ঢাকা, শনিবার , ২০ অক্টোবর ২০১৮, | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ১০ সফর ১৪৪০

পালিত হল ‌‌’লাল মিয়া’র ৯৫তম জন্মদিন

নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বরেণ্য চিত্রশিল্পী ‘লাল মিয়া’ নামে খ্যাত এসএম সুলতান এর ৯৫তম জন্মদিন। সুলতান সংগ্রহশালা চত্বরে সকাল ৬টায় কোরআনখানি, ৭টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ৮টায় শিল্পীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, সোয়া ৮টায় শিশুস্বর্গ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী জানান, শিল্পীর জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করেছি আমরা।

তিনি কিংবদন্তি ও চারুকলার ইতিহাসে সত্যিই এক সুলতান। তার ছবির প্রধান বিষয় হল গ্রামবাংলার খেটে খাওয়া মানুষ, কিষান-কিষানি, জেলে, মাঠঘাট, কর্মচঞ্চল পথ-প্রান্তরসহ গ্রামীণ জনপদের অসংখ্য চিত্র শিল্পীর রংতুলিতে উঠে এসেছে সুনিপুণভাবে।শিল্পের চর্চা করেননি, তাঁর আধুনিকতা ছিলো জীবনের শাশ্বত বোধ ও শিকড়ের প্রতিষ্ঠা করা। তিনি ফর্মের নিরীক্ষাকে গুরুত্ব দেননি, দিয়েছেন মানুষের ভেতরের শক্তির উত্থানকে, ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ঔপনিবেশিক সংগ্রামের নানা প্রকাশকে তিনি সময়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থাপন করেছেন। এটাই তাঁর কাছে ছিলো ‘আধুনিকতা’। তিনি বলেছেন,”রিলিফের টিনে সারি সারি ঘর তুলেদিলেই গ্রাম আধুনি হয়ে যায় না।” তিনি ইউরো-কেন্দ্রিক, নগর নির্ভর যান্ত্রিকতা-আবদ্ধ আধুনিকতার পরিবর্তে খুঁজেছেন মানবের কর্মবিশ্বকে।


তার ছবির মানুষেরা কৃষ নয় স্বাস্থবান পেশীবহুল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমাদের দেশের মানুষ তো অনেক রুগ্ন, কৃষকায়। একেবারে কৃষক যে সেও খুব রোগা, তার গরু দুটো, বলদ দুটো -সেটাও রোগা…। আমার ছবিতে তাদের বলিষ্ঠ হওয়াটা আমার মনের ব্যাপার। মন থেকে ওদের যেমনভাবে আমি ভালোবাসি সেভাবেই তাদের তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের দেশের এই কৃষক সম্প্রদায়ই একসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য গড়েছিলো। দেশের অর্থবিত্ত ওরাই যোগান দেয়। আমার অতিকায় ছবিগুলোর কৃষকের অতিকায় দেহটা এই প্রশ্নই জাগায় যে, ওরা কৃশ কেন? ওরা রুগ্ন কেন- যারা আমাদের অন্ন যোগায়, ফসল ফলায়। ওদের বলিষ্ঠ হওয়া উচিৎ।”

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং অসংখ্য দুর্লভ চিত্রকর্মের অমর কারিগর এসএম সুলতানের ৯৫তম জন্মদিন আজ। মানবপ্রেমিক এ মহান শিল্পী ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট যশোর জেলার নড়াইল মহকুমার (বর্তমানে জেলা) মাছিমদিয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ মোহাম্মদ মেছের আলী। তিনি পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। মায়ের নাম মাজু বিবি। সুলতানকে পরিবারের সবাই লাল মিয়া বলে ডাকতেন। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে রাজমিস্ত্রির কাজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ছবি আঁকার প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল তার।

১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন এসএম সুলতান। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার জন্মস্থান নড়াইলের মাছিমদিয়ায় তাকে শায়িত করা হয়।

 


%d bloggers like this: