ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

প্রথম ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতার কবলে বাংলাদেশ, পরাজয়ের হাতছানি

ব্যাটিং ব্যর্থতার

ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতার কবলে পড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। সকালের বোলিং সাফল্যকে ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতায় ম্লান করে দিয়ে সম্ভাব্য পরাজয়ের মুখোমুখি মাহমুদুল্লাহ বাহিনী। প্রথম ইনিংসে ১৩৯ রানে লিড নেওয়া সফরকারী জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ১ রানে। দুই ওভঅোর কোনো উইকেট হারায়নি তারা। সবমিলে ১৪০ রানে এগিয়ে আছে মাসাকাদজার দল।

সিলেটে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের জিম্বাবুয়েকে প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে আটকানো গেলেও প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংস শুরুর প্রথম ১০ ওভারেই ১৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে খেলতে নামা বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ধারা বজায় ছিলো তৃতীয় সেশনেও। জিম্বাবুয়েকে ২৮২ রানে আটকে রাখার পর খেলতে নেমে ১৯ রানে ফেরেন ৪ ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ে পেসার টেন্ডাই চাতারার বোলিংয়ে হয় শুরুর সর্বনাশ। তার আগ্রাসী বোলিংয়ে ৪৯ রানে পঞ্চম উইকেট পতন ঘটলে পুরোপুরি ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। আরেক পেসার কাইল জার্ভিসও ছিলেন তার সঙ্গী।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে চাতারার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইমরুল কায়েস (৫)। বলটি ভেতরের কোনায় লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। পরের শিকার অবশ্য আরেক ওপেনার লিটন ‍কুমার দাস (৯)। এবার কাইল জার্ভিসের বাইরের বলে লুজ শট খেলতে গিয়ে জমা পড়েন উইকেটকিপার চাকাভার হাতে। নতুন নামা নাজমুলকেও (৫) থিতু হওয়ার সুযোগ দেননি চাতারা। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারায় ব্যাটের কোনায় লেগে বল চলে যায় উইকেট কিপারের হাতে।

দ্রুত উইকেট পতনে বিপদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে নেমেছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু বিপদ দূর করার বদলে উল্টো আরও চাপে পড়ে যায় তার দ্রুত বিদায়ে। নেমে মাত্র দুই বল খেলে চাতারার বলেই বোল্ড ফিরে গেছেন শূন্য রানে! মাঝে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক মিলে ৩০ রানের জুটি গড়ে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করেন।

হাল্কা প্রতিরোধ দেওয়া এই জুটি ভাঙে মুমিনুল ১১ রানে ফিরলে। দলীয় ৪৯ রানে সিকান্দার রাজার বলে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। পুরোপুরি বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়ার বাংলাদেশের ইনিংসের দিশা খোঁজার চেষ্টায় ছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও আরিফুল হক। এই জুটিতেই নির্ভর করছিলো অনেক কিছু। তাদের জুটি ২৫ রান পার হওয়ার পর তৃতীয় সেশনের দ্বিতীয় বলে মনোযোগ হারিয়ে বসেন মুশফিক। কাইল জার্ভিসের লাফিয়ে ওঠা বলে আউট সাইড এজ হয়ে ৩১ রানে গ্লাভসবন্দী হন। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ৭৮ রান।

আরিফুল হক অপর প্রান্ত ধরে খেলতে থাকেন এরপরেও। কিন্তু জুতসই সঙ্গী মেলেনি শেষ পর্যন্ত। মুশফিক ফিরলে নতুন নামা মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গী করে পার করেন শত রান। এই জুটি আশা জাগিয়েছিলো ঠিকই। কিছু অগ্রগতির পর আবারও ঘটে সর্বনাশ। ২১ রানে ব্যাট করতে থাকা মিরাজ বোলার শন উইলিয়ামসের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরান সাজঘরে।

সকালের প্রথম সেশনে বল হাতে আলো ছড়ানো তাইজুলও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ক্রিজে। ৮ রান করে সিকান্দার রাজার বলে বিদায় নেন। নাজমুলকে আবার সিকান্দার রাজা ফেরালে বড় লিডের সম্ভাবনা জাগায় জিম্বাবুয়ে। শেষ উইকেটে ভুল বোঝাবুঝিতে আবু জায়েদ রাহী ফিরলে ১৪৩ রানে প্রথম ইনিংস শেষ হয় স্বাগতিকদের। তাতে অপরাজিত ৪১ রানে আক্ষেপ সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হয় আরিফুলকে। জিম্বাবুয়ের হয়ে ১০ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩টি করে উইকেট নেন চাতারা। ১২ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে অপর ৩টি নেন সিকান্দার রাজা। দুটি নেন কাইল জার্ভিস। একটি নেন শন উইলিয়ামস।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বল হাতে সফল ছিলো বাংলাদেশ। ২৬.৩ ওভারেই জিম্বুয়ের ৫ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। মাত্র ৪৬ রানে। এই ধ্বংসযজ্ঞের নেতৃত্ব দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। পাঁচটি উইকেটের মধ্যে চারটি উইকেটই নেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে তাইজুলের সংগ্রহ ৩৯.৩ ওভার বোলিং করে ১০৮ রানে ৬ উইকেট। বাকী উইকেট নেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। তার সংগ্রহ মোট ২ উইকেট।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর ১২ ওভার পর আসে প্রথম সাফল্য। পিজে মুর ও রেগিস চাকাভা মিলে প্রতিরোধ দিচ্ছিলেন বড় সংগ্রহ পেতে। ১০৩তম ওভারে তাইজুলের বলে ধরা দেন রেগিস চাকাভা। শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে দেন নাজমুলের হাতে। ২৮ রানে ফিরে যান সাজঘরে। দিনের শুরুতে তার ও চাকাভার জুটিটি ছিলো ৩৫ রানের।

তাইজুলের ঘূর্ণিজাদু এরপর থেকেই শুরু। নতুন নামা কোনও ব্যাটসম্যানই টিকতে পারেননি।ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকেও বেশিক্ষণ থিতু হতে দেননি তাইজুল। ২৮ বল খেলা ওয়েলিংটনকে ৪ রানেই গ্লাভসবন্দী করান। তবে অপর প্রান্ত আগলে ছিলেন পিজে মুর। দৃঢ় চেতা ব্যাটিংয়ের উদাহরণ হয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। অপরাজিত ছিলেন ৬৩ রানে। চার মেরে তাইজুলের ওভারে চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

এরপর স্পিনার নাজমুল ইসলামের আঘাতে ব্রেন্ডন মাভুতা। ৩ রান করা মাভুতাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাজমুল। দিনের শুরুটায় ঘূর্ণিজাদুতে শুরু করা তাইজুল লেজ ছেঁটে দেন পর পর দুই উইকেট নিয়ে। কাইল জার্ভিসকে প্রথম স্লিপে তালুবন্দী করিয়ে পরের বলে সাজঘরে ফেরান চাতারাকে।

তাইজুল ১০৮ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। দুটি নিয়েছেন নাজমুল, একটি করে মাহমুদউল্লাহ ও আবু জায়েদ।


%d bloggers like this: