ঢাকা, সোমবার , ২২ অক্টোবর ২০১৮, | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ১২ সফর ১৪৪০

তাসকিনকে কেন ব্যাখ্যা দিতে হবে? আমাদের কি কিছু করার নেই?

তাসকিনকে কেন ব্যাখ্যা দিতে হবে? কেন তার সন্তান জন্মের সময়সীমা নিয়ে কথা বলতে হবে তাকে? সামাজিক মাধ্যমে বিচরণকারী কিছু নর্দমার কীটকে বয়কটের কিংবা তাদের এই হীন মানসিকতাকে আইনের হাতে সোপর্দ করার কোন উপায় কি নেই?  আমাদের কি কিছু করার নেই?

সামাজিক মাধ্যমে তাসকিনের জবাবদিহী সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলেছে। নোংরা ভাষায় তাসকিনের সন্তান জন্ম নিয়ে বাজে আলোচনাকারীদের সংখ্যা তাসকিনের পক্ষে দাড়ানোর সংখ্যার চেয় অনেক কম।
মনে ক্ষােভ নিয়ে তাসকিন তার ভেরিয়ফায়েড পেইজে লিখেন, ‘সবার উদ্দেশ্যে ১ টা কথা বলি, কেও মনে কিছু নিয়েন্না, আমার বিয়ে হইসে ১১ মাস. দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে এসেই বিয়ে করলাম ৩১ অক্টোবর এবং বিয়ের বয়স হলো ১১ মাস, সাউথ আফ্রিকা ছিলাম ৪৮ দিন, সব মিলিয়ে হল ১২ মাস ১৮ দিন. আমার পুত্র সন্তান হইলো ৯ মাস ২৭ দিনে.. জদি বিয়ের আগে আমার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হইতো তা হলে আমার বাচ্চা বিয়ের ৬ মাস এর মদ্দেই দুনিয়াতে থাকতো..যাই হোক যাদের ভুল ধারণা ছিল আমাদের প্রতি তাদের জন্যে এই মেসেজটি,, ধন্নবাদ..’
গীতিকার সোমেশ্বর অলি লেখন, যেখানে জবাবদিহি নেয়া বা দেয়ার কথা সেখানে আমরা নাই। একজন তারকা খেলোয়াড় বাবা হয়েও শান্তি পেলেন না, তাকে অপমান করতে মরিয়া হয়ে উঠেছি। ছিঃ!’

সমাজকর্মী নাহিদ এনাম লেখেন, এই নিষ্পাপ বাচ্চাটি বড় হয়ে যখন এখানকার কিছু অমানুষদের কমেন্ট পড়বে তখন সে জেনে যাবে জন্ম হবার সাথে সাথেই একটা নিষ্পাপ বাচ্চাকে নিয়েও মষ্করা করা অমানুষ আছে এই সমাজে।
এখানে যারা বাচ্চাটিকে নিয়ে মষ্করা করছে তারা সবগুলি বাস্টার্ড। স্বর্গীয় দূত বাচ্চাটির জন্য অনেক শুভ কামনা ভালোবাসা। যারা মানুষ আছেন আসুন আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি ‘আগত সকল বাচ্চার জন্য এই সমাজটাকে মানবিক সমাজ হিসেবে গড়ে তুলবো।’
সাকিব আল হাসান এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রায়ই বাজে মন্তব্য করে এক শ্রেণীর সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী। এর আগে ক্রিকেটার নাসির বাজে মন্তব্যের শিকার হলে তার হয়ে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি। সৌম্য সরকার, লিটন দাসকে ধর্মীয় পরিচয়েও নানা অপমানসূচক ট্রল কিংবা তামিমকেও দেখতে হয়েছে এরকম বাজে মন্তব্য।

সামাজিক মাধ্যমের এসব অপব্যবহারকারীদের চিহ্নিত এবং শাস্তির মুখোমুখি করার সময় এসেছ। সংশি্লষ্ট মন্ত্রনালয় এবং তদারকি কতৃপক্ষের নজরদারী বাড়িয়ে দোষীদের এবং সমাজে ঘৃণা ছড়ানোদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করা উচিত দ্রুত। পাশাপাশি এদেরকে সামাজিক মাধ্যম থেকে বিদায় করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

লেখক : হাসান আহমেদ, সংবাদকর্মী


%d bloggers like this: