ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

দোলায় চড়ে বিদায় নিলেন দুর্গা, বিসর্জনে শেষ দশমী

বিদায় নিলেন

ঘোড়ায় চড়ে এসেছিলেন মর্ত্যে। সব অসুরের বিনাশ আর অনিয়ম-জঞ্জালকে সরাতে। পাঁচ দিনের মহা কর্মযজ্ঞের পর আজ শুক্রবার দোলায় চড়ে বিদায় নিলেন মর্ত্য ছেড়ে এক বছরের জন্য স্বর্গে। দুর্গতিনাশিনী দুর্গা। ধরণীর জন্য রেখে গেলেন আশির্বাদ-শিক্ষা। এ শিক্ষা সুন্দর, পরিপাটি-গোছানো মানবজনমের।

রাজধানীর পূজা মণ্ডপগুলোর পাশাপাশি সারাদেশের ত্রিশ হাজারেরও বেশি মণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে গঙ্গা জলে বিসর্জন দেওয়া হয় দুর্গতিনাশিনীকে। দুপুরের পর রাজধানী ঢাকার ২৩৪টি পূজা মণ্ডপে চলে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। এর মধ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় শোভাযাত্রাটি পুরনো ঢাকার ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করে। বড় বড় বেশ কয়েকটি ট্রাকে করে কল্যানের দেবী দুর্গাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিসর্জন ঘাটে। এ সময় হাজার হাজার নারী-পুরুষের ভক্তি-অর্চনা আর আনন্দ-কলরোলে পুরো শহর মেতে উঠে।

এরপর বিকেল ৩টার পর ঢাকেশ্বরী কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে বিজয়ার শোভাযাত্রা শুরু হয়ে জগন্নাথ হল, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, পুলিশ হেড কোয়াটার, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্থান, নবাবপুর, রায় সাহেব বাজার, সদরঘাটের ওয়াইজঘাট বিনা স্মৃতিঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেয়। এ সময় পুরো পথে আইন-শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে রাজধানীর উত্তর অংশের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকেও যেসব শোভা যাত্রা বের হয় সেগুলোতেও বিপুল সংখ্যক সনাতনীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাকে করে প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি নারী-পুরুষের অনেকেই ট্রাকে করে দেবী দুর্গার পিছু পিছু যেতে দেখা গেছে। এ সময় ‘বল দুর্গা মায় কি, জয়’ ধ্বনীতে আশপাশের এলাকা মুখর হয়ে উঠে।
এর আগে শুক্রবার সকালে বিহিত পূজার পর মন্দিরে মন্দিরে চলে সিঁদুর খেলা। সেইসঙ্গে নানা অর্চনায় পূজারীরা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন। স্বর্গ থেকে আসা দেবী দুর্গা যেন সব অনিষ্ট বিনাশ করে সবার ঘরে ঘরে শান্তি পৌঁছে দেন ভক্তদের কণ্ঠে ছিল সেই প্রার্থনা।

বাংলা বিশুদ্ধ পঞ্চিকা অনুসারে এবার গত ৮ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীপক্ষ। এরপর একে একে ষষ্ঠী থেকে দশমী। সবগুলো তিথিতেই রাজধানীর পূজামণ্ডগুলো ছিলো পুজারীদের বিনম্র প্রার্থণা আর নানান আনুষ্ঠানিকতায় পরিপূর্ণ। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায় জানান, এবারের পূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের কোনো অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের এ আয়োজন শেষ হল। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বরাবরের ন্যয় এবারও উৎসবে পরিণত হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র এ পূজার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার জানিয়েছেন, এবার সারাদেশে ৩০ হাজার ২৫৮টি পূজা মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। যা গত বছরের তুলনায় ৮৬৩টি বেশি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে মণ্ডপের সংখ্যা ২৩৪টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২২৯টি।

 


%d bloggers like this: