ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৬ জুলাই ২০১৯, | ১ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১২ জিলক্বদ ১৪৪০

চালের দামে কারসাজি, ক্রেতাদের ক্ষোভ

খাদ্য শস্যভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুরে ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ভরা আমন মৌসুমেও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

চালের বাজার হঠাৎ অস্থির হওয়ার কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালকল মালিকরা দাম বৃদ্ধি করায় বেশি দামে বেচতে হচ্ছে। অপরদিকে চালকল মালিকরা বলছেন বাজারে ধানের সংকট থাকায় এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। চালের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।

দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজারের খুচরা ও পাইকার দোকান ঘুরে জানা যায়, ভরা আমন মৌসুম চললেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চালবাজিতে হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পর্যায়ক্রমে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

গত সপ্তাহে গুটি স্বর্ণ চাল প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) বিক্রি হয়েছে ১২শ টাকা করে যা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫শ টাকা করে, মিনিকেট চাল ছিল ২ হাজার ২৫০ টাকা যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৫০ টাকা, সুমন স্বর্ণ ১ হাজার ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা, বিআর আঠাশ জাতের চাল ছিল ১ হাজার ৭৫০ টাকা যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫০ টাকায়।

সে অনুযায়ী খুচরা বাজারে বর্তমানে গুটি স্বর্ণ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে যা গত এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫ টাকা, বিআর আঠাশ জাতের চাল বর্তমানে ৩৭ টাকা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ টাকা, সুমন স্বর্ণ বর্তমানে ৩১ টাকা ছিল ৩৩ টাকা, মিনিকেট চাল বর্তমানে ৪৯ টাকা কেজি গত এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৫ টাকা কেজি।

শহরের বাহাদুর বাজারে চাল কিনতে আসা দিনমজুর তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমনের মৌসুম চলছে। এই সময় চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক নয়। আমরা দিনে রোজগার করে দিনে খাই। প্রতিদিনের টাকায় সংসার চলে। আমাদের আয় না বাড়লেও চালের দাম বেড়েছে।’

চাল কিনতে আসা অপর দিনমজুর আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘চালের দাম বাড়লেও আমাদের কিছু করার নেই। বাঁচতে গেলে কিনতে হবে। দাম বাড়িয়ে আমাদের কষ্টে ফেলেছে। আমাদের মতো গরিব মানুষর চিন্তা করে অন্তত মোটা চালের দামটা স্বাভাবিক রাখার দাবি জানাই। সেই সঙ্গে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের মনিটরিং করা প্রয়োজন।’

একই বাজারের চালের পাইকারি ব্যবসায়ী মাসুম হোসেন জানান, আমরা যে দামে ক্রয় করি তার থেকে একটু লাভ করে বিক্রি করি। চালের দাম আমাদের উপর নির্ভর করেনা। মিল মালিকরা বাজারে চালের সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়েছে। আমাদেরকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মিল মালিক মহসীন আলী বলেন, বিগত দিন গুলোতে ধানের দাম কম থাকায় চালের দামও কম ছিল। ধানের দাম কম থাকলে চাল তৈরিতে লোকসান গুনতে হয় মিল মালিকদের। বর্তমানে দেশের বাজারে যে সকল ধানের সব সময় চাহিদা থাকে (বিআর ২৮, ২৯, মিনিকেট) চলতি আমনের ভরা মৌসুম চললেও এসব জাতের ধান বোরো মৌসুমের হওয়ায় ধানের সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি দাম দিয়েও এসব জাতের ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এতদিন ধানের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল তাই ধানের দাম কম ছিল। বর্তমানে ধানের সংকট দেখা দেওয়ায় চালের বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার মোটা চাল কিনেছে ৩৬ টাকা কেজি দরে। সেই হিসেবে মোটা চালের বাজার এখনও কম। তাছাড়া ধানের যে পরিমাণের চাহিদা রয়েছে সে অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ কারণে এ সময়ে কৃষকরা ধানের বাড়তি মূল্য পেয়ে লাভবান হচ্ছে।’

আজ ২৪ প্রতিনিধি, দিনাজপুর


%d bloggers like this: