ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

ঐক্যফ্রন্টে বড় ধাক্কা, রাজশাহীর সমাবেশে নেই ড. কামাল

 ঐক্যফ্রন্ট বড়

রাজশাহীতে সমাবেশের আগেই নবগঠিত ঐক্যফ্রন্ট বড় ধাক্কা খেয়েছে । শুক্রবার মাদ্রাসা মাঠে  বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত রাজশাহীর সমাবেশে থাকছেননা ড. কামাল হোসেন। বেলা আড়াইটায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ড. কামাল হোসেনের পরিবার নিশ্চিত  করেছেন, তিনি রাজশাহীর সমাবেশে থাকতে পারছেননা। কারণ হিসেবে শারীরিক অবস্থার কথা জানা গেলেও সুত্র জানিয়েছে, সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে দ্বন্দ্বে অনেকটা প্রাণের মায়াতেই জামাতের শক্ত অবস্থান সম্পন্ন রাজশাহীতে আসছেননা ড. কামাল।

সুত্রমতে, সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে মতানৈক্য, দলের নেতাকর্মীদের  গুরুত্ব না পাওয়ায় মনোক্ষুন্ন ড. কামাল হোসেন সমাবেশে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরেক সুত্র জানিয়েছে, ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের সমাবেশে অংশ না নেওয়ার বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডন পলাতক গ্রেনেড হামলার মূল আসামী তারেক রহমানের কিরিং কামাল মিশনের ভয়ে সমাবেশ থেকে সরে গিয়েছেন খ্যাতিমান এই আইনজীবী।

রাজশাহীর সামাবেশ প্রস্তুতিতে রাজশাহী গণফোরামের কাউকে গুরুত্ব না দেওয়ায় প্রথম থেকে অসন্তুষ্ট ছিলেন ড. কামাল হোসেন। জানা যায়, এ নিয়ে তিনি ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিএনপি মহাসচিব রাজশাহীর হেভিওয়েট দুই বিএনপি নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিলেও প্রস্তুতি নিয়ে দুই বিএনপি নেতার মাঝেই মনোমালিন্য তৈরী হয়। সমাবেশ পূর্বর্র্তী সংবাদ সম্মেলনে মিনু ও বুলবুলের দ্বন্দ্বে আরো অবহেলায় পড়েন ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহীর নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম রাজশাহীর সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামের কিছু বলার কথা থাকলেও তাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি রাজশাহী গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম।

রাজশাহী গণফোরামের সাধাররণ সম্পাদক হোসেন আলী পেয়ারা সকালে জানান, আমরাও জেনেছি স্যার আসছেননা। তবে কেন আসছেননা। তা বলতে পারবোনা।’ সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে মনোমলিন্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, `যা শোনা যায় তার সব সত্য হয়না। আবার মিথ্যাও হয়না।

এদিকে অন্য সুত্র নিশ্চিত করেছে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ড. কামালকে হত্যা মিশনের তথ্য ফাঁস হওয়ায় অনেকটা আতঙ্কিত ড. কামাল। যদিও রাজধানী বলে সে সমাবেশে অংশ নেন তিনি। কিন্তু রাজশাহীতে সেই ঝুঁকি নিতে চাননি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়া অভ্যাসের  ড. কামাল।

 ড. কামাল হত্যা পরিকল্পনা

গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের একটি বাড়িতে গোপন বৈঠককালে পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত দুবাই নিবাসী তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও তিনটি অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস ও ড. কামালের তিনটি ছবি জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃতরা হলেন, জাদরান মালিক, মাওলানা হাকিম ও নাজিবুল্লাহ গালিব। জানা গেছে, ড. কামালের হত্যার মিশনটি সফল করতে তারা গত এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে আসেন এবং নাজিমউদ্দিন রোডের একটি বাসায় ওঠেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রুপটির প্রধান জাদরান মালিক জানান, তারা ঢাকার স্থানীয় ফাইভ স্টার গ্রুপের সাথে মিলে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামালকে হত্যা করার জন্য দুবাই থেকে এসেছেন। সে আরো জানায়, ৬ নভেম্বর সমাবেশ শেষে ফেরার পথে ড. কামালকে অতর্কিত হামলা করে হত্যার মিশন ছিলো।। মিশনটি সফল হলে সরকারের উপর ড. কামালের হত্যার দায় চাপিয়ে দিতে পারত বিএনপি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিএনপিকে বাঁচাতে ড. কামালকে বলি দিতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান। পলিটিক্যাল কিলিং করে পলিটিক্যাল বেনিফিট নিতে চেয়েছিলেন তারেক।

সংলাপে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে ও নির্বাচন নিয়ে সরকারের অনড় অবস্থান বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনকে হত্যা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন  লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলে সুত্র জানায়।

 

 

 


%d bloggers like this: