ঢাকা, সোমবার , ১৭ জুন ২০১৯, | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ | ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

বছরের শুরুতেই বাড়ল চালের দাম

নতুন বছরের শুরুতেই চালের দাম কেজিতে অন্তত দুই টাকা করে বেড়েছে। আর সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ টাকা করে। পাইকারিতে চালের দামবৃদ্ধির এই প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

চালের এই দাম বৃদ্ধিকে কৃষকের জন্য ইতিবাচক বলছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্যমতে, আমনের মওসুমের শেষ দিকে এসে সব ধরনের ধানের দাম মণ প্রতি ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।

এদিকে, ঢাকার কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজির আধিক্য থাকা সত্ত্বেও দাম কমার যে আশ্বাস ছিল ব্যবসায়ীদের মধ্যে তার আংশিক প্রতিফলন দেখা গেছে। আর সব মাছের না হলেও বেশিরভাগ মাছের দাম বেড়েছে। কিন্তু স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের বাজার। চালের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী।

শনিবার (০৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর- ১০, ১, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বউবাজার এলাকা ঘুরে জানা গেলো এ তথ্য।

আগারগাঁও এলাকার সবজি বিক্রেতা সবুজ জানান, বাজারে শীতকালিন সবজির চালান বেড়েছে বলে কোনো কোনোটির দাম কমেছে। এর সঙ্গে অন্য সবজিরও দাম কমার কথা। কিন্তু পাইকারি বিক্রেতারা দাম কমাচ্ছে না। তবে এই মাসে দাম আরো কমবে বলে আশা করেন এ বিক্রেতা।

এ বাজারে প্রতিকেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, যা এর আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আবার কাঁচা টমেটোর দাম ১০ টাকা কেজিতে বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শিম আকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শসা। কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়ে কাঁচা মরিচ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি গাজর ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও আগের সপ্তাহে তা ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আকারভেদে বেগুন কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

দাম স্থিতিশীল রয়েছে যেসব সবজিতে সেগুলো হলো- ঢেঁড়স ৬০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, কচুরলতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি করতে দেখা গেছে। তাছাড়া বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ পাতা। যা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় গত সপ্তাহেও বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, কাঁচাকলা হালি ২০ টাকা এবং জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি কলমি শাক, লাল শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাউ শাক ২০ থেকে ২৫ টাকায়, পালং শাক, পুঁই শাক ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

তবে এলাকাভেদে দামের তারতম্য ছিল লক্ষ্য করার মতো। খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্রেতা বুঝে দাম বাড়াচ্ছেন আবার কোথাও কমাচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। মিরপুর-১ নম্বর পাইকারি বাজার ও এর আশেপাশে সবজির দাম উপরে উল্লেখিত দামের চেয়ে ৫ টাকা পর্যন্ত কমে পাওয়া গেলেও মিরপুর-১০, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকায় দামের আধিক্য দেখা গেছে। কোথাও কোথাও উল্লেখিত দামের চেয়ে ৫ টাকা বেশিতেও কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তবে আগারগাঁও, বউবাজার এলাকায় উল্লেখিত দাম জানা গেছে।

মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় বাজার করতে আসা রিফাত বাংলানিউজকে জানান, সবজির দাম অল্প করে হলেও কমতে শুরু করেছে। কয়েকটা বেড়েছেও, আরো কমবে বলে ব্যবসায়ীরা বলছেন। তবে দাম বেড়েছেও কিছু কিছু সবজির। দাম কমানোর ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ আশা করেন এ ক্রেতা।

এদিকে গত দুই সপ্তাহ আগে চালের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা করে বেড়েছে। এ সপ্তাহে আবারও ২ থেকে ৫ টাকা হারে কেজিতে বেড়েছে চালের দাম। বাজারে প্রতিকেজি সিরাজ মিনিকেট ও মিনিকেট ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে ছিল ৫৭ থেকে ৫৫ টাকা। স্বর্ণ ৪২ টাকা, যা ছিল ৩৮ টাকা কেজি। মোটা চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, আমিন-২৮-এর দাম না বেড়ে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিকেজি মসুর ডালের (দেশি) দাম ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায়, মসুর ডাল মোটা ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, মুগ ডাল ১২০ টাকায়, ভোজ্যতেল প্রতি লিটার খোলা ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় ও বোতলজাত ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের এই বাড়তি দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে আগারগাঁও এলাকার খুচরা চাল ব্যবসায়ী মবিনুল জানান, চালের দাম পাইকারি বিক্রেতারা বাড়ায় না। এটা বাড়ে আড়তদারদের কাছ থেকে। এই মৌসুমের চাল শেষ হয়ে নতুন চাল আসবে হয়তো সে কারণেই দাম বাড়িয়েছে।

তবে দাম বাড়ার সঠিক কোন কারণ চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তারা জানিয়েছে পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি চাল ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে।

আবার দাম কমেছে বাজারে আসা মৌসুমের নতুন আলু। যা কেজি প্রতি ২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ছিল ৪০। মৌসুমের শুরুতে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে নতুন আলু। তাছাড়া দাম কমেছে আদার। প্রতিকেজি আদা ১৪০ টাকায় গত সপ্তাহে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৮০ টাকা, রসুন (ভারতীয়) প্রতিকেজি ৮০ টাকায় ও দেশি রসুন ৫০ টাকা, পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে কমে দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকা, ২৫ টাকায় ভারতীয় পেঁয়াজ এবং লাল আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে বাজারে প্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিজোড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছু কিছু মাছের আবার দাম বেড়েছে। বাজারে মাছের আকারভেদে প্রতি কেজি ট্যাংরা গত সপ্তাহে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা থাকলেও এ সপ্তাহে ৪৫০ থেকে ৫০০, শিং ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। চিংড়ি গলদা ৬০০ টাকা, চাষের হরিণা ও বাগদা চিংড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, যা সপ্তাহ খানেক আগে ১০০ টাকা পর্যন্ত কম ছিল। পাঙ্গাস ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চাষের কৈ ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, দেশি বা বিলের কৈ আবার ৫০ টাকা বেড়ে ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, কাচকি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মলা ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, নলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছেও ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

তাছাড়া স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বরফ দেওয়া রুই ২৫০, তাজা রুই ৩০০ থেকে ৩৫০, কাতল ৩০০ থেকে ৩৫০ ও বরফ কাতল ২৫০ টাকা, বাইন মাছ ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার নিয়ে ক্ষুব্ধ রয়েছেন ক্রেতারা। বউবাজার এলাকায় জুম্মা নামের এক মাছ ক্রেতা জানান, মাছের দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখছি না। বিলের মাছ সব ধরা পড়ছে। কারণ শীলকালে পানি কমে, মাছ বেশি ধরা পড়ে। দাম বাড়তে পারে বসন্ত কালে। কিন্তু বাজারে এখনই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আবার আমরা এদের কাছে ধরা। আমাদের আসলে কিছু করারও নেই। দাম বড়লেও কিনতে হচ্ছে।

তবে মাংসের বাজারে বাড়তি দামের চিত্র লক্ষ্য করা গেলো না। কোথাও কোথাও উল্লেখিত দামের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা কম দামেও বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, লেয়ার ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়, খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: