ঢাকা, শনিবার , ২৩ মার্চ ২০১৯, | ৯ চৈত্র ১৪২৫ | ১৫ রজব ১৪৪০

আপাতত মামলা নিয়েই এগোতে চায় ঐক্যফ্রন্ট

নতুন সরকারের মন্ত্রিরা শপথ নিয়েছেন। বিদেশিরাও অভিনন্দন জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারকে। এই অবস্থায় ভোট জালিয়াতি, কারচুপিসহ নানা অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ।

পাশাপাশি  ফল পুনর্নির্বাচনেরও দাবি জানিয়েছে বিএনপিকে নিয়ে গড়া ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই দাবিতে স্মারকলিপিও দিয়েছে তারা।

এদিকে, বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে গেছেন সরকারকে বুঝিয়ে নতুন আরেকটি নির্বাচন দিতে চাপ তৈরি করতে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই দৌড়ঝাঁপের দৃশ্যমান কোনো ‘অগ্রগতি’ চোখে পড়েনি।  এ ছাড়া সব আসনের প্রার্থীদের মামলা সহজ হবে বলেও মনে করছেন না নেতারা। আর মামলা করলে সরকার সেটাকে চার-পাঁচ বছর পর্যন্ত ঝুলাবে মনে করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

ভোটের পরে নির্বাচন কমিশনে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয় ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি বা পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তবে নির্বাচনের তিন দিন পর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ঢাকায় বিএনপির গুলশান অফিসে ডেকে নির্বাচন নিয়ে তাঁদের বিস্তারিত অভিজ্ঞতা শোনা হয়। সেখানেই প্রার্থীরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেদিন মামলার কথা জানান।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামে সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, শিগগিরই মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হয়। ঐক্যফ্রন্টের এক শীর্ষ নেতা বলেন, কর্মসূচি হিসেবে তাঁরা প্রথমে মামলাগুলো করে নিতে চান। যেহেতু সব আসনের প্রার্থীরাই মামলা করবে এবং সময় খুব বেশি দিন নেই, তাই মামলার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই নেতা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের বাসায় শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক হবে। সেখানে মূলত মামলার বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হবে।

ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী সাত প্রার্থীর শপথ নেওয়া নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের ভিন্ন মন্তব্য সম্প্রতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জোট থেকে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ড. কামাল হোসেন জয়ী প্রার্থীদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে ‘বিবেচনাধীন’ এবং গণফোরামের দুই জয়ী প্রার্থীর শপথ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন গত ৫ জানুয়ারির এক সংবাদ সম্মেলনে। অবশ্য পরদিনই ঐক্যফ্রন্ট থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, তাঁরা কেউই শপথ নিচ্ছেন না।

ঐক্যফ্রন্টের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে যেহেতু শপথ নিতে হয়, তাই এ বিষয়টি নিয়ে তারা আরেকটু ভাবতে চাচ্ছেন। এই নেতারা বলেন, মুখে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে কেউ কেউ ‘লাফিয়ে পড়ে’ সংসদে যোগ দিতে চাচ্ছেন। তবে এখনো সংসদে যোগ দেওয়া না দেওয়া নিয়ে জোটে মত-দ্বিমত রয়েছে। আপাতত মামলা নিয়েই এগোতে চায় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: