ঢাকা, বুধবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৮, | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ৮ সফর ১৪৪০

বলিউডের ওয়ান হিট ওয়ান্ডার্স

কালারস ডেস্ক ● তারা এসেছিলেন, অসম্ভব বিশালতার সঙ্গেই এসেছিলেন। আওয়াজ হয়েছিলো, এখন সুনসান। বেশ লম্বা সময় তারা বলিউডকে মগ্ন করে রেখেছিলেন এক ছবি দিয়ে। সেই ছবি ব্যবসায়িকভাবে সুপারহিটও বটে। তারপর…, তারপর হারিয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে রঙিন পর্দায় হাজির হন, কিন্তু কেমন অচেনা এবং অজানাই ঠেকে তাদের। বলিউডের এমন কয়েকজন ‘হিট’ নায়ক-নায়িকার কথা হচ্ছে। প্রথম ছবিতে বক্স অফিস কাঁপিয়ে তারপর দুয়েকটা ফ্লপ দেওয়ার পর যাঁরা হারিয়ে গেছেন দর্শকের স্মৃতি থেকে, কেউ কেউ ছিলেন আরো দু-এক ছবিতে, কেউ কেউ এখনো আছেন শীতলভাবে। নীচে সেরকমই শুরুতে চমক জাগিয়ে পরে নিভে যাওয়া ১০ জন ‘ওয়ান হিট ওয়ান্ডার’-এর কথা।

দিয়া মির্জা

২০০১-এ গৌতম মেননের ‘রেহনা হে তেরে দিল মে ছবির নস্টালজিক সমীকরণে নিজকে বেশ মানিয়ে নিয়েছিলেন দিয়া মির্জা। জার্মান বাবা ও বাঙালি মায়ের ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক’ দিয়ার চলচ্চিত্রযাত্রা ছিলো মধুর এবং মধুরতম। আরএইচটিডিএম-এর গানের ভেতর দিয়ে বলিউড দর্শকদের কল্পনার রাজ্য দখলে রেখেছেন আজো। তবে প্রথম ছবির পর থেকে এখনো বলিউডে টিকে আছেন তেলেঙ্গানার এই সুন্দরী। তবে প্রথম ছবির মতো আর তিনি জেগে উঠতে পারেননি, জাগাতেও পারেননি দর্শকমহলকে। কর্নাটক মিউজিকের লিজেন্ডারি সিঙ্গার বোম্বে জয়শ্রীর গাওয়া ‘যারা যারা বেহেকতা হে, মেহেকতা হে’ গানটি আজও দিয়াকে টেনে আনে কল্পনায়।

দিয়া মির্জা্

রাহুল রয়

‘আশিকি’ সিনেমার কথা কেই বা ভুলতে পারে? সুরের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করা সেই সিনেমায় নজর কেড়েছিল রাহুল রয়ের অভিনয়। সাথে ছিলো তার চুলের স্টাইল- সেই সময়টায় বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে সবচে জনপ্রিয় হেয়ারস্টাইল ছিলো ‘রাহুল কাট’। পনেরো বছর আগের সেই সিনেমার আবেদন এখনও দর্শকমনে সমান প্রাসঙ্গিক। কিন্তু হারিয়ে গেছেন ছবির নায়ক রাহুল রয়। ‘আশিকি’ ছবির পরে আর একটিও উল্লেখযোগ্য কাজ নেই রাহুলের।

রাহুল রয়

আমিশা প্যাটেল

‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবিতে আবির্ভাব হয়েছিল আমিশা প্যাটেল-হৃত্বিক রোশন জুটির। হৃত্বিক বলিউডে নিজের জায়গা করে নিলেও আমিশা প্যাটেল বলিউডকে আর একটাও হিট দিতে পারেননি। ‘গাদার- এক প্রেমকথা’ সিনেমা হিট হলেও সেখানে সানি দেওলকে ছাপিয়ে আমিশার উপস্থিতি সেভাবে চোখে পড়েনি।  আর তারপরে আমিশা প্যাটেল শুধু ‘কাহো না…’-র স্মৃতি হয়েই রয়ে গেলেন দর্শকের মনে।

আমিশা প্যাটেল

কুমার গৌরব

কুমার গৌরবকে মনে পড়ে? ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লাভ স্টোরি’ ছবির সেই মিষ্টি নায়ক অনেক কিশোরী-তরুণীর ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন। রাহুল দেববর্মনের সুরে ‘তেরি ইয়াদ আরাহি হ্যায় সুপারহিট হয়েছিল গৌরবের লিপে। কিন্তু প্রথম ফিল্মে আশা জাগিয়ে তারপর সঞ্জয় দত্তর সঙ্গে ‘নাম’ বা সঞ্জয় গুপ্তার পরিচালনায় ‘কাঁটে’ ছবিতে অভিনয় করলেও দর্শকদের নজর কাড়তে ব্যর্থ হন গৌরব। শেষে বলিউডের তারকাদের ভিড়ে গৌরবের নাম হারিয়ে যায়।

কুমার গৌরব

প্রিয়া গিল

তেরে মেরে সাপ্নে দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হলেও আকাশচুম্বী সাফল্য ধরা দেয় তৃতীয় ছবি সার্ফ তুম-এ। প্রথম প্রেমের সম্ভবত সেরা গান পেহলি পেহলি বার… গানটির কারণেই সম্ভবত প্রিয়া গিলকে বলিউড দুনিয়া গ্রহণ করে নেয় খুব সহজেই। কেবল গান নয়, পুরো ছবিতেই তিনি কোমল সহজিয়া অভিনয় দিয়ে মুগ্ধ করে রাখেন দর্শকদের। তবে এক ছবির হিট দিয়ে যে বলিউডে শক্ত অবস্থান গড়া অসম্ভব, প্রিয়াও এমনটি প্রমাণ করলেন শেষে। ডজনখানেক ছবি করার পর সাড়া না মেলায় ২০০৬-এ চলচ্চিত্রকে বিদায় জানান মিষ্টিমধুর এ প্রিয়া গিল।

প্রিয়া গিল

গ্রেসি সিং

‘লগন’ ছবিতে আমির খানের বিপরীতে গ্রেসির নরম সৌন্দর্যের আবেদনে মুগ্ধ হয়েছিল তামাম দুনিয়া। অস্কার মনোনীত এই ছবির পরে ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ছবিতে সঞ্জয় দত্ত-আরশাদ ওয়ারসির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছিলেন গ্রেসি। কিন্তু ওখানেই শেষ- তারপরে গ্রেসির কেরিয়ারে আর একটিও উল্লেখযোগ্য ছবি নেই।

গ্রেসি সিং

বিবেক মুশরান

সুভাষ ঘাইয়ের ‘সওদাগর’ ছবিতে নবাগত বিবেকের আবির্ভাব আশা জাগিয়েছিল। সুদর্শন এই নায়ক শুধু দর্শকদেরই মন মাতাননি, বক্স অফিসেও ‘সওদাগর’কে সুপারহিট করে তুলেছিলেন। কিন্তু অভিনয়ক্ষমতা ছাড়াও নানাধরনের চরিত্রে অভিনয়ের ঝুঁকি নিতে চাওয়ার অভাব বিবেককে সুপারস্টার হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে দেয়। শোনা যায়, যশ চোপড়ার ‘ডার’ ছবিতে তাঁকে শাহরুখের চরিত্রটি অফার করা হয়েছিল, কিন্তু বিবেক তা ফিরিয়ে দেন। সম্ভবত বিবেকের জীবনে ওটাই ‘ঐতিহাসিক ভুল’।

বিবেক মুশরান

ভাগ্যশ্রী

ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবিতে নায়ক সালমান খানের সঙ্গে সঙ্গে নায়িকা ভাগ্যশ্রীও আকাশছোঁয়া সাফল্য পেয়েছিলেন। প্রথম ছবিতেই সাড়া জাগানো এই নায়িকা অনায়াসেই থাকতে পারতেন বলিউডের প্রথমসারির নায়িকাদের তালিকায়। কিন্তু অসাধারণ প্রতিশ্রুতিবান অভিনেত্রী হয়েও ভাগ্যশ্রী কেরিয়ারের বদলে বিয়ে করে সংসার করায় মন দিলেন, এবং শর্ত দিলেন একমাত্র নিজের স্বামীর বিপরীতেই অভিনয় করবেন। কাজেই পরপর তিনটি ফ্লপ সিনেমা উপহার দিয়ে ভাগ্যশ্রী বিদায় নিলেন বলিউডের ভাগ্যাকাশ থেকে।

ভাগ্যশ্রী

ভূমিকা চাওলা

‘তেরে নাম’ ছিল সালমানের ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা। নবাগতা নায়িকা হিসাবে ভূমিকা চাওলা নজর কেড়েছিলেন প্রথম ছবিতেই। মিষ্টি চেহারার সুন্দরী এই অভিনেত্রী এরপরে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করলেও দর্শকমহলে সেভাবে সাড়া জাগাতে পারেনি কোনোটাই।

bhumika chawla

সোনাল চৌহান

ইমরান হাশমির বিপরীতে ‘জান্নাত’ ছবিতে আলাদা করে সোনালকে দর্শকের ভালো লাগলেও পরে বলিউড মনে রাখেনি তাঁকে। সোনালও দু-একটি ফ্লপ ছবি উপহার দিয়ে শেষঅবধি বলিউডের নায়িকাদের ভিড়ে হারিয়ে গেছেন।

সোনাল চৌহান

আজ/এইচকে/১০৩


%d bloggers like this: