ঢাকা, রবিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৯, | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ | ১৫ শাবান ১৪৪০

কাজে না ফিরলে বেতন বন্ধ : বিজিএমইএ

মজুরি কাঠামো নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিলে বেতন বন্ধের হুমকি মালিকপক্ষের। বিজিএমইএ বলছে, ‘একটি মহলের’ ইন্ধনেই শ্রমিকরা এ ধরনের আন্দোলন চালাচ্ছে। রোববার(১৩ জানুয়ারি) বিজিএমইএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, সোমবার থেকে যদি আপনারা কাজে যোগ না দেন, তাহলে আপনাদেরকে কোনো মজুরি দেওয়া হবে না। শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা অনুযায়ী কারাখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এদিকে, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববারেও আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভের কারণে আশুলিয়ার জামগড়া ও নরসিংহপুরের অন্তত ৫০টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন শ্রমিক। নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী প্রতিশ্রুত মজুরি না দেওয়া এবং মজুরি কাঠামোর পরিবর্তনের দাবিতে এই বিক্ষোভ হচ্ছে।

শ্রমিকেরা বলছেন, নির্বাচনের আগে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে টাকা না দেওয়ায় শ্রমিকদের ক্ষোভ বেড়েছে। বেতন বাড়ার খবরেই জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার দিকে বলে দাবি তাদের। যার কারণে অনেকে পেটের টানেও সড়কে নামছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন।

গত এক সপ্তাহ ধরে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে আসছেন। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরা, মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ হচ্ছে।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয় সেখানে। ওই মজুরি কাঠামোর কয়েকটি গ্রেডে বেতন কমে যাওয়ার অভিযোগ জানিয়ে গত ৬ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও আশপাশের গার্মেন্ট অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পোশাক শ্রমিকরা। আবার অনেক কারখানায় নির্ধারিত সময়ে নতুন মজুরি কাঠামো বস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ শ্রমিকদের।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, মজুরি কাঠামোর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে যদি কোনো সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা বিবেচনার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে সরকার গঠিত ত্রি-পক্ষীয় কমিটি। অনেক কারখানায় নতুন মজুরি কার্যকর না করার অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, যেসব কারখানায় মজুরি কাঠামো বস্তবায়ন হয়েছে, সেখানেই বিক্ষোভ হচ্ছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “শ্রমিক বিক্ষোভের পেছনে কারা আছে, তাদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার। এরা দেশীয় হতে পারে, বিদেশিও হতে পারে। যেখানেই আমরা উপরে ওঠার চেষ্টা করি, তখনই একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”

অন্যদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বিজিএমইএ পরিচালক আবু নাছের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: