ঢাকা, মঙ্গলবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ৩ রবিউস-সানি ১৪৪০

কবে শুরু হবে ২১ আগস্টের ‘ডেথ রেফারেন্স’ শুনানী? কবে শেষ?

'ডেথ রেফারেন্স'

কবে শুরু হবে ২১ আগস্টের ‘ডেথ রেফারেন্স’ শুনানী? কবে শেষ? এমন জিজ্ঞাসার শুরু হয়েছে রায় ঘোষণার পর থেকে। মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি দ্রুততম সময়ে শুরু হলেও শেষ হতে একটা লম্বা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা আইনজীবীদের। তবে সরকার যদি বিশেষভাবে মামলাটি হাইকোর্টের কোনও নির্দিষ্ট বেঞ্চে শুনানি করতে চায় তাহলে আরও আগে এ মামলার শুনানি শেষ হবে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
হাইকোর্টে বর্তমানে প্রায় ২০০ মামলার ডেথ রেফারেন্স রয়েছে। সেগুলোর শুনানি হচ্ছে চার-পাঁচ বছর ধরে। বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আপিলের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আসামিদের অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘রায়ের কপি চেয়ে আমরা বিচারিক আদালতে আবেদন করবো। রায়টির পর্যবেক্ষণ ও সাজার অংশ ভালো করে পড়ে মামলার আসামিরা আপিলের সিদ্ধান্ত নিলে হাইকোর্টে যাবো। এরপর এই মামলার ওপর হাইকোর্টে উভয়পক্ষের শুনানি হবে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় দেবেন হাইকোর্ট।’
ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায় হওয়ার কতদিনের মধ্যে আপিল করতে হয় সে বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘রায় হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে সাত দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। তারা চাইলে জেল আপিল করারও সুযোগ পান। অন্যদিকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।’
এ মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কারা আপিল করতে পারবেন আর কারা পারবেন না সে বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বিচারিক আদালতের রায় হাতে পাওয়ার পর মামলার সব আসামিই খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন। তবে এ মামলায় যারা পলাতক, তারা আপিলের সুযোগ পাবেন না।’
বিচারিক আদালতের এ রায় ঘোষণার পর মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের ডেথ রেফারেন্স এবং অন্য আসামিদের পক্ষে হাইকোর্টে খালাস চেয়ে আপিল শুনানি হবে। পাশাপাশি আশানুরূপ সাজা না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষেরও সুযোগ থাকবে আসামিদের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল করার।

মামলার ১৪ বছর পর ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ১-এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন। রায়ের সময় ৩১ আসামি আদালতে হাজির ছিল। এ মামলায় জীবিত ৪৯ আসামির মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড। আর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।


%d bloggers like this: