ঢাকা, সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মুহাররম ১৪৪০

জোট-মহাজোটে ভোটারহীন’ দল নিয়ে কাড়াকাড়ি!

উল্লেখযোগ্য ভোটার নেই বললেই চলে। নিজেদের ভোট দিয়ে একটি আসনেও জয় পাওয়া বলতে গেলে দুঃসাধ্য। তবুও ক্ষমতায় যেতে তাদেরকেই সঙ্গে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট আর বিএনপির জোট। ফলে নির্বাচন এলেই ব্যানার সর্বস্ব এই দলগুলোর যেন পোয়াবারো সময়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা বেশি আসন চেয়ে হুমকি দেয় বড় দলগুলোকেও। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব জোট গঠনে অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থাকছে আদর্শগত মিল।

১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় নির্বাচনে সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশের ক্ষমতার লাগাম ঘুরপাক খাচ্ছে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাতে। এরপর ৬টি জাতীয় নির্বাচন হলেও প্রায় সব দল অংশ নিয়েছে ৪টিতে। যেখানে ২ বার করে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৪০টি। তবে, প্রাপ্ত তথ্য বলছে অংশগ্রহণমূলক ৪টি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী-এ ৪টি রাজনৈতিক দল। মাত্র ৭ ভাগ ভোট ভাগ করেছে বাকি রাজনৈতিক দলগুলো। তবু প্রতিটি নির্বাচনের আগে এ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে চলে প্রধান দুটি দলের কাড়াকাড়ি।

এই বিষয়ে রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. রওনক জাহান বলেন, বড় কোনো একটা ইস্যুতে একমত হওয়ার মতো ঘটনাই এক্ষেত্রে জোট সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, আমরা একলা চলো নীতিতে বিশ্বাস করি না। জোটের মাধ্যমে আমরা একটা বড় জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা জানতে পারি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র চায় তারা যাতে নির্বাচনে বিজয়ী হয় সেটাই মূল উদ্দেশ্য।

তবে ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশে জোট করার ক্ষেত্রে নিজেদের আদর্শ কতটুকু বজায় রাখতে পারে বড় দলগুলো?

এই প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, আদর্শ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এর চাইতে আর বড় আদর্শ কী? এটাতো এমন নয় যে, একজনের পরিবর্তে আরেকজনকে প্রধানমন্ত্রী করতে চাই কিংবা অমুকের পরিবর্তে অমুককে মন্ত্রী করতে চাই।

ফারুক খান বলেন, গণতন্ত্রের যাত্রা এবং উন্নয়নে বিশ্বাস করি বলেই আমাদের এ জোট। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের এ জোট আছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ আর বিএনপির ২০ দলে সময় অসময়ে ভাঙ্গাগড়া চলছে। মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি ৫৯টি দল নিয়ে জোট করলেও নিবন্ধন আছে মাত্র ৩টির। নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৩১ দলের জোট বিএনএ, ৭ দলের ইসলামী গণতান্ত্রিক জোট এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকার আগ্রহ দেখিয়েছে। ৪ দলের জাতীয় ঐক্য আসতে পারে বিএনপির সঙ্গে। এছাড়া ৮ দলের বাম গণতান্ত্রিক জোট, ৪ দলের প্রগতিশীল জোট নামে আরো অনেক জোটই আসছে নির্বাচনের আগে।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: