ঢাকা, রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮, | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ৯ রবিউল-আউয়াল ১৪৪০

ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা : শেষ আশাটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে!

ফিলিস্তিনের বহু তরুণের মতো আবেদ জুহায়েরও মনে করেন, অসলো চুক্তির কারণেই নিজেদের ভূমির ওপর থেকে তাদের অধিকার রুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অসলো চুক্তি ছিল ভুল।

১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে বসে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন এ চুক্তি সই করেন।

এ দুই নেতা তখন হোয়াইট হাউসের লনে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক হাত মেলান। পরে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও দেয়া হয়েছিল।

সেই চুক্তির ২৫ বছর পার হচ্ছে বৃহস্পতিবার(১৩ সেপ্টেম্বর)। জুহায়ের বলেন, নিজের সীমান্ত বরাবর ইসরাইল কখনই একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেবে না। ইহুদি রাষ্ট্রটি আমাদের সব ভূমি দখল করতে চায়। অধিকৃত পশ্চিমতীরের অধিকাংশ ভূমি তারা আত্মীভূত করে নেবে।

এতে দুই রাষ্ট্রের সমাধানের শেষ আশাটুকুও নেই হয়ে গেছে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ সুদূর পরাহত ছাড়া আর কিছু নয়। ১৯৯৩ সালের পর পশ্চিমতীরের ভূমিতে ইসরাইলি বসতি নিয়মিত সম্প্রসারিত হতে দেখেছেন ফিলিস্তিনিরা। এর মধ্যে ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দুপক্ষই দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি জাগরণ বা ইন্তিফাদা দেখেছে।

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। গত এক দশক ধরে গাজা অবরোধ করে রেখেছে ইসরাইল। এতে সেখানে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের প্রথম বিমানবন্দরের উদ্বোধনও তাদের মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগিয়েছিল।

কিন্তু ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার স্বপ্নের মতো সিটিও আজ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২৮ বছর বয়সী জিহাদ মানাসরা বলেন, ইসরাইলিরা প্রতিনিয়ত অসলো চুক্তি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। এ কারণেই চুক্তিটি ব্যর্থ হয়ে গেছে।

জুহায়ের বলেন, আমরা যদি থেমে যাই ও আলোচনা অব্যাহত রাখি, তবে দখলদারিত্বও চলতে থাকবে। অস্ত্র হাতে না নেয়া পর্যন্ত আমরা কিছুই পাব না।

মাজিদ নামে আরেক ফিলিস্তিনি যুবক বলেন, কোনো দিন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, এমন আশা তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, আমার কাছে একটিই বিকল্প আছে, তা হল- শিক্ষিত হওয়া। আর প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জানিয়ে দেয়া যে এখানে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ছিল।

আজ ২৪ ডেস্ক


%d bloggers like this: