ঢাকা, বুধবার , ১৯ জুন ২০১৯, | ৫ আষাঢ় ১৪২৬ | ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

অবৈধ মুঠোফোন চিহ্নিত করবে বিটিআরসি

মানুষের হাতে থাকা অবৈধ বা নকল মুঠোফোন চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। চলতি মাসেই এ পদ্ধতি শুরু করতে যাচ্ছে বিটিআরসি। অবৈধ আমদানি, চুরি, স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও নকল মুঠোফোন প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাজস্ব ক্ষতি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। এর আওতায় বৈধভাবে আমদানি করা ও দেশে তৈরি সব  মুঠোফোনের  আইএমইআই নম্বর ডেটাবেইসে সংযুক্ত হবে।

আর বাজারে যেসব মুঠোফোন আছে সেগুলোর প্রতি তিনটিতে একটিই নকল বা অবৈধ বলছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের হিসাবে প্রতি বছর এক কোটির বেশি অবৈধ ও নকল মুঠোফোন বাজারে আসছে। এগুলোর বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা, আর এর পুরোটাই যাচ্ছে গ্রাহকের পকেট থেকে।

তদারকি সংস্থাগুলোর অপর্যাপ্ত নজরদারি ও অভিযানের সুযোগে স্থানীয় বাজারে এদের প্রভাব ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আইএমইআই নম্বরবিহীন সেট বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন।

এই প্রক্রিয়া শুরু হলে অবৈধ মুঠোফোন প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট একটি সিম ছাড়া অন্য কোনো সিম কাজ করবে না। নির্দিষ্ট সময় পরে কোনো সিমই কাজ করবে না। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়েই অবৈধ মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ করবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত মুঠোফোন অপারেটরদের জন্য ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (ইআইআর) এর খসড়া নির্দেশনায় এর উল্লেখ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোন কোন গ্রাহকের হাতে অবৈধ মুঠোফোন রয়েছে, তার একটি ডেটাবেইস তৈরি করা হবে।

খসড়া নির্দেশনায় বলা হয়, অপারেটররা তাদের লাইসেন্স নীতিমালা অনুযায়ী সব মুঠোফোনের ইএমআই নম্বর দিয়ে এই ডাটাবেইজ তৈরি করবে। এ ডাটাবেইজে তিনটি ক্যাটাগরি থাকবে ব্ল্যাক, হোয়াইট ও গ্রে।

আইএমইআই নম্বর হলো ১৫ ডিজিটের একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা, যা বৈধ মুঠোফোনে থাকে। একটি মুঠোফোনের কি-প্যাডে *#০৬# পরপর চাপলে ওই মুঠোফোনের বিশেষ এই শনাক্তকরণ নম্বরটি পর্দায় ভেসে উঠে।

অপারেটরদের ইআইআর তৈরির পর তা জাতীয় ইআইআর (এনইআইআর) এ সংযুক্ত হবে। এর ফলে সব অপারেটরদের ইআইআর খুব সহজেই নজরদারি করতে পারবে বিটিআরসি।

ইআইআর ও এনইআইআর বাস্তব সময় সিঙ্ক্রোনাইজেশন হবে অর্থাৎ ইআইআরকে ডেটা সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা এনইআইআর এ চলে আসবে।

খসড়া নির্দেশনায় ‘হোয়াইট’ বলতে বোঝানো হয়েছে সব ধরনের বৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট, বৈধভাবে দেশে তৈরি এবং বিটিআরসিতে নিবন্ধিত মুঠোফোন।

‘গ্রে’ বলতে বোঝানো হয়েছে সন্দেহভাজন মুঠোফোন। এগুলো নির্দিষ্ট সিমে কাজ করবে, কিন্তু এসব হ্যান্ডসেটের বিষয়ে অপারেটরদের সতর্ক করে দেওয়া হবে।

‘ব্ল্যাক’ বলতে বোঝানো হয়েছে চুরি যাওয়া হ্যান্ডসেটের আইএমইআই, আইএমইআই মেয়াদ উত্তীর্ণ, নকল আইএমইআই এবং কিস্তিতে মুঠোফোন কিনে যারা খেলাপি হয়েছেন, তাদের মুঠোফোন।

এছাড়া নির্দেশনায় লিস্ট ম্যানেজমেন্টে বলা হয়েছে, কয়েকটি নম্বর ভিআইপি লিস্ট হিসেবেও থাকবে, যারা সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় এই ফিল্টারিং প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে যেতে পারবে।

খসড়ায় বলা হয়, ক্লোন, অনুমোদনহীন নকল, অবৈধভাবে আমদানি করা কিন্তু বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল রয়েছে, এমন মুঠোফোনগুলো যে অপারেটরের সিমে রয়েছে সে অনুযায়ী নিবন্ধিত হয়ে যাবে। ইআইআর তাদের মুঠোফোন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত করার সুযোগ দেবে।
এসব মুঠোফোন ‘গ্রে’ তালিকায় চলে যাবে। গ্রাহকদের একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে নিবন্ধনের জন্য। কত দিনের মধ্যে এই মুঠোফোন নিবন্ধিত করা যাবে, তা ঠিক করে দেবে বিটিআরসি।

শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযানে উদ্ধার আইফোনের খালিবক্স

বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, “গ্রাহকের হাতে যেসব নকল বা অবৈধ মুঠোফোন রয়েছে, এই সিস্টেম শুরু করার ৬ মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট সিমে তা চালু রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ যে সিমে মুঠোফোন চালু থাকবে সেই সিমের মাধ্যমেই তা নিবন্ধিত ধরে নেওয়া হবে। ছয় মাস পর কোনো নকল, অবৈধভাবে আমদানি করা বা ক্লোন মুঠোফোন সিম কাজ করবে না।”

কেউ যদি মুঠোফোন বিক্রি করতে চায় তাহলে অপারেটরদের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের এনআইডি থেকে আইএমইআই অনিবন্ধিত করতে পারবে। ওই মুঠোফোন যে কিনবে সে তার নামে নিবন্ধিত করতে পারবে। সিম ছাড়াও গ্রাহক তার প্রয়োজনীয় ক্রয় রশিদ বা প্রয়োজনীয় কাগজ দেখিয়ে মুঠোফোন নিবন্ধন করতে পারবে।

বিটিআরসি স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ বলেন, ”এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সেক্টরের সম্মিলিতভাবে করা একটি চমৎকার প্রকল্প যা একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, সরকার ও মুঠোফোন ব্যবহারকারিদের সুবিধা দেবে।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: