ঢাকা, সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মুহাররম ১৪৪০

‘পতনের দিনে’ কাতালোনিয়ায় লাখো জনতার সমাবেশ

কাতালোনিয়ার ‘জাতীয় দিবস’ উদযাপন ও স্বাধীনতার পক্ষে অব্যাহত সমর্থন তুলে ধরতে প্রায় ১০ লাখ লোক বার্সেলোনার সড়কগুলোতে জমায়েত হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) ছিল দিয়াদা ছুটির দিন; ১৭১৪ সালে এই দিনটিতে রাজা ফিলিপের সৈন্যদের হাতে বার্সেলোনার পতন হয়েছিল। এই দিবসটি স্মরণেই এদিন বার্সেলোনার সড়কে জমায়েত হয়েছিল কাতালানরা। িগত আট বছর ধরে এই দিনটিকে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে সমাবেশ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত অক্টোবরে স্পেন ভেঙে কাতালুনিয়ার স্বাধীন দেশ হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টার পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক এই সমাবেশটি হল।

সমাবেশে লাল-হলুদ কাতালান পতাকা হাতে লাল শার্ট পরা লাখ লাখ প্রতিবাদকারী ড্রাম পিটিয়ে, হুইসেই বাজিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগান দেয়। গত বছরও এই দিবসটিতে প্রায় একই সংখ্যক লোক বার্সেলোনার রাস্তায় জমায়েত হয়েছিল।

কাতালান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট কিম তোরা ও তার পূর্বসুরি কার্লেস পুজদেমন, ‍যিনি স্বাধীনতার ব্যর্থ চেষ্টার পর পালিয়ে বেলজিয়ামে গিয়ে নির্বাসনে আছেন, বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য লোকজনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সমাবেশ শেষে তোরা বলেছেন, “আমরা অন্তবিহীন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।

সমাবেশে যোগ দেওয়া প্রতিবাদকারীরা মানব টাওয়ার গড়ে তোলে এবং আটক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের মুক্তি দাবি করে। গত বছর স্বাধীনতা ঘোষণার পর এসব কাতালান নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গত বছরের ১ অক্টোবর স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি গণভোট আয়োজন করেছিল কাতালুনিয়া। এরপর ২৭ অক্টোবর একতরফাভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল।

কিন্তু স্পেনের সাংবিধানিক আদালত ওই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে রায় দেওয়ার পর মাদ্রিদ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির ওপর কেন্দ্রীয় শাসন জারি করে।

সমাবেশে যোগ দেওয়া এক বৃদ্ধা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি প্রতিবছরই বিক্ষোভ দেখাবো, তবে যত দিন পারি। আমি (আমার সন্তানদের ও নাতিনাতনীদের জন্য) লড়াই করবো।”

গণভোট ও স্বাধীনতা ঘোষণার বার্ষিকীগুলোতেও আরও প্রতিবাদ প্রদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জুলাইতে করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৬ দশমিক সাত শতাংশ কাতালান স্বাধীনতার পক্ষে এবং ৪৪ দশমিক নয় শতাংশের অবস্থান এর বিপক্ষে।

আজ ২৪ ডেস্ক


%d bloggers like this: