ঢাকা, রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮, | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ৯ রবিউল-আউয়াল ১৪৪০

ইতিহাসের ফিরে আসা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথপরিক্রমায় মুক্তিযুদ্ধসহ নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল আবার স্বনামে ফিরছে। হোটেলটির ইতিহাস এক অর্থে ঢাকার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এটা আবার স্বনামে ফিরে এসেছে; যাকে বলা যেতে পারে ইতিহাসের ফিরে আসা।

স্বাধীনতার আগে ১৯৬৬ সালে মিন্টো রোডে চালু হওয়া এই হোটেলেই মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকায় প্রথম গেরিলা আক্রমণটি সংঘটিত হয়। ২৫ মার্চ গণহত্যার রাতে এখানেই অবস্থান করছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং—পরে যাঁর লেখনীর মাধ্যমেই পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বাঙালি নিধনযজ্ঞের খবর বিশ্ববাসী জানতে পারে। আরও পরে এখানে অবস্থান করে যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন অন্য বিদেশি সাংবাদিকেরা। সে সময় এই হোটেলটি রেডক্রস জোন হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল গ্রুপ ১৯৬৬ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত এই হোটেলের ব্যবস্থাপনায় ছিল। ইন্টারকন্টিনেন্টালের পর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আসে আন্তর্জাতিক হোটেল সেবাদানকারী আরেক প্রতিষ্ঠান ‘শেরাটন’। ২৮ বছর পর ২০১১ সালের এপ্রিলে শেরাটন চলে গেলে সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড ‘রূপসী বাংলা’ নামে নিজেই হোটেলটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। পরের বছর ইন্টারকন্টিনেন্টালের সঙ্গে চুক্তি সই করার দুই বছর পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এর সংস্কারকাজ শুরু হয়।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সংস্কার কার্যক্রমে হোটেলটির ভেতরের অংশ ঢেলে সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতি রেখে কক্ষের আয়তনে এসেছে পরিবর্তন। আসবাব, সুইমিং পুল, জিমনেসিয়ামের আধুনিকায়নসহ যুক্ত হয়েছে অন্যান্য সেবা। তবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে হোটেলটির নিবিড় সম্পৃক্ততাকে স্মরণে রেখে মূল কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ব্যবহার করা হয়েছে একই রং—যেমনটি শুরুর সময়ে ছিল।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, নতুন করে হোটেলটি সাজানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মোগল স্থাপত্যশৈলীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের পর হোটেলটির কক্ষসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৬টি। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ৪০ বর্গমিটার আয়তনের ২০১টি ডিলাক্স, প্রিমিয়াম ও এক্সিকিউটিভ কক্ষ, ৬০ বর্গমিটার আয়তনের পাঁচটি সুপিরিয়র স্যুইট, একই আয়তনের ১০টি ডিলাক্স স্যুইট, ৭৫ বর্গমিটার আয়তনের পাঁচটি ডিপ্লোমেটিক স্যুইট এবং ১৫০ বর্গমিটার আয়তনের পাঁচটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট। হোটেলের দুটি বলরুম ও সাতটি সভাকক্ষ নির্মিত হয়েছে ২১ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে। প্রধান বলরুমটির নাম রাখা হয়েছ রূপসী বাংলা। এ ছাড়া তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত আধুনিক সুইমিং পুল, জিমনেসিয়াম, স্পাসহ নানা সুবিধা থাকছে অতিথিদের জন্য। সংস্কার কাজে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেমার) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হোটেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমেই দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার প্রায় তিন যুগ পর ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল’ নামটি আবার নামফলক হয়ে যুক্ত হচ্ছে হোটেলটির গায়ে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্বোধনের পর হোটেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এ সময়ে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে পরীক্ষামূলক পরিচালন চলবে।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: