ঢাকা, শনিবার , ২০ অক্টোবর ২০১৮, | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ১০ সফর ১৪৪০

বাসচাপায় জিয়নের মৃত্যুতে দিনভর উত্তাল রংপুর

স্কুল ছুটির পর বাইসাইকেল নিয়ে ছাত্রবাসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল দশম শ্রেণির ছাত্র মো. জিয়ন। কিন্তু ফেরা হয়নি তার। দ্রুতগামী একটি মিনিবাসের চাপায় পথেই প্রাণ হারিয়েছে সে। আর তার মৃত্যুতে দিনভর উত্তাল ছিল রংপুর শহর।

রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রংপুর নগরীর দর্শনা এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. জিয়ন বদরগঞ্জ উপজেলার নাগের হাটের মো. জাহেদুল ইসলামের ছেলে ও রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। সে দর্শনা এলাকার মেঘলা ছাত্রবাসে থেকে লেখাপড়া করতো।

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ২ টি বাস ও একটি এ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর করে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল ছুঁড়ে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে স্কুল থেকে সাইকেলযোগে ছাত্রাবাসে ফিরছিল জিয়ন। এ সময় রংপুর থেকে গাইবান্ধাগামী একটি মিনিবাস পেছন থেকে তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় ২টি বাস ও একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করে তরা। অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য নিয়ে গেলে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মোক্তারুল ইসলামসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক মিনিবাসটি আটকে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ওই এলাকায় যেন আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।


%d bloggers like this: