ঢাকা, বুধবার , ১৭ জুলাই ২০১৯, | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৩ জিলক্বদ ১৪৪০

উইন্ডমিল : বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার সম্ভাব্য সমাধান

ফাহিম মাশরুর ● উইন্ডমিল, এটির আভিধানিক বাংলা হচ্ছে বায়ুকল। এটিিএমন এক ধরনের যন্ত্র যা পাল বা ব্লেডের মাধ্যমে আবর্তনশীল শক্তির মাধ্যমে বায়ু শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তর করে। মানব সভ্যতার প্রাথম দিকে এটি ব্যবহার করা হতো শস্য উৎপাদনে। কারণ সেই সময়টায় শস্য উৎপাদনে কোনো উন্নত ডিভাইস কিংবা প্রযুক্তি ছিলো না। পরবর্তীতে মানুষ এটির ভিন্ন একটি ব্যবহার খুঁজে পায়; যান্ত্রিক টার্বাইন ব্যবহার করে কলকারখানা এবং বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয় বিভিন্ন দেশে।

আধুনিক ইউরোপে উইন্ডমিলের সংখ্যা আনুমানিক ৫ লাখ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বায়ুবিদ্যুৎ ১১৮৯৫ মেগাওয়াট, যা গোটা ইউনিয়নের নতুন বিদ্যুৎক্ষমতার হিসেব অনুযায়ী ২৬.৫ শতাংশ। উইন্ডমিলগুলো এমন এলাকায় বেশি বসানো হয়েছিলো, যেখানে নদীগুলোতে খুব সামান্য পানি ছিল। সেসব নদীর পানি শীতকালে বরফ হয়ে যেতো।

শিল্প বিপ্লবের প্রাথমিক উৎস হিসেবে বায়ু এবং পানি শিল্পের গুরুত্ব বেড়েছে দিনদিন। উনিশ শতকের শেষ সময় পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক উইন্ডমিল নির্মিত হয়েছে। নেদারল্যান্ডসে ১৮৫০ সালের কাছাকাছি সময়ে প্রায় ১০ হাজার উইন্ডমিল নির্মাণ করা হয়; সেগুলোর মধ্যে এক হাজার এখনো টিকে আছে। এগুলো কিছু ছাতু মিলে বাণিজ্যিকভাবে অপারেটিংয়ে সাহায্য করছে।

বর্তমানে নিষ্কাশন মিলের অনেক আধুনিক পাম্পিং স্টেশন ব্যাকআপ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিল্প বিপ্লবের তুলনায় শিল্পের উপর একটি বড় ধরনের প্রভাব ছিলো এইসব শস্য মিলের।

Netherlands Windmill around 1850

যুক্তরাষ্ট্রে বায়ুশক্তি গত কয়েক বছরে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। ২০১৩ সালের হিসাবে দেশটির মোট ক্ষমতা ৬১১০৮ মেগাওয়াট ছিলো। এই ক্ষমতা শুধুমাত্র চীন অতিক্রম করতে মার্কিন বায়ু শিল্পে গত ১৭ বছর ধরে ১৫.৬ শতাংশ গড়ে বার্ষিক বৃদ্ধি (১৯৯৫-২০১১) ছিলো। ২০১৪ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র বায়ুশক্তি থেকে ১৭৭.৪৪ টেরাওয়াট প্রতি ঘন্টায় শক্তি উৎপন্ন করে যা মোট বৈদ্যুতিক শক্তির ৪.৩৩ শথাংশ।

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর মতো বায়ুশক্তিকে ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস। যার ফলে কলকারখানা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকট প্রায়শই দেখা যায়।

‘গ্রামীণ শক্তি’ সর্বপ্রথম পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচালিত উইন্ডমিল তৈরি করে। উপকূলীয় রেঞ্জের বার্ষিক বাতাসের গতি নির্ণয় করে প্রতি সেকেন্ডে ২.৯৬ মিটার থেকে ৪.৫৪ মিটার হিসাব পায় বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এই হিসাব অনুযায়ী উইন্ডমিলগুলো বসানো হয়।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

বাংলাদেশে প্রধানত ৩টি জায়গায় এই উইন্ডমিলের কাজ চলছে। এগুলো হচ্ছে ‘সেন্ট মার্টিন বায়ু সিস্টেম’ , ‘কুতুবদিয়া বায়ু সিস্টেম’ এবং ‘চট্টগ্রাম জেলা বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প’। ২০০৫ সালে পিডিবির তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হয়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুতুবদিয়ায় প্রায় ১২ হাজার মানুষের জন্য উইন্ডমিল সিস্টেম চালু করে। সেন্ট মার্টিনের প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

বায়ু টারবাইন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে বিরতিহীনভাবে। শহর বা শহরতলীতে অধিক ভোল্টেজ এবং ফ্রিকোয়েন্সির যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ উত্পাদন করা সম্ভব হবে। ছোট বায়ু টারবাইন গ্রিড সিস্টেম ছাড়া ব্যবহার করা হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী বায়ু বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে পরিবর্তিত ব্যাটারি ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে বাতাসের গতি দ্বারা একটি বিদ্যুৎ উৎপাদিত বায়ুঘূর্ণনযন্ত্র আউটপুট ওয়াট উত্পাদিত হবে যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বোর্ড আশা করছে, ভবিষ্যতের দিনগুলোতে এই উইন্ডমিল আমাদের দেশের বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। তাই এটি বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার সম্ভাব্য সমাধান। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিদ্যুতে স্বনির্ভর একটি উন্নত দেশ।

আজ/এমকে/এফএম/৩০৪

ফেসবুকে আজ ● facebook/aaj24fan


%d bloggers like this: