ঢাকা, বুধবার , ২৬ জুন ২০১৯, | ১২ আষাঢ় ১৪২৬ | ২২ শাওয়াল ১৪৪০

নতুন সদস্যদের বরণে প্রস্তুতি শুরু জাতীয় সংসদে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা সদস্যদের বরণে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। প্রথম অধিবেশন এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণ করে নিতে নতুন সাজে সাজছে সংসদ ভবন। চলছে ধোয়ামোছাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আগামী ৩০ জানুয়ারি অধিবেশন বসবে। ওইদিন বিকাল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে যাত্রা শুরু করবে নতুন সংসদ।  এর আগে ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া জানান,অধিবেশনকে সামনে রেখে এবং নতুন সদস্যদের বরণ করে নিতে সংসদ সচিবালয় যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রস্তুতির কোথাও কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

সূত্র জানিয়েছে, অধিবেশনের প্রথমদিন ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পরে অধিবেশনজুড়ে তার এই ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেবেন সংসদ সদস্যরা। শুরুর দিন প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচন হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আবারও একই পদে রাখার বিষয়ে রংপুরে নির্বাচনী জনসভায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ডেপুটি স্পিকার কে হবেন, সে বিষয়ে এখনও ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

এই অধিবেশনেই সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ এবং হুইপ মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, প্রথম অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গঠিত হয় সংসদীয় কমিটি। এবার সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে বাদ পড়া মন্ত্রীদের দেখা যেতে পারে। এর আগেও একবার মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া দলের সিনিয়র নেতাদের সংসদীয় কমিটির সভাপতি করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন কিছু সময় মুলতবি রাখা হবে। ওই সময় সংসদে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ নেবেন। পরে নবনির্বাচিত স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু হবে সংসদের বৈঠক।

বৈঠক শুরুর পর নতুন স্পিকার সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। একাদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্য আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ অন্যদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে শোক প্রস্তাবের আলোচনা শেষে অধিবেশন মুলতবির রেওয়াজ আছে।

তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি রাখা হবে। এরপর আবার সংসদের বৈঠক শুরু হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে।

দশম জাতীয় সংসদের মতো এবারও সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। এবারের নির্বাচনে ২২টি আসনে জয়ী হয়েছে দলটি। তবে গত সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের চেয়ারে বসবেন দলটির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্বে থাকবেন তার ছোট ভাই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

আর বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও ছিল জাতীয় পার্টি। তবে এবার জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের অন্য শরিকদের কেউই এখন পর্যন্ত সরকারে নেই।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। ভোট হওয়া ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে দলটি, জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অপরদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে মাত্র ৮টি আসন পেয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের শরিকদের নির্বাচিত সদস্যরা ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: