ঢাকা, শনিবার , ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, | ৬ মাঘ ১৪২৫ | ১২ জমাদিউল-আউয়াল ১৪৪০

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি

২৪তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বুধবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাণিজ্যমেলা উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে মেলার উদ্বোধনের ঘোষণা দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের মাঠে আয়োজিত বাণিজ্য মেলার প্রধান গেটে ফিতা কেটে এই মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।

মাসব্যাপী এ মেলা চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করেছে। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এর আগে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, ইতোমধ্যে মেলার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মেলায় কোনো সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে না। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে ৩০ ও ২০ টাকা।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১ জানুয়ারি মেলা শুরু হলেও এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বাণিজ্য মেলা এক সপ্তাহ দেরিতে শুরু হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে প্রধানমন্ত্রী এ মেলার উদ্বোধন করলেও একই কারণে (জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এ বছর এ মেলা উদ্বোধন করছেন রাষ্ট্রপতি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক অভিজিৎ চৌধুরী জানান, এবারের বাণিজ্য মেলাকে আরও দৃষ্টি নন্দন করতে প্রধান গেটটি মেট্রোরেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন থিম থাকবে মেলাজুড়ে।

জানা গেছে, মেলায় সব মিলিয়ে ৫৫০টি স্টল থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে—নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত স্টল ২০টি, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৮টি, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৮, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ২৯টি, প্রিমিয়ার স্টল ৬৭টি, রেস্টুরেন্ট তিনটি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ৯টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৯টি, বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল ১৩টি, সাধারণ স্টল ২০১টি ও ফুড স্টল ২২টি।

বাংলাদেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, সোয়াজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও হংকং।

জানা গেছে, এবারের মেলায় বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন। এছাড়া থাকছে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যমেরা। মেলার ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য খোলামেলা জায়গা থাকছে, যাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করতে পারেন। আর মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবনের আদলে ইকো পার্ক করা হয়েছে। থাকছে ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার (ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তি), যার মাধ্যমে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন অতি সহজে খুঁজে বের করতে পারেন।

মেলায় থাকছে মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক ও পর্যাপ্ত এটিএম বুথ, তৈরি পোশাক পণ্য, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। আরও থাকছে তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও ফার্নিচার সামগ্রী।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: