ঢাকা, মঙ্গলবার , ২৩ জুলাই ২০১৯, | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৯ জিলক্বদ ১৪৪০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মাসেতুর নামফলক উন্মোচন করলেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় পদ্মাসেতুর চলমান কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন । রবিবার সকাল সোয়া ১১ টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে নামফলক উন্মোচন করেন।

মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনসহ পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় ঢাকার সঙ্গে যশোরের রেল সংযোগসহ চারটি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প উদ্বোধন শেষে মাওয়া গোল চত্বরে এক সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।

দুপুরে প্রধানমন্ত্রী জাজিরা পয়েন্টে সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে শেখ হাসিনা শিবচরে যাবেন এবং ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কাঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন।
পদ্মা সেতুর চলমান কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি, এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শন ও নদী শাসন প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন তিনি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, সেনাপ্রধান আব্দুল আজিজ, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগ জেলা সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। ঢাকা হতে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, যশোর, খুলনা ও দর্শনার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত রুটে উন্নততর রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।

এ রুটে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ব্রডগেজ মালবাহী ও কন্টেইনার ট্রেন চলবে। এটি বাংলাদেশের মধ্যে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আরেকটি উপ-রুট হবে। ভবিষ্যতে এ রুটে দ্বিতীয় লাইন নির্মাণ এবং বরিশাল ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরকে এই রুটের সঙ্গে সংযুক্তকরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জিটুজি পদ্ধতিতে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লি. নামক চীন সরকার মনোনীত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের কাজ করছে। চীনা এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২৩ কিলোমিটার এলিভেটেড ভায়াডাক্টে ব্যালাস্টবিহীন রেললাইন নির্মাণ প্রবর্তন করা হচ্ছে, যা একটি নতুন প্রযুক্তি। এলিভেটেড ভায়াডাক্টের ওপর ২টি প্ল্যাটফর্ম, ১টি মেইনলাইন ও ২টি লুপ লাইনসহ রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ ও তাতে লিফট স্থাপন করা হবে।

প্রায় ১১ মিটার উঁচু রেললাইনের নিচ দিয়ে সড়কের জন্য আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে উভয় পথে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ ট্রেন এবং গাড়ি চলাচল নিশ্চিত করা হবে।


%d bloggers like this: