ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

‘নারী তিন জঙ্গী মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল!’

মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের

বুধবার আত্মসমর্পণকৃত দুই নারী জঙ্গী এবং নিহত নারীসহ তিনজনই রাজধানীর বেসরকারী মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিহত আরেক জঙ্গীর নাম আবদুল্লাহ আল বাঙ্গালি। সে নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার প্রধান ছিলো।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য দিয়েছেন। নরসিংদীর দ্বিতীয় জঙ্গি আস্তানা থেকে ৪০ ঘন্টা পর বুধবার আত্মসমর্পণ করার পর এসব তথ্য জানান তিনি।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, দুই নারী জঙ্গীর মধ্যে একজন হলি আর্টিজান মালায় গ্রেফতার এবং পরে জামিন পাওয়া। এছাড়া প্রথম আস্তানায় নিহত দুইজনের পরিচয় জানা গেছে। আত্মসমর্পণকৃত দুই জঙ্গী নারী হলো খাদিজা আক্তার মেঘনা এবং মৌ। এদের মধ্যে মেঘনাকে ২০১৭ সালে হলি আর্টিজানে হামলার পর গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। তবে পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। মঙ্গলবার শেখেরচরে যখন অপারেশন গর্ডিয়ান নটে নিহত দুইজনেরও পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন আবু আবদুল্লাহ আল বাঙালী ও আকলিমা আক্তার মনি।

এই চারজনের মধ্যে মেঘনা, মৌ এবং নিহত মনি তিনজনই রাজধানীর বেসরকারি মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া নিহত আবু আবদুল্লাহ আল বাঙালী নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার প্রধান ছিলেন বলে জানান তিনি।

নরসিংদীর মাধবদীর ছোট গদাইরচর (গাঙপার) মহল্লার সাত তলা বাড়িটির সপ্তম তলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আস্তানা রয়েছে জানিয়ে সোমবার থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ।মঙ্গলবার থেকে বাড়ির অন্য বাসিন্দাদের বের করে এনে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানানো হচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ অক্টোবর বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে আত্মসমর্পন করেন দুই নারী।এর আগে সকালে এই কর্মকর্তা বলেছিলেন, মঙ্গলবার শেখেরচরে যখন অপারেশন গর্ডিয়ান নট চালানো হচ্ছিলো তখন একইসঙ্গে এই বাড়িতে অবস্থানরত জঙ্গিদের সঙ্গে ‘নেগোসিয়েশন’ চালানো হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘সোয়াট অপারেশনে না গিয়ে যদি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমেই তাদের আত্মসমর্পনে বাধ্য করানো যায় সে চেষ্টাটি চালিয়ে যাবো। যদি সেই ক্ষেত্রে ব্যর্থ হই তাহলে তো এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আমরা রেখে দিতে পারি না সেক্ষেত্রে তো আমরা উপায়ন্তর না থাকলে তখন হয়তো আমরা অপারেশনে অর্থাৎ যে মূল অপারেশনে যাবো।’ প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই বাসায় কমপক্ষে দুইজন জঙ্গি সদস্য রয়েছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এরা আগের জঙ্গি মামলার আসামি বলেও জানা গেছে।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রাখেন। মাধবদী ও শেখেরচরের বাড়িদুটি একই সঙ্গে ঘেরাও করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সদস্যরা। এর মধ্যে শেখেরচরের পাঁচতলা বাড়িটিতে মঙ্গলবার দিনভর চলে অভিযান। অভিযানে নিহত হন এক নারী ও এক পুরুষ।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সিটিটিসি প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেশন ‘গর্ডিয়ান নট’ সমাপ্ত ঘোষণা করেন।


%d bloggers like this: