ঢাকা, সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ৯ রবিউস-সানি ১৪৪০

নিরাপদ ফসল উৎপাদনে সরকারের ১৭২ কোটি টাকার প্রকল্প

পরিবেশবান্ধব সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষকদের সক্ষম করে তোলা যাবে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও টেকসই উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যেরও উন্নতি সম্ভব বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

দেশের ৬১ জেলার ৩১৭টি উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন’। ১৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকার প্রকল্পটি এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের নতুন নতুন পোকামাকড় ও রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এগুলো দমনে জমিতে যথেচ্ছভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বালাইনাশক রাসায়নিক। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখি, অনুজীব ইত্যাদি বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, উপকারী পোকামাকড়ের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে এসব রাসায়নিকের ব্যবহারে। আবার অনেক অপ্রধান ক্ষতিকর পোকা প্রধান ক্ষতিকর পোকায় পরিণত হওয়ায় তাদের কীটনাশকের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ও উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

মন্ত্রণালয় আরও বলছে, কৃষি ক্ষেত্রে বালাই ব্যবস্থাপনায় কেবল বালাইনাশকের ওপর নির্ভরশীলতা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি তা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। কৃষকরা ফল ও সবজির ফলনে এক মৌসুমেই ঘন ঘন অনিয়ন্ত্রিত উপায়ে বালাইনাশক ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে দেশে খাদ্য সংরক্ষণ, ফল পাকানো ইত্যাদি কাজেও ফরমালিন, কার্বাইড, ইথিলিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর প্রবণতা অনেক বেড়েছে।

এসব কারণেই পরিবেশবান্ধব উপায়ে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কম খরচে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে ‘পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন’ প্রকল্পটি। এতে পরিবেশের সুরক্ষা ও কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে। একইসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদিত হলে তা পুষ্টির চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৩৫ হাজার ৫৬০টি জৈব কৃষি ও জৈবিক বালাই দমন ব্যবস্থাপনা প্রদর্শনী স্থাপন; ২০টি আইপিএম মডেল ইউনিয়ন স্থাপন; ৩১৭টি স্কুলে আইপিএম (পাইলট কার্যক্রম) পরিচালনা; ধান, ভুট্টা, সবজি, ফল বিষয়ক ৮ হাজার ৩৯১টি কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালনা; ৪০০ জনের বিভাগীয় প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ; ৯৯০ জন কৃষকের প্রশিক্ষণ এবং ১ হাজার ৫৮৫টি আইপিএম ক্লাবকে সহায়তা দেওয়া।

আজ ২৪ প্রতিবেদক, ঢাকা


%d bloggers like this: