হয়েছিলাম সেদিন। আমাদের ডাক্তার এবং ভলান্টিয়াররা তাদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে আমাদের ইভেন্টগুলো সফল করে তোলেন।

বিআরআই(BRI)-বেসিক রাইটস ইনিসিয়েটিভ 003

আমরা ডেমরার এমন একটি স্কুলে গিয়েছিলাম, যেখানে কর্মজীবী অনেক শিশুকে শিক্ষা দেয়া হয়। ছোট বাচ্চাগুলোর শিক্ষার প্রতি আগ্রহ দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। সারাদিন কাজ করে রাতে তারা পড়াশোনা করে; ব্যাপারটা ভাবলেই ভালো লাগে।

গত রমজানে আমরা এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেছি; তাদের সংখ্যা ছিলো দুইশর বেশি। আমাদের সামর্থ্য কম বলে হয়তো আমরা এলাকার সব শিশুকে নিয়ে করতে পারিনি। কিন্তু সত্যি বলতে কি, সবাই যদি আমাদের মতো এগিয়ে আসে তাহলে প্রত্যেক এতিম শিশু অন্তত একদিনের জন্য হলেও তৃপ্তি নিয়ে ইফতার করতে পারতো।

ঈদের আগে প্রায় শতাধিক গরিব মানুষকে ঈদের খুশি হিসাবে জামা উপহার দেই। নতুন পোশাক পাওয়ার পর মানুষগুলোর চোখে আমরা যে আনন্দের দেখা পেয়েছি, সেটা আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারবো না।

একটা কথা আমরা সবসময়ই শুনি— ভালো কাজ করলে নাকি মনে অন্যরকম একটা প্রশান্তি আসে। কথাটার সত্যতা আমরা এই কয়েক বছরে অনুধাবন করতে পেরেছি। প্রত্যেকটি ইভেন্টের পর আমাদের সবার মনে হয়েছে যে, আমরা একটা ভালো কাজ করলাম।

বিআরআই(BRI)-বেসিক রাইটস ইনিসিয়েটিভ 004

আমরা গত সেপ্টেম্বরে ইয়ুথ ফোরামের সঙ্গে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্ট ২০১৫’ আয়োজন করি। এবারের আলোচ্য বিষয় ছিলো তরুন এবং বৃদ্ধদের মাঝে সম্পর্কের সেতুবন্ধন। আমাদের এই অনুষ্ঠানে ঢাকার মেয়র আনিসুল হক সহ অনেক রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

আমরা চাই ভবিষ্যতে আমাদের কাজের পরিধি আরও বাড়ুক। সবার কাছে আমি একটি কথাই বলতে চাই, আপানদের সহযোগিতা ছাড়া পুরো সমাজের সমস্যাগুলো দূর করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। তাই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই, আপনাদের পাশে চাই। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সমাজের অবহেলিত মানুষদের সেবায় আরো নিয়োজিত করতে চাই নিজেদের।

বিআরআই(BRI) ফেসবুক পেজ : https://www.facebook.com/basicrightsinitiative

বিআরআই(BRI) ওয়েবসাইট : http://www.bri-bd.org/

আজ/এমকে/এফএম/৩০৪

ফেসবুকে আজ ● facebook/aaj24fan


%d bloggers like this: