ঢাকা, সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মুহাররম ১৪৪০

আনিসুল হকের মরদেহ দেশের পথে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে  দেশে আনা হচ্ছে।
তার কফিনবাহী বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি লন্ডনের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ছাড়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর ৭টা ৫৮ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৫৮ মিনিটে) সেটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

ওই ফ্লাইটেই আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে নাভিদুল হক এবং একজন নাতনি রয়েছেন বলে বাংলাদেশ বিমানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ফ্লাইটটি শনিবার বেলা ১টার দিকে ঢাকা পৌঁছাবে বলে জানান তিনি।

নাতির জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই স্ত্রী রুবানা হককে নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান আনিসুল হক। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ অগাস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি।

আনিসুল হকের জানাজায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা আনিসুল হকের জানাজায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা শুক্রবার জুমার নামাজের পর লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে আনিসুল হকের জানাজা হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তারা জানাজায় অংশ নেন।
মরদেহ শনিবার দেশে আসার বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে।

তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আনিসুল হক ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।

গত বছর বাংলাদেশের প্রথম আইটি ইনকিউবেটরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আনিসুল হক গত বছর বাংলাদেশের প্রথম আইটি ইনকিউবেটরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আনিসুল হক মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুলের তৈরি পোশাক ছাড়াও বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন, কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা রয়েছে। ডিজিযাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেড এবং নাগরিক টেলিভিশনের মালিকানাও আছে তার ব্যবসায়িক গ্রুপের।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এফবিসিসিআইর সভাপতি ছিলেন আনিসুল হক। তার আগে বিজিএমইএর সভাপতিও ছিলেন তিনি।

সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক মেয়র আনিসুল হকের ছোট ভাই।

রাজনীতিতে কোনো দলে নাম না লেখানো আনিসুল হকের মেয়র প্রার্থী হওয়া অনেকের কাছেই চমক হয়ে এসেছিল।

লন্ডনে জানাজার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও সেকথাই বলেছেন: “আমরা অনেকে অবাক হয়েছিলাম তিনি যখন রাজনীতিতে যোগদান করেন।”

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই দুই বছরে অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বেশ কিছু বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে অনেকের নজর কাড়েন আনিসুল হক। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ চালকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরে ওই সড়ক দখলমুক্ত করে সিটি করপোরেশন।

লন্ডনে আনিসুল হকের জানাজার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম লন্ডনে আনিসুল হকের জানাজার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ঢাকার কূটনৈতিকপাড়া বারিধারা ও গুলশানের বিভিন্ন দূতাবাসের দখলে থাকা ফুটপাতও দখলমুক্ত করেন মেয়র আনিসুল। এছাড়া সড়ক প্রশস্তকরণ, ঢাকা চাকা, বিলবোর্ড উচ্ছেদ, গ্রিন ঢাকা কর্মসূচিসহ বেশকিছু উদ্যোগের জন্য আলোচিত হন তিনি।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন অনেকে। আনিসুল হক ‘উন্নত নগরীর’ স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অধিকাংশ মন্তব্য এলেও তিনি অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী ও বারিধারার বাইরে তেমন মনোযোগ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, আনিসুল হক তার দৃঢ়তার মাধ্যমে যারা দেশের জন্য কাজ করতে চান তাদের ‘স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন’।

“তিনি কারও কাছে মাথা হেট করেননি। অনেক শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন।”

আনিসুল হককে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন আনিসুল হককে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন তার সঙ্গে একই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নেওয়া সাঈদ খোকন বলেছেন, আনিসুল হক ‘খুব বলিষ্ঠ খুব সাহসী’ মানুষ ছিলেন। তাকে বড় ভাইয়ের মতো দেখতেন তিনি। দুজনে মিলে ঢাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন তারা।
“তার যে শূন্যতা, এই শূন্যতা খুব সহজে পূরণ হবে না।”


%d bloggers like this: