ঢাকা, শনিবার , ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, | ৬ মাঘ ১৪২৫ | ১২ জমাদিউল-আউয়াল ১৪৪০

ইতিহাসে ১৪ জানুয়ারি

পৃথিবী আলোকিত হয়েছে জ্ঞানী-গুণিজনের আগমনে। তারা রচনা করেছেন সত্যের ইতিহাস। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই ইতিহাস চিন্তা, চেতনা ও প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। আবার বহু ঘটনাও প্রশান্তি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃস্বপ্নের নীলকাব্য হয়ে আছে। সেসব ঘটনা নিয়ে আজ টুয়েন্টিফোরের আয়োজন ‘ইতিহাসে ১৪ জানুয়ারি’।

আজ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, সোমবার। ০১ মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। জেনে নিন এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঘটনা
• ১৬৩৯ – যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান গৃহীত হয়।
• ১৭৬১ – পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আহমদ শাহ দুররানীর নেতৃত্বে আফগানরা মারাঠাদের পরাজিত করে।
• ১৯৪৩ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মরক্কোর ক্লাসাব্লাঙ্কা শহরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন ডি. রুজভেল্ট মিত্র শক্তির পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসেন।
• ১৯৬৯ – পূর্ব বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচী গৃহীত হয়।
• ১৯৬৯ – ভারতের মাদ্রাজ রাজ্যের নতুন নামকরণ হয় তামিলনাড়ু।
• ১৯৭৫ – চীনে নতুন শাসনতন্ত্র ঘোষণা এবং প্রেসিডেন্ট পদ বিলোপ।
• ২০০৫ – শনির উপগ্রহ টাইটানে হুইজেন্স প্রোবের অবতরণ।
• ২০০৮ – নাসার পাঠানো ম্যাসেঞ্জার নামের মহাকাশযান প্রথম বুধ গ্রহের অদেখা গোলাধের্র ছবি তুলতে সক্ষম হয়।

জন্ম
• ১৫৫১ – আবুল ফজল, মুঘল যুগের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক।
• ১৮৭৫ – আলবার্ট সোয়েৎজার, খ্যাতিমান ফরাসি চিকিৎসক এবং সঙ্গীতবিদ।
• ১৯০৩ – ড. নীহাররঞ্জন রায়, বাঙালি ইতিহাসবিদ, সাহিত্য সমালোচক ও শিল্পকলা গবেষক। তিনি ছিলেন দেশবরেণ্য ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মনীষী।
• ১৯২৫ – ইউকিও মিশিমা, জাপানি ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।
• ১৯২৬ – মহাশ্বেতা দেবী, লেখিকা।
• ১৯২৯ – শ্যামল মিত্র, পশ্চিম বাংলার প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের জনপ্রিয় গায়কদের অন্যতম।
• ১৯৫১ – রাজীব হুমায়ুন, বাংলাদেশি লেখক, ভাষাবিজ্ঞানী ও নজরুল গবেষক।

মৃত্যু
• ১৭৪২ – এডমুন্ড হ্যালি, ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ, গণিতজ্ঞ ও হ্যালি ধূমকেতুর আবিষ্কারক।
• ১৭৫৩ – জর্জ বার্কলি, আইরিশ দার্শনিক।
• ১৮৯৮ – লুই ক্যারল, ব্রিটিশ লেখক ও গণিতজ্ঞ।
• ১৯৫৪ – বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী।
• ১৯৭৮ – কুর্ট গ্যডল, মার্কিন যুক্তিবিদ ও গণিতবিদ।
• ১৯৭৯ – দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি সাহিত্যিক ও প্রথিতযশা সাংবাদিক।
• ২০০৮ – সেলিম আল দীন, প্রখ্যাত বাংলাদেশি নাট্যকার ও গবেষক।

১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে সেলিম আল দীনের জন্ম। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের বিষয় ও আঙ্গিক নিজ নাট্যে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন তিনি।

লেখক হিসাবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে, কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার মাধ্যমে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাও সেলিম আল দীনের হাত ধরেই। সেলিম আল দীনের প্রথমদিককার নাটকের মধ্যে- সর্প বিষয়ক গল্প, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যার নাম ঘুরে ফিরে আসে। সেই সঙ্গে প্রাচ্য, কীর্তনখোলা, বাসন, আততায়ী, সয়ফুল মূলক বদিউজ্জামান, কেরামত মঙ্গল, হাত হদাই, যৈবতি কন্যার মন, মুনতাসির ফ্যান্টাসি ও চাকা সেলিম আল দীনকে ব্যতিক্রমধর্মী নাট্যকার হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

জীবনের শেষ ভাগে ‘নিমজ্জন’ নামে মহাকাব্যিক এক উপাখ্যান বেরিয়ে আসে সেলিম আল দীনের কলম থেকে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

আজ ২৪ ডেস্ক


%d bloggers like this: