ঢাকা, বুধবার , ১৭ জুলাই ২০১৯, | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৩ জিলক্বদ ১৪৪০

নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে ব্যাংক লেনদেন, নজরদারি জরুরি

একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে লেনদেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন এলে প্রার্থীদের খরচ বাড়ে, তাই ব্যাংকে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়বে -এটাই স্বাভাবিক। তবে ব্যাংকিং খাত যাতে কোনোভাবেই সন্ত্রাসে অর্থায়নের কাজে ব্যবহৃত না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

এছাড়া ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকগুলো তাদের হিসাব ক্লোজিং করবে। তাই চূড়ান্ত হিসাব ভালো করতে সব ব্যাংকই ঋণ আদায়ের ওপর জোর দেবে। এ কারণেও লেনদেন বাড়বে।

এদিকে সহজে দ্রুত সময়ে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন সুবিধা দিচ্ছে রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস)। গত কয়েক মাস ধরে আরটিজিএসের লেনদেন ধারাবাহিক বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের নভেম্বর শেষে তাৎক্ষণিক এ লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় পরিশোধ হয়েছে এক লাখ ৮ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। যা তার আগের মাসের (অক্টোবর) তুলনায় ২২ হাজার ৬৬০কোটি টাকা বেশি। অক্টোবরে আরটিজিএসে পরিশোধ হয়েছিল ৮৬ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। আর সেপ্টেম্বরে লেনদেন ছিল ৬২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন আসলে প্রার্থীদের খরচ বাড়ে, এ জন্য ব্যাংকের লেনদেন বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকগুলোর লেনদেন সব সময় বেশি থাকে। এর মূল কারণ এ মাসে ব্যাংকের হিসাব ক্লোজিং করতে হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ (এনপিএল) প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। এটি যে কোনো মূল্যে ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে সব ব্যাংকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আলোকে ঋণ আদায় বা পুনঃতফসিল করলে ব্যাংকের লেনদেন বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে শাখাগুলোকে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ আদায়ে একটি টার্গেট দেয়া হয়। সব মিলিয়ে ব্যাংকের বার্ষিক চূড়ান্ত হিসাব ভালো করতে ঋণ আদায় বাড়লে লেনদেনও বাড়বে। তবে নির্বাচনের সুযোগে অবৈধ ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থ লেনদেন যেন না হয় সে বিষয়ে ব্যাংকারদের সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে নগদ অর্থ উত্তোলন বেড়ে যাবে, এ জন্য আগে থেকেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশে দিয়েছে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। ব্যাংকের শাখা ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে এ নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

ব্যাংকগুলোর কাছে বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক যাতে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী অর্থায়নের কাজে ব্যবহৃত না হয় বা কোনো সন্ত্রাসী যেন ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক নজর দিতে হবে। নিয়ম মেনে হিসাব খোলা ছাড়া কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। সংবেদনশীল এলাকার ব্যাংক শাখার লেনদেনে বিশেষ তদারকি করতে হবে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সন্ত্রাসী কাজে যুক্ত কোনো ব্যক্তির লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে তা বিএফআইইউকে জানাতে হবে। এ ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো লেনদেন হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: