ঢাকা, বুধবার , ১৭ জুলাই ২০১৯, | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৩ জিলক্বদ ১৪৪০

গুডবাই রোবটিক্স কিন্তু এত অভিমান কেন?

এক সৃষ্টিশীল তরুণের অভিমানের  সংলাপ এটি। মেধাবী তরুণ ছেড়ে যেতে চায় তার প্রিয় বিসয় রোবটিক্স। উন্নত রোবট বানিয়েও যখন রাষ্ট্রের কোন আনুকুল্য মেলেনা সিন্ডিকেটিংয়ের কারণে তখন তার মাঝে জমা হয় বিষাদ। বিপুল অভিমান। সে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এ অভিমান কতটুকু যৌক্তিক বা যৌক্তি নয় তা বলবে নেটিজেনরা। রাষ্ট্র দেখছেন তো তারুণ্যের অভিমান। ছুঁয়ে দিয়ে সে অভিমান প্রশমনের চেষ্টা করবেন কি?

‘নিজের চেষ্টায় এই পর্যন্ত আসতে পেরেছিলাম ।এত চেষ্টা করেও একটা ফান্ড পেলাম না, তাই পরবর্তীতে রোবটটার আর কোন ডেভেলপমেন্ট করতে পারিনি ।

সরকারি সহায়তা, পূর্ব পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা কোনটাই পেলাম না এমন কি স্পন্সর কোম্পানিতেও আবেদন করলাম কোথায়ও একটা ফান্ড পেলাম না।

গভঃমেন্ট ফান্ড এর আবেদনের পর যখন ভাইবা বোর্ড এ আমাকে বলা হল”আচ্ছা আপনার রোবটটা বানাতে কি BUET এর কেউ সাহায্য করেছিলো ??’ এরপরই আসলে বুঝে গেছিলাম, আমার জন্মটাই একটা ভুল দেশে । পূর্ব পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু এই ব্যাপারে একটা সাপোর্ট দিতে পারতো। কিন্তু ভাবি নাই, এখানে ক্রিয়েটিভ কোন কাজের জন্য বিন্দু মাত্র সাপোর্ট দেয়া হয় না । “টাকা দিবে, শিক্ষা নিবে” । এটাই নীতি ।
.
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি “Ribo” রোবটটার ডেভেলপার ছিল ১১ জন । আর সেখানে আমি একা চেষ্টা করেই তাঁদের তৈরি রোবটটা থেকে কিছু  advance output দিতে সক্ষম হয়েছিলাম। Ribo থেকে আমার FARBOT এর Response ছিল বেশি দ্রুত এবং নির্ভুল ।  এমনকি গানিতিক কিছু হিসাব-নিকাশ জিজ্ঞাস করলেও রোবটটা নির্ভুল ভাবে উত্তর দিতে পারতো। যে ফিচারটা বাইরের দেশ গুলোর অনেক advance Robot গুলোতেও সাধারণত নেই ।


.
Ribo এর উন্নয়নের জন্য তারা পরবর্তী ১০ লক্ষ টাকার সরকারি সহযোগিতা পেয়েছিল । এছাড়াও
তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ভালো একটা ফান্ড পেয়েছিল । আর FARBOT এর ফান্ড তো দুরের কথা, যেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন authority ও আসে নাই ,এই ৬ ফুট উচ্চতার রোবটটা সম্পর্কে কিঞ্ছিত খোঁজ নিতে । উল্টা আমার নাম ব্যবহার না করেই তারা পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলো ।

কিছু লোক আমার সামনেই এভাবেও বলেছিল “পূর্ব পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আসলে রোবট শব্দটাই কেমন বেমানান । ”
নিজের ভার্সিটি সম্পর্কে এমন কথা শোনার পর খারাপ লাগলেও পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম কথাটা ঠিকই ছিল । রোবট টাতে যতটুকু আউটপুট দিতে পেরেছিলাম একজন Engineer হিসাবে বলতে পারি হয়তো কোন Engineering স্টুডেন্টরা তাঁদের সর্বোচ্চ কাজ হিসাবে এমন কিছুই কল্পনা করে থাকে । যেটা আমি Engineering এ ভর্তি পর নিজের কাছে থেকে ও আশা করেছিলাম না ।

যাইহোক , স্ট্যাটাসটা দিলাম একজন ব্যর্থ Engineer হিসাবে না , একটা ব্যর্থ দেশের নাগরিক হিসাবে ।

বিদেশে সামান্য একটা লাইন ফলোয়ার রোবট বানালেও তাঁদের দেশের মিডিয়া গুলো হুমড়ি খেয়ে পরে সেটা প্রচার-প্রচারণা করতে। কিংবা “সোফিয়া” দের মত রোবটগুলো এনে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হবে, আর এদেশের সাংবাদিকেরা নিজেরাই অন্যদেশের প্রোজেক্ট গুলো প্রচার প্রচারনার দায়িক্ত নিয়ে নিবে কিন্তু আমরা কাজের জন্য সামান্য কোন সরকারি সহয়তা পাবো না ।

ভাই, আমার মত তরুনদের কাজ বড় বড় মিডিয়াতে আসবে না। এই কথা গুলা হয়তো এ দেশের সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় authority পর্যন্ত পৌঁছাবে না । কিছু কষ্ট নিয়েই বলি “এদেশে উচ্চ শিক্ষিত মেধাবি হবার থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ করে রাজনীতিবিদ হওয়া ভালো, তাতে খুব তাড়াতাড়ি টাকার পাহাড় গড়া যায় । ”
.
আমি পার্সোনালি ধন্যবাদ জানাই আমাদের East West University এর শ্রদ্ধেয় CSE dept এর Chairperson স্যার Ahmed wasif Reza Sir এবং Surajit Das Barman Sir কে , যারা আমার একটা ফান্ড এর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন ।.
GOOD BYE Robotics. ( যেদিন নিজের প্রতিষ্ঠিত একটা ব্যক্তিগত Research Lab থাকবে সেদিন হয়তো ফিরে আসবো।


%d bloggers like this: