ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৪ পৌষ ১৪২৫ | ১০ রবিউস-সানি ১৪৪০

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আল্টিমেটাম, সকল টার্মিনালে অবাঞ্চিত ইলিয়াস কাঞ্চন

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবি মেনে নিতে সরকারকে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। নতুবা ১৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। এদিকে নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান চলচ্চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেশের সকল টার্মিনালে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে পরিষদ।

রোববার রাজধানীর ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা এ ঘোষণা দেন। সমাবেশেয় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু।

এ সসয় সড়ক দূর্ঘটনায় ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রীর নিহত হওয়ার ঘটনায় তার নিজেদের গাড়ির চালক দায়ী দাবি করে দেশের সব টার্মিনালে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন পরিবহন শ্রমিক-মালিক নেতারা। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ ও আইন সচিবের তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রসঙ্গত, চলচ্চিত্রে ব্যস্ততম তারকা থাকাকালীন সময়ে ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পর অভিনয় থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামের একটি সংগঠন। এ সংগঠনের ব্যানারে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে আসছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে সারাদেশের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভে একাত্ম ঘোষণা করে রাজপথে তাদের পাশে ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
এরপর থেকেই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ। সেই ধারাবাহিকতায় টার্মিনালগুলোতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ খ্যাত এই নায়ককে।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে সড়কে নেমে যানবাহনের শৃঙ্খলা ঠিক করার কাজে নামায় আরো ক্ষুব্ধ হয়েছে মালিক-শ্রমিক পরিষদ। শনিবার বাংলামোটরে নামেন তিনি। আজ২৪কে অবাঞ্চিত ঘোষণা প্রসঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি আমার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি সাধারণ মানুষের ভালোবাসায়। বাকীরা কি করছে আর কি করবে এটা তাদের বিষয়।’


%d bloggers like this: