ঢাকা, বুধবার , ১৭ জুলাই ২০১৯, | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৩ জিলক্বদ ১৪৪০

কোচিং নির্ভরতায় মেধা হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলেই কোচিং বাণিজ্য হয়ে ওঠে রমরমা। এবারো জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা বই কাঁধে ছুটছেন কোচিং সেন্টারে। স্কুলের ধকল কাটিয়ে সন্ধ্যার পরও অসংখ্য শিক্ষার্থীর দেখা মিলছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলোতে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, কোচিংয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের এই অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেকাংশে তাদের সৃজনশীলতা বন্ধ করে দিচ্ছে পাশাপাশি মেধাও হারিয়ে যাচ্ছে।

অপু জেএসসি পরীক্ষার্থী। পড়ছে ঢাকার একটি বেসরকারি স্কুলে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাকে জেএসসি পরীক্ষার কোচিংয়ে ছুটতে হচ্ছে স্কুলে। যেখানে কিনা ক্লাসের সময় কমিয়ে করানো হচ্ছে কোচিং।

সকাল গড়িয়ে বিকেল । আরো একটি কোচিংয়ের পাঠ চুকিয়ে তবেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। তবুও যেন নেই এতটুকু ফুরসত বাড়ি ফিরতে না ফিরতেই তাকে বই নিয়ে বসতে হচ্ছে গৃহ শিক্ষকের কাছে। মূল পাঠ্য বইকে ডিঙিয়ে ভালো ফলের আশায় অপুর মতো আরো অনেকেই প্রলুব্ধ হয়ে ছুটছে কোচিংয়ে চলেছেন ।

স্কুলের শিক্ষায় অনাস্থা প্রকাশ করে অবিভাবকরা বলছেন অনেকটা নিরুপায় হয়েই তাদের কোচিং নামের এই শিক্ষা বাণিজ্যের উপর নির্ভর করতে হতে হচ্ছে । যেখানে আবার একসাথে মিলছে না সব বিষয়ের ওপর পাঠ।

আর শিক্ষাবিদরা বলছেন, দিন দিন ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া এ কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে স্কুলগুলোয় শিক্ষার মান বাড়াতে নিতে হবে নানা উদ্যোগ।

ড. মো: কায়কোবাদ বলেন, পড়ালেখা দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোচিং নির্ভর হয়ে গেছে। যদি আমরা এই নির্ভরতা কমাতে চাই তবে অবশ্যই আমাদের স্কুলগুলোকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে, তাহলে আমরা কিছুটা পরিত্রাণ পেতে পারি।

কোচিং বন্ধে সরকারের নানা বিধি- নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নামে – বেনামে রাজধানীতে একের পর এক গড়ে উঠছে কোচিং সেন্টার।যেখানে সারা বছরই শিক্ষার্থীদের এ প্লাসের গ্যারান্টি সহকারে চলছে ভর্তি কার্যক্রম।

যেখানে ভালো ফলাফলের জন্য পরীক্ষার পূর্বে একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন আত্মনির্ভরতা ও মানসিক প্রস্তুতি সেখানে যদি শিক্ষার্থীদের কাছে ভালো ফলাফলের সংজ্ঞা হয় কেবলই কোচিং সেন্টার তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় তবে সারা বছর স্কুলে তারা কি শিখছেন।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: