ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাই বলছেন কাজটি আইনসম্মত হয়নি

পুলিশের শীর্ষ

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাই বলছেন, গভীর রাতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে অটোরিকশা থামিয়ে তরুণীর ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার কাটি আইনসম্মত হয়নি বলেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণীটিকে ইচ্ছা করে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন পুলিশ সদস্যরা। আর তাকে নানা আপত্তিকর কথাও বলা হচ্ছে।

ভিডিওটি গভীর রাতে করা হয়েছে এবং পুলিশ সদস্যরা ওই মেয়েটিকে বারবার ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করছেন, এত রাতে তিনি কেন বের হয়েছেন, কোত্থেকে এসেছেন আর কোথায় যাবেন। পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যের ভঙ্গীও ছিল আক্রমণাত্মক ও আপত্তিকর। আর এতেই ক্ষেপেন ওই নারী।

তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মেয়েটিকে অভদ্র, বেয়াদব ইত্যাদি নানা কথা বলার পাশাপাশি একজন পুলিশ সদস্য এমনও বলেছেন, ‘মনে হয় আপনি বিশ্বসুন্দরী’, ‘আমি কি আপনার সাথে টাংকি মারছি?’।

রাজধানীতে পুলিশের একটি তল্লাশি চৌকিতে ভিডিওটি করা হয়। তবে সেটি কোথায় করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। আর ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের চেহারাও দেখা যায়নি। তবে মেয়েটির মুখে আলো ফেলে তার পুরো চেহারা দেখানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ।

মুখে আলো ফেলে ভিডিও করায় আপত্তি করে ওই তরুণী বারবার বলছিলেন, তার ব্যাগ তল্লাশি করুক, কিন্তু এই কাজ পুলিশ করতে পারে না।

ফেসবুকে ভিডিওটি প্রচার করে এটি পুলিশের দায়িত্ব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু জন। এভাবে একজন মানুষের সম্মানহানি করায় পুলিশ সদস্যদের শাস্তিও দাবি করেন তারা।

ফেসবুকের সূত্রেই জানা গেছে, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরেও এসেছে ভিডিওটি। ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইমের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘নিরপেক্ষ ও সঠিক অনুসন্ধান সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ কর্মকর্তা লেখেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, পুলিশের চেকপোস্ট এ গভীর রাতে একজন ভদ্র মহিলার সাথে কিছু পুলিশ সদস্যদের ভিডিও সহ কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে একটি পেশাদারি সেবা প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের নজরে এসেছে। এ নিয়ে অনলাইনে ঘৃণাবোধ না ছডানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।’

যোগাযোগ করা হলে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দেখছি। অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

একজন নারীর অমতে ভিডিও করে তা ফেসবুকে প্রচার করে তার সম্মানহানি কেউ করতে পারে কি না- এমন প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটাও আমরা দেখব, এটা তার দায়িত্বের ভেতরে পরে কি না। দায়িত্বের বাইরে গিয়ে তিনি কোনো কাজ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘কোনোভাবেই পুলিশ এটা করতে পারে না। আইনগতভাবেও না, নৈতিকতার দিক থেকেও এটা করতে পারে না। যে পুলিশ সদস্য এটা করেছে, তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

এই ধরনের কাজ এর আগেও করেছে পুলিশ। রাজধানীরই উত্তরায় মানসিকভাবে অসুস্থ এক নারীর ভিডিও করে ফেসবুকে তা ছাড়েন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

সেই ভিডিও:


%d bloggers like this: