ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

ডিজিএফআইয়ের আইসিটি অবকাঠামো আধুনিকায়ন পরিকল্পনা সরকারের

আইসিটি অবকাঠামো

আইসিটি অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই)। প্রতিষ্ঠানটির টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ এবং কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে ১২৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিজিএফআইয়ের সাইবার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা বাড়বে। এর মাধ্যমে অপরাধ ও জঙ্গি কার্যক্রম শনাক্ত করাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রমতে, গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে।

‘ডিজিএফআই-এর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ এবং কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়ন’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত নির্ধারিত রাজেট ১২৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। যার পুরোটাই সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর বাস্তবায়ন করবে। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দেশের আটটি বিভাগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) বিদ্যমান ২৩টি ইউনিটের সব স্থাপনায় এসব যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি তথা সাইবার জগতের দ্রুত উন্নয়নের ফলে প্রচলিত জাতীয় প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমে হুমকির মুখে পড়ছে। বর্তমান বিশ্বে জনগণের ওপর রাষ্ট্র বা সরকারের চেয়ে বৈদেশিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা করপোরেটগুলোর প্রভাব বেশি যা রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করেছে। গুগল, ফেসবুক ইত্যাদি বড় সামাজিক যোগাযোগ পরিসর ব্যবহার করে প্রচারিত সরকারের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষে প্রথাগত কারিগরি সক্ষমতা দিয়ে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র বা সরকারের জন্য হানিকর এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় ডিজিএফআইয়ের আইসিটি সক্ষমতা আধুনিক করতে নিরাপদ ভয়েস ও ডাটা যোগাযোগ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি কেনা হবে তিন হাজার ৬৭০টি। ডিজিএফআইয়ের সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নজরদারি ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হবে ১১ হাজার ১৯৩টি। তথ্য ভাণ্ডারে অনুপ্রবেশ সক্ষমতা যন্ত্রপাতি কেনা হবে ২৮১টি। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স সোর্স প্লাটফর্ম স্থাপন করা হবে তিনটি। আন্তর্জাতিক সীমারেখা নজরদারি সক্ষমতার জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হবে ৬৯টি। জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের তথ্য সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি কেনা হবে ২০টি। সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি কেনা হবে ৫৩টি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ৯ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পের ডিপিপি’র ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিইসি সভায় কিছু সিদ্ধান্ত বা শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর পিইসি সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন করে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় একহাজার ২৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুন নির্ধারণ করে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিজিএফআইয়ের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। এর আওতায় সাইবার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা বাড়বে। এর মাধ্যমে অপরাধ ও জঙ্গি কার্যক্রম শনাক্ত করাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিজিএফআইয়ের আইটি অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়বে। স্বার্থন্বেষী মহলের তৈরি বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবিলার জন্য তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংস্থাটির আধুনিকায়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ কারণেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি গ্রহণ করে।’

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স বা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই) এখন দেশের অন্যতম প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। যা দেশের অভ্যন্তর ও বাইরের সম্ভাব্য বিপদ থেকে সরকারকে গোপনে আগাম সতর্কতা দেয়।


%d bloggers like this: