ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৬ জুলাই ২০১৯, | ১ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১২ জিলক্বদ ১৪৪০

চিড়িয়াখানায় নতুন মেহমান

আদিব সৈয়দ ● চিড়িয়াখানায় নতুন মেহমান এসেছে। নতুন অতিথির আগমন ঘটেছে। ঢাকা চিড়িয়াখানায় গত কয়েক মাসে বিভিন্ন পশুর শাবক জন্মেছে। কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বাচ্চাগুলো বেড়ে উঠছে। আমরা স্বভাবত মানুষদেরকেই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বলে বেড়াই। কিন্তু আজকের বাঘশাবকটিও তো বাঘের ভবিষ্যৎপ্রজন্ম। এতে কোনো সন্দেহ। যতন বাড়াতে হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাঘের রাজকেন্দ্র খুলনার সুন্দরবনে বাঘ চরমভাবে কমে গেলেও চিড়িয়াখানায় বাড়ছে —কিছুটা হলেও আশার কথা।

এই বাঘশাবকটি পয়লা জানুয়ারি চিড়িয়াখানায় জন্ম নিয়েছে। জাপানি মুদ্রার নামে এর নাম রাখা হয়েছে ‘ইয়েন’। এটি বেঙ্গল টাইগার রণবীর ও জ্যোতির শাবক।

নিরাপদ আশ্রয়ে বানর শিশু। পুরনো টাউনের বানরের কার না জানা আছে। একটা সামান্য বনবাদাড়েই দেখা মিলতো এই বানরের। কিন্তু আজ বড় অপয়া অবস্থা আমাদের প্রকৃতির। বনশূন্য প্রাণী। বনবাদাড়ে তো তাদের দেখামেলা খুবই কঠিন। তাই চিড়িয়াখানায় যত্নআত্তিতে বেড়ে উঠছে বানরশাবক। অন্তত শিশুদের সরাসরি চেনার জন্য এটা একটা পাঠশালাই বটে।

নিরীহ স্বভাবের প্রাণীটির নাম কমন ইলান্ড। ঢাকা চিড়িয়াখানায় এর জন্ম। সাত মাসের এই শিশুটি খাঁচার ভেতর সারাক্ষণ ছুটোছুটি আর দাপাদাপি করে বেড়ায়।

সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা জিরাফ জুটির প্রথম শাবক এটি। একমাস হলো বয়স। এখনো নাম রাখা হয়নি। ক’দিনের ভেতর তারও একটা নাম হয়ে যাবে হয়তো।

মাংস ভক্ষণে বসেছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রণবীর ও জ্যোতির আরেক শাবক ‘টোকিও’। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করো টোকিও। না হলে যে শরীর খারাপ করবে। আর কী বা বলা যায় বলুন।

আমরা প্রাণী ভালোবাসি। প্রাণীদের কাছে থেকে পেতে চাই। ষষ্ঠশ্রেণির ‘লালগরুটা’ গল্পের কথা মনে পড়ে। কী ভীষণ আগ্রহ নিয়ে বড় করে তোলে গরুটাকে। শেষতক গরুটারও কী মায়া জন্মে যায় মালিক ও পরিবারের লোকদের প্রতি। এই সব বন্যপ্রাণিদেরও মায়া আছে। আদর আছে। ভালোবাসা আছে।

আশ্চর্য! আমরা মানুষ জাতি! ষষ্ঠ ইন্দ্রীয়ের কী অপমান করে চলেছি প্রতিদিন। কাউকে চিনি না। মানি না। ভালোবাসি না। এমন কি নিজের রক্তের সন্তানটিকেও।

ছবিসূত্র : আশরাফুল আলম

আজ/এমকে/৩০৭ 


%d bloggers like this: